বাংলাদেশ, রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লাউড়গড়ে রাজস্ব ফাঁকি প্রশাসন নিরব

 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে প্রতিদিন লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার মালামাল পাচাঁর করা হচ্ছে। এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১১জনের একটি সিন্ডিকেড তৈরি করে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও মদ পাচাঁর মামলার জেলখাটা আসামীদের বিজিবির লাইনম্যান ও সোর্সের দায়িত্ব দিয়ে নামে-বেনামে প্রকাশ্যে চাঁদা উত্তোলন করছে। এর ফলে প্রায়ই ঘটছে নানান প্রকার অপ্রীতিকর দূঘটনা। কিন্তু এসব অনিয়ম দেখার কেউ নেই।

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানায়,লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের ১২০৪এর ৩এস পিলার সংলগ্ন যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রায় ৭শত গজ ভারতের ভিতরে প্রতিদিন প্রায় ২হাজার শ্রমিক ও চোরাচালানীদেরকে ভারতে পাঠানো হয়। তারা ভারত থেকে প্রতিদিন নৌকা ও লড়ি দিয়ে ৩হাজার মে.টন পাথর ও কয়লাসহ মদ,গাজা,হেরোইন,গরু,ঘোড়া,কাঠ,নাসিরউদ্দিন বিড়ি ও অস্ত্র পাচাঁর করছে। এর বিনিময়ে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের নামে চাঁদাবাজি মামলার আসামী লাউড়গড় গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আনসারুল ও সামসুল হকের ছেলে সেলিম মিয়া ১লড়ি(৬টন)পাথর থেকে ২শত টাকা,১বস্তা(৫০কেজি)কয়লা থেকে ১শত টাকা,১ নৌকা পাথর ৫শত টাকা,১টি গরু থেকে ২হাজার টাকা,১টি ঘোড়া থেকে ৩হাজার টাকা,নদীর পাড় কেটে ১নৌকা বালু থেকে ১৫শত টাকা,১টি সেইভ মেশিন থেকে ২হাজার টাকা ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য থেকে মাসিক ও সাপ্তাহিক ২০থেকে ৫০হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিচ্ছে। অন্যদিকে ১২০৩নং পিলারের পূর্বদিকে প্রায় ৩শত গত ভারতের ভিতরে প্রায় ১হাজার শ্রমিক পাঠিয়ে ৩০০টি অবৈধ মৃত কুপ(কোয়ারী) তৈরি করে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। গত বছর এই সময় মৃত্যু কুপ থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে ২জনের মৃত্যু হয়েছে। আর পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বেলা নামক এনজিও চোরাচালান ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেডের বিরোদ্ধে মামলা করেছে। তারপরও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ কার্যক্রম। গত ২৮.০৮.১৭ইং সোমবার রাত ১০টায় ১২০৩নং পিলার সংলগ্ন বারেকটিলা এলাকা দিয়ে গরু ও মদ পাচাঁর করার সময় চোরাচালানীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজেস(২৫)নামের এক চোরাচালানীর মৃত্যু হয়। এঘটনায় চোরাচালানী ফিরোজ মিয়া(২৭)কে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। গত ১৮.০১.১৮ইং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ২টি পিস্তলসহ চোরাচালানী সুজন মিয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়াও পাথর,কয়লা,মদ,গরু, কাঠ ও ঘোড়া পাচাঁর করতে গিয়ে যাদুকাটা নদীতে ডুবে এই পর্যন্ত ১৫জন শ্রমিক ও চোরাচালানীর মৃত্যু হয়েছে। এব্যাপারে জানতে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার কেরামতের সরকারী মোবাইল নাম্বার(০১৭৬৯-৬১৩১৩০) ও এফএস মাহফুজের মোবাইল নাম্বারে (০১৭২০-২৭৭৩২৫) বারবার কল করার পরও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো খবর

Leave a Reply

Close