বাংলাদেশ, শনিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শার্শায় পুলিশের উপস্থিতিতে বসতবাড়ী ভাংচুর

 

বেনাপোল প্রতিনিধি : শার্শার পল্লীতে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ও পুলিশের উপস্থিতিতে বসতবাড়ী ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহষ্পতিবার বিকালে শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের টেংরালী গ্রামে। স্থানীয় চেয়ারম্যান হোসেন আলীর পোষ্য সন্ত্রাসীরা প্রতি হিংসামুলক ওয়াদুদ মিয়ার ৩রুম বিশিষ্ট সেমিপাকা বিল্ডিং ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ডিহি ইউনিয়নের টেংরালী গ্রামের মৃত সুরত আলীর ছেলে ওয়াদুদ মিয়া দীর্ঘদিন যাবত ২নং টেংরালী মৌজার সাবেক দাগ ৭৭৬ নং দাগে ১৫ শতক বাস্ত জমি ভোগদখল করে আসছিল। যাহার বর্তমান হাল জরিপ দাগ ১৭০৯ হয়েছে। উক্ত জমির ১৯২৬ সালের সিএস রেকর্ডীয় মালিক মকিম কলু গং ভোগ দখল থাকার পর সোপার্জিত শর্তে ১৯৬২ সালে আশুতোষ রায় সরকার বাহাদুরের ০৪নং খতিয়ানে নিজ নামে রেকর্ড করাইয়া স্বত্ত্ববান ও ভোগ দখল থাকাবস্থায় তাহার নিকট হইতে ০১/০১/১৯৭০ সালে চৌগাছা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের ১৮নং কবলা দলিল মুলে আমাদের পিতা সুরত আলী খরিদ করিয়া ভোগ দখল করিতে থাকে। আমাদের পিতার মৃত্যুর পর আমরা ওয়ারেশ সুত্রে প্রাপ্ত হইয়া অত্র জমি এযাবৎ কাল ভোগদখল করিয়া আসিতেছি। বর্তমান সরকার বাহাদুরের নির্দেশে অর্পিত সম্পত্তির হাল রেকর্ড দেওয়ার নিষেধ থাকায় হাল জরিপে আমাদের নিজ নিজ নামে ওয়ারেশ সুত্রে রেকর্ড করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের পক্ষে ১/১ খতিয়ানে রেকর্ড হয়। যদিও ১৯৬২ সালের রেকর্ড মালিকানা স্বত্ত্বে থাকা স্বত্ত্বেও হিন্দু নাম থাকার কারনে সরকারের পক্ষে ১/১ খতিয়ানে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে হাল জরিপ কর্তন পূর্বক আমাদের নিজ নিজ নামে ওয়ারেশ সুত্রে রেকর্ড পাওয়ার জন্য উক্ত সম্পত্তির সমস্ত কাগজপত্র দাখিল করে শার্শা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা রুজু করি যাহার কেস নং-০৪/১৮। যাহা অদ্যবধি মামলাটি মহামান্য আদালতে বিচারাধীন আছে।
বর্তমানে উক্ত সম্পত্তিতে আমাদের বসবাসের জন্য বসতবাড়ী নির্মান ও ফলজ-বনজ বৃক্ষ রোপন করিয়া বসবাস করিতেছি। হঠাৎ করিয়া স্থানীয় চেয়ারম্যান হোসেন আলীর নির্দেশে কিছু পর সম্পদ লোভী ভূমি দস্যু ও এলাকার চিহ্নিত লাঠিয়াল বাহিনী আ: খালেক, আ: রাজ্জাক, আ: ছামাদ, বাবলু, আজু, ইসমাইল, জাকির, ইমরান, ইজাজুল, পিয়াল, মজিদসহ আরো অনেকে স্থানীয় গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ লুৎফর রহমানের উপস্থিতিতে বৃহষ্পতিবার বিকালে ৩রুম বিশিষ্ট সেমিপাকা বিল্ডিং ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। দরজা-জানালা গুলি ভ্যানযোগে নিয়ে যায়। এঘটনাটি গ্রামবাসির সামনে ঘটলেও পুলিশের উপস্থিতি থাকার কারণে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। গ্রামবাসির অনেকে ঘটনাটি মোবাইলে ধারন করতে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই শেখ লুৎফর রহমান তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আটক করার হুমকি দেয়। ক্ষতিগ্রস্থ ওয়াদুদ মিয়া বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গহেনের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ডিহি ইউনিযন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আলী বলেন, সরকারী সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করায় প্রতিবেশিরা যাতায়াতের রাস্তা নেওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তার নির্দেশে হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন এব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের নির্দেশক্রমে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও তার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সরকারী সম্পত্তি থেকে অবৈধ বসতি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।
গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ লুৎফর রহমান বলেন, আমাকে শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয় ফোন দিয়ে বলেন টেংরালী গ্রামে একটি উচ্ছেদ অভিযান আছে, সাথে থাকার নির্দেশ দেন। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে যথাসময়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হই। পরে সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের ৩জন প্রতিনিধি সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম, পিয়ন অসীম কুমার, তপন কুমার এবং স্থানীয় গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে অবৈধ বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে।
এ ব্যাপারে শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল ওয়াদুদ এর নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়িঘর ভাংচুর করার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। এলাকায় যাহাতে আইন শৃংখলার অবনতি না হয় সেজন্য গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেই।

আরো খবর

Leave a Reply