বাংলাদেশ, বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার ও পদক ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধ করুন

আমিন উল্লাহ মেজু

আগামী ১০ ডিসেম্বর সোমবার বাংলাদেশে উদ্যাপিত হবে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। আমাদের ইসলাম ধর্মসহ সকল ধর্মে মানবাধিকার বিষয়টি বেশ উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত । কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই পবিত্র শব্দটি প্রতিনিয়ত অপবিত্র করে তুলছে “মুখোশধারি সমাজসেবক” নামধারী কতিপয় লোক। সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম ভূঁয়া মানবাধিকার সংগঠনের অপতৎপরতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্যাড এবং একক ব্যক্তি সর্বস্ব এসব ভূঁয়া মানবাধিকার সংগঠনের কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছে প্রকৃত মানবাধিকার সংগঠকেরা। জমির দালাল, থানার দালাল, মোটর মেকানিক, ভূমিদস্যু, কবিরাজ, জুয়াড়ি, মাদকসেবী, পিডিবির দালাল, পতিতার দালাল, হোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহন নেতা, মুদির দোকানী, পুলিশের তালিকাভূক্ত অপরাধী, ইয়াবা ব্যবসায়ী, জেল খেটে আসা এক মহিলাও আসামীও এখন মানবাধিকার কর্মী ও কথিত সাংবাদিক, ভূঁয়া সাংবাদিক, কথিত সম্পাদক এমনকি মানবাধিকার “গবেষক” রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শের কতিপয় ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এখন কথিত মানবাধিকার নেতা। অর্থের বিনিময়ে তারা ভূঁয়া মানবাধিকার সংগঠন থেকে কার্ড নিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কথিত মানবাধিকার নেতা কর্মীদের পদচারণা নগরী চেরাগী পাহাড় মোড়ে। তারা মানবাধিকার নেতা পরিচয় দিয়ে সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান, থানাসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে চাঁদাবাজি ও তদবিরবাজি করে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ সহ। এছাড়া সভা,সমাবেশ,স্মরণ সভা ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের নামে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সমাজের অশিক্ষিত,অখ্যাত এবং কুখ্যাত ব্যক্তিদের সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, সফল ব্যবসায়ী ও কথিত লেখক সাজিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পদক এবং সনদ দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুঁয়া মানবাধিকার সংগঠনের পদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়াভাবে পদক বাণিজ্য করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন অখ্যাত ভূঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পদক বাণিজ্য করছে একটি চিহ্নিত চক্র। মানাবাধিকার শব্দের আগে ও পরে বিভিন্ন নাম জুড়ে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করছে তথাকথিত ‘মানবাধিকার নেতারা’। মনে হয় তারা যেন মানবাধিকার বিষয়ে পিএইচডি প্রাপ্ত! বিশ্ব কবি রবীন্দ্রানাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, পল্লীকবি জসিম উদ্দিন, প্রখ্যাত সংবাদপত্র সেবীদের নামে, মাদার তেরেসা, সূর্য সেন, নবীন সেন, সাহিত্যিক আবুল ফজল, নেলসন মেন্ডেলা মহামনীষীদের নাম ব্যবহার করে চক্রটি পদক বাণিজ্য করছে অবলীলায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামেও পদক দিচ্ছে একটি চিহ্নিত মহল। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ভূঁয়া সংগঠকদের হাতে । চক্রটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বর্তমানে তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। এসব মানবাধিকার সংগঠনগুলো “সামাজিক আবর্জনা” বলে সমাজের সচেতন মহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সরকারী ও প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্রেষ্ট আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান কিংরা বিশেষ অতিথি থাকার জন্য আয়োজকদের পক্ষে অনবরত মোবাইল আর স্বশরীরে উপস্থিতি দেখে অতিষ্ট হয়ে অনেক সময় মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন এমনকি লুকায় থাকতে বাধ্য হয়।
পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের যে কোন স্তরে এক কথায় পরিবারে যাদের কোন অধিকার নেই তারাই আজ মানবাধিকার নেতা সেজে সমাজে প্রতারণা করে যাচ্ছে। অপরদিকে, অনেক সংগঠক ক্রেষ্ট প্রদানের নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে কৌশলে অনুষ্ঠান বর্জন করে পালিয়ে যায়।
মাননীয় পুুলিশ কমিশনার মহোদয়, ভূঁয়া মানবাধিকার সংগঠন, চিহ্নিত পদক ব্যবসায়ীসহ এসব অপতৎপরতার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে সমাজ প্রতারকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে নিঃসন্দেহে ফলে মাশুল দিতে হবে সবাইকে।

আরো খবর

Leave a Reply