বাংলাদেশ, রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২০৯) কে এম নুরুল হুদা সমীপে

মাননীয়,

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদা সমীপে,

শ্রদ্ধেয়  হুদা  ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতেই আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করিয়া কাহারো কাছে প্রশংসিত আবারো কাহারো কাছে নিন্দিত হইয়া কৌশল প্রণয়ন করিয়া ভালো আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক নিভৃত পল্লীতে থাকিয়া শাহ মোহছেন আউলিয়া ও শাহ আমানত শাহের উছিলায় ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো খাইয়া না খাইয়া দেশটার ভবিষ্যত লইয়া এক প্রকার মহা টেনশানেই আছি ।আপনাকে লইয়া একেক জন একেক কথা বলিতেছে।কোন কথার ভিত্তি পাইতেছি না, পাইলেও চোখ – কান বন্ধ রাখিয়া চলিতে হইতেছে।গেল সপ্তাহে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ  সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম বলিয়া, লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না।বরং মনোযোগসহকারে পড়িয়া দেখিবেন এবং যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন।ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার । গোটা দেশ জুড়িয়া আপনি আলোচিত ও সমালোচিত ব্যাক্তি।বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান বলিলেন, ‘আমরা মনে করি তিনি (সিইসি) অসহায়। তিনি বিব্রত বোধ করছেন, এটা সত্যি’। আপনার সাথে করিবার পর তিনি সাংবাদিকদের এইসব কথা বলিলেন। আসলেই কী আপনি অসহায় ? যিনি যেই চেয়ারে থাকেন তিনিই জানেন আসলে কোথায় – কোথায় কী কী সমস্যা আছে।কেন পারিতেছেন কিংবা কেন পারিতেছেন না, তাহা একমাত্র আপনিই ভালো জানেন।জনগণ গুজবের ফানুষেই থাকে।যাক, সেই সব কথা।

ভাইজানরে, 

আপনি বলিয়াছিলেন, ‘ভোটার , রাজনৈতিক নেতা কর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন, তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী পুরুষভেদে সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে’।নির্বাচনের পর মানুষ এইসবের সত্যতা খুঁজিতেছে।বলিতেছে নানান কথা।

ভাইজানরে,

শুনিতেছি, আগামী মার্চ থেকে উপজেলা নির্বাচন শুরু করিবেন।গ্রামগঞ্জের লোকেরা গেলবারের উপজেলা নিবার্চন যেই আদলে হইয়াছিল এইবারও একই আদলে হইবে বলিয়া আলোচনা করিতেছে । বলিতেছে প্রথম দয়ায় ভোট সুষ্ঠু হইবে।তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানে সমানে লড়াই হইবে, দ্বিতীয় দফায় রহস্য লুকাইয়িত থাকিবে এবং শেষ দফায় আগের ফলাফলের হিসাব মিলাইয়া সরকার কিংবা আপনারা রুপরেখা তৈরী করিবেন বলিয়া ঠাণ্ডা মিয়াকে নানান দলের নেতারা বলিতেছে।আসলেই কী করিবেন ও কেমন করিবেন এবং কোন কৌশলে অন্যান্য দলকে ভোটে আনিবেন তাহা আপনারাই ভালো জানেন।কেউ কেউ বলিতেছে, এইবার উপজেলা নির্বাচন আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী লীগই লড়াই করিবে।সুষ্ঠু ও টেকসই ভোট হইবে। শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিবেন সুষ্ঠু ভোট কাহাকে বলে।যাহারা প্রার্থী হইবে না তাহারা পরে আফসোস করিবে।বিষয়টি হালকা মনে করিবেন না।তখন টেকসই উন্নয়ন করিতে শেখ ্হাসিনা সরকারের সুবিধা হইবে এবং জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যানদের শেখ হাসিনা কাজ করিতে পারিবেন।আজ আর না।আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায়।ইতি আপনারই বিশ্বস্ত                                                                                                                                                                   ঠাণ্ডা মিয়া

গ্রন্হনাঃ ম আ হ

তারিখ ৬ জানুয়ারী ‘১৯

আগামী সংখ্যায় ডক্টর কামাল হোসেন সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২১০) সম্প্রচার করা হইবে।

 

আরো খবর

Leave a Reply

Close