বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আশরাফ খানের নাগরিক শোক সভা

আশরাফ খান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে
ও চট্টগ্রামের রাজনীতিক ইতিহাসে কালজয়ী মানুষ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ষাটের দশকের সকল ছাত্র-গণ আন্দোলনের অন্যতম নেতা, চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন জিএস ও চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সাবেক ভিপি, চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের প্রাক্তন সভাপতি, বর্ষীয়ান জননেতা মুহাম্মদ আশরাফ খানের নাগরিক শোক সভা ২ জুলাই সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চাকেন্দ্র ও চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব বিশিষ্ট লেখক মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ও চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন ও এ.কে.এম. আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই নাগরিক শোকসভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এ.কে.এম. আবু বক্কর চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. রেজাউল করিম চৌধুরী, চাকসুর ভিপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাজহারুল হক শাহ, প্রখ্যাত লেখক গবেষক রাজনীতিবিদ কালাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পালি বিভাগের প্রধান ড.জিনবোধি ভিক্ষু, বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক রাজনীতিবিদ ও সাবেক পিপি এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল হাসেম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুল আবছার চৌধুরী, আল্লামা রুমি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এস.এম. সিরাজুদ্দৌলা, আন্তর্জাতিক আইনজীবি ড. মোহাম্মদ সেলিম খান, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ও ক্রীড়া সংগঠক জাহিদুর রহমান সোহেল, ২৩নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, রিয়াদ খান, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি মোঃ সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, সন্দ্বীপনার পরিচালক ভাস্কর ডি.কে দাশ মামুন, চট্টগ্রাম বুদ্ধিজীবি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সংবাদিক এস.এম জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডি.কে ঘোষ, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন, বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান এ.কে.এম. আবু ইউসুফ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় চার নেতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, ফেনী জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ গোলাম নবী, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রাবন্ধিক ছিদ্দিকুল ইসলাম, সমাজসেবক গোলাম কিবরিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যাংকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কর আইনজীবি মোঃ ইলিয়াছ, সংগঠক দেবাশিষ কান্তি বিশ্বাস, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ মঞ্জুর, কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল কান্তি দাশ, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নুর হোসেন, অমর কান্তি দত্ত, সৈয়দ শিবলী ছাদিক কফিল, অধ্যক্ষ ইউনুছ কুতুবী, লেখক লায়লা মমতাজ, সুফায়দা ইয়াসমিন, মোঃ আমজাদ খান, এস.এম. নুর খান প্রমূখ। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ আশরাফ খানের নাগরিক শোক সভার শুরুতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী মুহাম্মদ আশরাফ খানের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। নাগরিক শোক সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মুহাম্মদ আশরাফ খানের নাম স্মরণীয় ও বরণীয়। আশরাফ খান ষাটের দশক থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দেশ, গণতন্ত্র, মানুষ ও মানবতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁর প্রবন্ধ লেখনির মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও কালজয়ী বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, শিক্ষা আন্দোলন, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন আন্দোলন, বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন উন্নয়ন আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে পাবে। বক্তারা আরো বলেছেন, মুহাম্মদ আশরাফ খান একটি সংগ্রামের নাম। আশরাফ খান সহজ সরল ও সৎভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। নাগরিক শোক সভায় বক্তারা আরো বলেছেন, মুহাম্মদ আশরাফ খান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এবং চট্টগ্রামের রাজনীতিক ইতিহাসে কালজয়ী মানুষ। দেশের শুদ্ধ ও গণতন্ত্র চর্চায় আশরাফ খান ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। সু-বক্তা হিসেবে আশরাফ খান ছিলেন অসাধারণ পান্ডিত্বের অধিকারী। আজকের লালদিঘীর ময়দান আশরাফ খানের বক্তব্যের মাধ্যমে ইতিহাস এবং স্মারণীয় ইতিহাস হয়ে থাকবে। মুহাম্মদ আশরাফ খানের মতো দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ বর্তমান সময়ে পাওয়া কঠিন। মুহাম্মদ আশরাফ খান ১৯৪২ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাঠান বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও আইনবিদ আমানত খান বিএল। মুহাম্মদ আশরাফ খান ৩ জুন ২০১৮ ইন্তেকাল করেন। সভায় আশরাফ খানের নামে একটি পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আরো খবর

Leave a Reply