বাংলাদেশ, রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সকল সুযোগ- সুবিধা দাবিদার নাতি-নাতনীদের 

মোঃ উমর ফারুক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 বর্তমান সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন এক আতঙ্কের নাম।সারাদেশ থমথমে পরিবেশ বিরাজমান।এটা নাকি শিক্ষার্থীদের অধিকার আন্দোলন। তাদের মূল লক্ষ হলো যাতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মরা যেন সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা না পায়।
একটি কথা, সবাই জানেনা যারা উপকারের অপকার স্বীকার করে তারা হল অকৃতজ্ঞ।মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিল, আজ তোমরা তাদের সন্তান ও প্রজন্মদের সুযোগ সুবিধা বাতিলের জন্য আন্দোলন করো? তোমরা তো অকৃতজ্ঞ জাতি।
দেশের নামধারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধাবী বলে স্বীকার করে। আর যারা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কিংবা পরবর্তী প্রজন্মদের বানিয়েছে মেধাহীন বা কোটাধারী।  তা ছাড়া বলা হয়  মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মদের কোটার কি প্রয়োজন ?
 বাহ! কি চমৎকার মন্তব্য এ প্রজন্মের। মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের তারা করুণা করছে, যাদের পিতাদের কিংবা পূর্বপুরুষ  কল্যানে এই দেশ, এত আরাম আয়েশ।তাদেরকেই মনে হচ্ছে ওরা করুণা করছে। আমার প্রশ্ন একটাই সরকারী চাকুরীতে ৫৬ শতাংশ কি শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা, তার মাঝে আছে নারী,জেলা,উপজাতি, প্রতিবন্ধী কোটা। তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকলে  সমস্যা কোথায়? যাদের অবদানে দেশ আজ স্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের প্রজন্মদের কল্যানে সরকার কিছু করতে চায় সেটা কি সহ্য হয়না?
এবার আসি সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুযোগ সুবিধা নাতি-নাতনীরা কেনও পাবে  এবং  কোটা প্রথা স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও কেন থাকবে?
হাঁ, ৪৭ বছর, কিন্তু ৪৭ বছর কি সুবিধা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কিংবা প্রজন্মরা পেয়েছে?১৯৭২ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের ও তার পরিবারের কথা চিন্তা করে এবং দরিদ্রতা  ও আর্থিক দিক দিয়ে সচ্ছল হয়ে  যাতে নিজেরা ঘুরে দাড়াতে পারে সেজন্যই মূলত ৩০%মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।পরবর্তী সময়ে জিয়া ও এরশাদ সরকারের আমলে  অর্থাৎ ১৯৭৫-১৯৯৬ একুশ বছর এবং ২০০১-০৬ পাঁচ বছর
মোট ২৬ বছর মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে দাবিয়ে রাখা হয়েছে, কি নির্মম জীবনযাপন করেছেন, তখন তাদের ছেলেমেয়েদের চাকুরীতো দূরের কথা, মুক্তিযোদ্ধা নাম মুখে নিতে পারেনি। ২৬ বছর অধিকার বঞ্চিত থেকেছেন, কই? তখন তো কেউ বলেন নি তাদের অধিকারের কথা, যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের একটু নায্য অধিকার দিতে শুরু করেছেন, ওমনি আপনাদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে! ফিরিয়ে দিন ওই ২৬ বছর, আমরা নাতি-নাতনীরা সুবিধা নেব না।
হুম! আজ সবাই মেধাবী হয়ে গেলেন! যেমনটা আপনাদের বাপ-দাদারা ছিলেন।
আমাদের বাপ-দাদারা তো মেধাহীন ছিলো, তাইতো দেশের জন্য নিজের জীবন সঁপে দিয়েছিলেন।
আর আপনার বাপেরা মায়ের আচঁল, আর দাদারা দাদির আচলের তলে আমোদে মেতে থেকেছে, নয়তো ভিরু কাপুরুষের মত এদেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ওরা যে মেধাবী!
আমাদের বাপ-দাদাদের মত…নয়।

আরো খবর

Leave a Reply