বাংলাদেশ, বুধবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

লামা-আলীকদমে পেয়ারা চায়ে উদ্ভুদ্ধ হচ্ছে স্থানীয়রা

মো.কামরুজ্জামান, লামা
লামা-আলীকদম উপজেলায় প্রায় ৪২ প্রজাতির ফল চাষ হয়। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক ফলনের তালিকায় কলা, পেপে, আম, জলপাই ও আমড়ার পরেই স্থান পাচ্ছে পেয়ারা। পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন-সি। বর্ষা মৌসমে এই এলাকার পাহাড়ের ঢালুতে পেয়ারা চাষ হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্নজাতের পেয়ারা চাষে উদ্ভুদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয়রা। দেশি বিভিন্ন প্রজাতির পেয়ারার পাশাপাশি উন্নত জাতের কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এই এলাকায়। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের মিলিয়ে লামা-আলীকদমে প্রায় পাঁচ শ্ হেক্টর জমিতে ২০ হাজার মে:টন পেয়ারা চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদদের মতে আমাদের দেশে সারাবছরই বিভিন্ন ধরণের ফলের চাষ করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফলমূলের মধ্যে পেয়ারা অন্যতম। পেয়ারা হচ্ছে একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। পেয়ারার ইংরেজি নাম Guava ও বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছেPisidium guajava । বাংলাদেশের সব জায়গাতেই কম বেশি পেয়ারা জন্মে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বরিশাল, ফিরোজপুর, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি প্রভৃতি এলাকায় এর চাষ হয়ে থাকে। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি পেয়ারা দিয়ে জেলি, জ্যাম ও জুস তৈরি করা হয়ে থাকে। সম্প্রতি লামা-আলীকদমেও পেয়ারা চাষে স্থানীয়রা বেশ উৎসাহবোধ করছেন।

কৃষিবিভাগ সূত্রে জানাযায়, হেক্টর প্রতি গড়ে পেয়ারা উৎপাদন হয়-দেড় থেকে পৌনে দুই মে:টন। সাম্প্রতিককালে এই এলাকায় অভ্যান্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন শহরের সাথেও যোগযোগে পরিবহন ব্যবস্থা চালু থাকায় বাজারজাতেও সুবিধা পাচ্ছে চাষীরা। পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল চাষের দৃশ্যমান ব্যাপকতা; সরকারের কৃষিবিভাগ কর্তৃক স্থানীয়দেরকে উদ্ভুদ্ধ করণের স্বার্থক সফলতা হিসেবে দেখছেন চাষীরা। এই ফলের যতেষ্ট পুষ্টিমান রয়েছে। কমদরে সহজ প্রাপ্যতা হেতু সবাই ফলটি খেতে পারেন। ভেষজ বিদদেরমতে পেয়ারার ঔষধিগুণও রয়েছে অনেক। শেকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ক ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভালো কাজ করে। ক্ষত বা ঘাঁতে থেঁতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারা পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়।

পার্বত্যাঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু স্বাস্থ্যানুকুল হওয়ায় ও বিষমুক্ত পরিবেশের কারণে দেশ বিদেশে পাহাড়ী অঞ্চলে উৎপন্ন অন্যান্য ফলেরমতো এর বাজার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। ফলে সাম্প্রতিককালে সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্ভুদ্ধ করণের স্বার্থক সফলতা অর্জিত হচ্ছে। এলাকায় ব্যাপক ফল চাষের দৃশ্যমান বাস্তবতায় এটাই প্রতিভাত হচ্ছে। সূতরাং উন্নত দেশের কাতারে পৌছার সার্বিক বিবেচনায় কৃষিজাত ফলনের সূচক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে ফল চাষের সূচকও আশা ব্যাঞ্জক বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন কৃষি জীবিরা।

আরো খবর

Leave a Reply