বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

ফরিদপুরে বিশ্ব উরস শরীফ শুরু ১৭ ফেব্রুয়ারি

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফিরে 
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু চার দিনব্যাপী ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে বিশ্বওলী হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) এর মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ। ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর বিশ্বওলী কেবলাজান ছাহেবের রওজা শরীফ যিয়ারত ও আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

ফরিদপুর জেলার আটরশিতে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু রাষ্ট্র থেকে কয়েক কোটি মানুষের আগমন ঘটবে। কয়েক কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদত বন্দেগী, থাকা, খাওয়া ও যাবতীয় কিছু সুন্দর ভাবে সু-সম্পন্ন করার জন্যে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ৪ মাস আগে থেকে শুরু হয় বিশাল ও ব্যাপক প্রস্তুতি কর্মকান্ড। প্রায় ৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল শুধু মানুষ থাকার জন্য, ৮ টি সু-বিশাল খাবার মাঠ যেখানে এক সাথে খেতে পারবে কয়েক লক্ষ মানুষ কোনরুপ ঝামেলা ছাড়াই। এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ৩ শতাধিক সিসি টিভি ক্যামেরা, ৪০টি আর্চওয়ে গেট, ৬ শতাধিক মেটাল ডিটেক্টর, ১২ শতাধিক ওয়াকিটকি, ৫৫টি অবজারভেশন পোস্ট, প্রায় ৩ হাজার সার্চ লাইট, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রায় দেড় লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন সব সময়, ৫০টির বেশি সুবিশাল কার পার্কিং জোন, কয়েক কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য নিজশ্ব ৫০০ শয্যার হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা বিশেষায়ীত চিকিৎসক, কয়েকশ এ্যাম্বুলেন্স, এয়ার এ্যাম্বুলেন্স, অসংখ্য স্বাস্থ্য সেবাদানকারি সংগঠনের ডাক্টার, নার্স, সেচ্ছাসেবক। সরকারী-বেসরকারী-বৈদেশিক পর্যায়ের ভিভিআইপি মেহমানদের জন্য দুটি স্থায়ী হেলিপ্যাড ও হেলিকপ্টার।

মুসলমানদের পাশাপাশি আন্যান্য ধর্মাবলম্বী হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্যও পৃথক পৃথক জায়গায় স্বতন্ত্র কম্পাউন্ড নির্মাণ করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য বরাবরের ন্যায় একেবারে আলাদা অন্ধর মহল কম্পাউন্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এ মহা মিলনমেলা উপলক্ষ্যে সুদৃশ্য তোরণ, বর্ণিল ব্যানার, ফেষ্টুন, পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদীস শরীফ উৎকীর্ণ প্ল্যাকার্ড সহযোগে নান্দনিক সাজে সজ্জিত হচ্ছে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।

দিনের ২৪ ঘন্টাই ফরজ নামায এর পাশাপাশি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, দুরুদ ও মিলাদ শরীফ পাঠ, নফল ইবাদত বন্দেগী, শেষ রাত থেকে রহমত লাভের আশায় আল্লাহ পাককে ডাকা, সারা দুনিয়ার সকল মুসলমান নর-নারীর জন্য নফল নামায ও ফাতেহা পাঠ করে দোয়া করে ছওয়াব রেছওয়ানী করা হবে এই বিশ্ব উরস শরীফে। আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফে বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত মাওলানা শাহসূফী ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব সারাটি জীবন মানুষকে আল্লাহ কে চিনবার ও আল্লাহকে ডাকবার তাগাদা দিয়ে গেছেন। এর জন্যই বিশ্বওলী খাজাবাবা “আটরশির পীর” নামে সারা বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সু-পরিচিতি লাভ করেছেন।

দরবার সূত্র থেকে জানা গেছে, আধ্যাত্মিক উত্তোরাধীকারী পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মাহফুজুল হক মুজাদ্দেদী ও পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী ছাহেবদ্বয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, উরস শরীফকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এবাদত ক্যাম্পসহ বড় বড় তোরণ তৈরী করা হয়েছে। পুকুরিয়া, চর নওপাড়া, চরভদ্রাসন, তালমা, হাট কৃষ্ণপুর, ভাঙ্গা, মালিগ্রাম ও ব্রাহ্মনদী প্রবেশ পথে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একই সাথে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট, মাওয়া এবং পাটুরিয়া ফেরীঘাটে ক্যাম্প স্থাপন চলছে।

আরো খবর

Leave a Reply