বাংলাদেশ, রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১২ বছর বয়সে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ হলেন মোঃ লাবিন মুরসালিন

নিজস্ব প্রতিনিধি

১২ বছর বয়সে পুরো কোরআন মুখস্থ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন শ্যামনগরের মো: লাবিব মুরসালিন।
পবিত্র কোরআন সৃষ্টি জগতের নানা রহস্য, উচ্চতর জ্ঞান-প্রজ্ঞা, নৈতিক ও জীবন গড়ার শিক্ষাসহ অশেষ জ্ঞান এবং তথ্যের উৎসে ভরপুর।
চিরমধুর, চিরনবীন ও বিশ্বজনীন গ্রন্থ কোরআনে কারিমের উপযোগীতা সব যুগে এবং সব স্থানে কার্যকর।
পবিত্র কোরআনের অসংখ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর অন্যতম হলো- কোনো কোনো বক্তব্য ও ঘটনার পুণরাবৃত্তি। এসব পুনরাবৃত্তি মোটেই একঘেয়ে নয়, বরং সৃষ্টিশীল ও নতুনত্বে ভরপুর হওয়ায় অত্যন্ত মনোজ্ঞ ও আকর্ষণীয়। কোনো কিছুর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য আধুনিক যোগাযোগ বিদ্যায়ও সৃষ্টিশীল পুনরাবৃত্তিকে খুবই কার্যকর পন্থা বলে ধরা হয়। এ ছাড়াও পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের মতে, পুনরুল্লোখিত আয়াতগুলো পরস্পরকে ব্যাখ্যা করে এবং অনেক অস্পষ্টতা দূর করে।
কোরআনে কারিমের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো- এর মুখস্থকরণ। কোরআন মুখস্থ যারা করেন, তাদের কোরআনের হাফেজ বা হাফেজে কোরআন বলা হয়। কোরআন শুধু সর্বাধিক পঠিতই নয়, বরং মুখস্থকরণের দিক থেকেও কোরআন রয়েছে শীর্ষে। কোরআন যত মানুষ মুখস্থ করেছে, পৃথিবীর আর কোনো গ্রন্থ সে পরিমাণ মানুষ মুখস্থ করেনি। এমনকি ধারে-কাছেও নেই অন্যান্য গ্রন্থের মুখস্থকারীর সংখ্যা। পৃথিবীতে প্রায় ১ কোটি হাফেজে কোরআন রয়েছেন। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও কোরআন মুখস্থ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।
কোরআনে কারিম মুখস্থ করার ক্ষেত্রে আরেকটি অবাক করার মতো বিষয় হলো- মুখস্থ করার সময় ও বয়স। কোরআন মুখস্থ করার ক্ষেত্রে ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষীরা রয়েছেন। নারী-পুরুষ সবাই আছেন এই মিছিলে।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের এক কিশোর মাত্র  ১২ বছর বয়সে পুরো কোরআন মুখস্থ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তার নাম মো: লাবিব মুরসালিন। সে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায়, শ্যামনগর বাজার এ অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ-হযরত আবু বাক্কর সিদ্দিক (রায়িঃ) হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার ছাত্র।
লাবিব মাত্র ১২ বছর বয়সে পুরো কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। কোরআন মুখস্থ করার আগে সে মাত্র ২ বছর সময় নিয়ে কোরআনের দেখে দেখে, সহিহ-শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা শেখে।
১২ বছর বয়সী এই হাফেজে কোরআনের শিক্ষকের নাম হাফেজ মো: আবু বক্কর সিদ্দিক।
হাফেজ মো: আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, লাবিব মুরসালিন পড়া শেষ করে শুরুর দিকে ২ পৃষ্ঠা করে কোরআন মুখস্থ করতে থাকে। পরে সে ৩/৪ পৃষ্ঠা করে মুখস্থ করা শুরু করে। এভাবে মাত্র ২বছরে সে পুরো কোরআন মুখস্থ করে ফেলে। এখন সে সকালে আধা পারা (১০ পৃষ্ঠা), বিকালে আধা পারা মোট ১ পারা করে কোরআন শুনিয়েছে তার শিক্ষককে।
মো: লাবিব মুরসালিনের বাবা মো: হযরত আলী (খোকন)  একজন ব্যাবসায়ি। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের সদরে অবস্থিত উত্তর বাদঘাটায়। দুই ভাইয়ের  সংসারে লাবিব দ্বিতীয়। রবিবার  (১৭ ফেব্রুয়ারী) তাকে হাফেজি কুরআনের নিয়ম অনুযায়ী হাফেজি পাকড়ি প্রদান করা হয়।
তার মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত  ১ম বার্ষিক আজিমুশ্বান ওয়াজ মাহফিল ও দস্তার বন্দী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন হযরত মাওঃ মুফ্তি আব্দুল মতিন সাহেব তাকে পাকড়ি পড়িয়ে হাফেজ ঘোষণা করেন।
লবিব এর বড় ভাই নাইমুর রাহাদ জানান, লাবিব শারিরীক ভাবে অসুস্থ থাকার পরেও তার আগ্রহ ও মনবল তাকে হাফেজ করছে। সে তার ছোট ভাই লাবিব এর জন্য সকলের কাছে শারিরীক সুস্থতার কামনা ও দোয়া প্রার্থী।

আরো খবর

Leave a Reply