বাংলাদেশ, শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লামা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল আর নেই

 

মো.কামরুজ্জামান, লামা বান্দরবান

লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল আর নেই। শুক্রবার রাত ৯ টায় হ্নদযন্ত্র বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি…….রাজেউন।

শুক্রবার দিনব্যাপি দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে চলছিল ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী সংক্রান্ত সভা। লামা উপজেলায় তিনি দলীয়ভাবে প্রার্থীতা করার জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হয়েছিল। লামা বাজারস্থ জেলা পরিষদ গেষ্ট হাউজে সভা শেষে তিনি হঠাৎ ঢলে পড়েন। প্রথমে লামা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষনের পর চমেক এর উদ্দেশ্য রওয়ানা করে। রাত প্রায় ১০ টায় চকরিয়া জমজম হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে কয়েক মিনিট সিকিৎসার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে লামা-আলীকদ উপজেলা ও চকরিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

রাত ১১ টায় মরহুমের মরদেহ লামা উপজেলায় আনা হলে শত শত শোকার্ত মানুষের ঢল নামে তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে। শোক প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীরবাহাদুর উশৈসিংসহ বিভিন্ন মহল। তাৎক্ষনিক মৃত্যু সংবাদে ছুটে আসে আলীকদম জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল সাইফ শামীম পিএসসি, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বেসামরিক কর্মকর্তা ও পাশ্ববর্তী আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার দিনের কোন এক সময় লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। তার মৃত্যুতে লামাবাসী একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হারিয়েছেন।

আগামী ১৮ মার্চ লামা উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যাপক জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় তিনি সরকার দলীয় মনোনীত একজন প্রার্থী ছিলেন। তার হঠাৎ মৃত্যুতে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুণ্যতা দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়রা আশংকা করছেন।

১৯৯২ সালে ক্ষুদ্র ব্যবসা ছেড়ে সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগ করে লামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা বিএনপির কোষাধক্ষ পদ থেকে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে, ২০০০১ সালে লামা পৌরসভার নির্বাচনে তিনি প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০০৯ সালে ৩য় উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর অতি আস্থাভাজন এই নেতা জীবদ্দশায় লামা উপজেলার উন্নয়নে বীরবাহাদুরকে সর্বদা ব্যস্ত রাখতেন।

অত্যান্ত মিষ্টভাষি সদালাপি মোহাম্মদ ইসমাইল দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি, শান্তস্বভাবের মিষ্টভাষী হওয়ায় ওলামায়ে সমাজ, ধর্মীয় গুরুরা তাকে মনে প্রাণে ভালো বাসতেন। লামা পৌরসভাসহ উপজেলা ব্যাপি অনেক উন্নয়ন করেছিলেন তিনি। সমাজ চেতণাবোধ সম্পন্ন এই প্রয়াত নেতা ২০১২ সালে হজ্বব্রত পালন করেছিলেন। তিনি ডায়াবেটিশ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হার্টের সমস্যা ভোগছিলেন। কিন্তু তার সামাজিক, রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বলিষ্ট পদচারণায় অনেকে জানতেননা তিনি হার্টের সমস্যা ভোগছেন।

মৃত্যুকালে স্ত্রীসহ ৪ কণ্যা সন্তান রেখে যান তিনি।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply