মে ২৬, ২০২২ ৭:৩০ অপরাহ্ণ

যে বিষয়গুলো শিশুকে না বলবেন

অভিভাবক হিসেবে আপনার কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সন্তানকে উপযুক্ত বিষয়ে ‘না’ বলতে পারাটাও আপনার দায়িত্ব। শিশুকে ‘না’ বলতে পারার মাধ্যমে তার সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সময় মতো ঘুমানো ও ওঠা : মা হিসেবে সন্তানের ঘুমাতে যাওয়ার সময়সীমা নিয়ে যথেষ্ট কঠোরতার প্রয়োজন আছে। যদি মধ্যরাতেও আপনার শিশু শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত থাকে তাহলে তাকে বোঝাতে হবে যে, তার খেলার সময় শেষ। এখন তাকে ঘুমাতে হবে। আর সকালে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে। শিশুকে সুস্থ, সতেজ থাকতে ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন।
খাবার বাদ দেওয়া : নির্দিষ্ট সময়ের বিরতিতে খাবার খাওয়া শিশুর হজম প্রক্রিয়া ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য জরুরি। শিশু যদি সময় মতো খাবার খেতে না চায় তাহলে তার সঙ্গে খানিকটা কড়াভাবেই কথা বলুন। সকালের নাস্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া মানে হল শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি রয়ে যাওয়া। শিশুর জ্ঞান ও শক্তির মাত্রা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা খুবই গুরুত্বপূরণ।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : শিশুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। টয়লেট ব্যবহারের পরে হাত ধোওয়া বা খেলাধুলা শেষ করে খেতে বসার সময় হাত ধোওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শিশুর সার্বিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখা হলে তা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
কম ভিডিও গেম, বেশি শরীরচর্চা : শিশুর আইপ্যাড ব্যবহার বা ভিডিও গেম খেলার সময় ভাগ করে দিন। শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন খেলাধুলা যেমন- ফুটবল বা অন্যান্য যে কোনো খেলার দিকে তাকে উৎসাহিত করুন। শারীরিক পরিশ্রম শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করতে শ্বেতকণিকার কার্যকরিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
চিনি কম খাওয়া : শিশুর চিনি খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখুন। অতিরিক্ত চিনি খাওয়া শিশুর শরীর দুর্বল করে ফেলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়।
জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলা : রাস্তার পাশের খোলা খাবার কীভাবে ক্ষতি করতে পারে তা তাদের বুঝিয়ে বলুন। মাঝেমধ্যে দুয়েকবার পিৎজা বা বার্গার খাওয়া ঠিক আছে। তবে নিয়মিত এসব খাবার চাইলে শিশুকে ‘না’ বলুন। স্বাস্থ্যকর খাবারে উদ্বুদ্ধ করুন।
খাবার সময় গ্যাজেট থেকে দূরে থাকুন : টেলিভিশন বা কম্পিউটারের সামনে অনেক বেশি সময় ব্যয় করা শিশুকে অলস করে তোলে। এ ছাড়া এটা শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবও ফেলে। তাই টেলিভিশন দেখার সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিন। অরিতিক্ত টিভি দেখা চোখের ক্ষতি করে। তাই শিশুর জন্য একটা নিয়ম তৈরি করে দিন যে, খাবার সময় কোনো রকম গ্যাজেট বা ব্রাউজিং করা যাবে না।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply