বাংলাদেশ, রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকা বিপর্যায়ের

মাহমুদুল হক আনসারী

শহর গ্রামে পুরনো নল কূপে পানি উঠেনা। নতুন নলকূপ স্থাপনে আগের তুলনায় বাড়াতে হচ্ছে গভীরতা। গ্রামের অনেক এলাকায় ৮/১০ ফুট গভীরে গিয়ে বসানো হচ্ছে চাপকল। সারাদেশের চিত্র এ রকম। আশংকাজনক ভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। ব্যবহারের জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস বের করতে না পারলে আগামী ১০ বছরের মাথায় দেশে পানির সংকঠ ভয়াবহ আকার ধারন করবে। যদিও বিশেষজ্ঞ মহল আগে থেকেই ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস সন্ধানের কথা বলা হয়েছে। সরকারও এ বিষয়টিকে নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে শুনা যাচ্ছে। সারাদেশের অনেক এলাকাতেই কয়েক বছর আগ থেকেই পানির এই সংকটের তীব্রতা অনুভব করছেন সংকটময় এলাকায়। বিশেষ করে পানির সংকটে উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষী জমিজমা খনিজ সম্পদ ব্যপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বাংলাদেশের অনেকগুলো এলাকা এখন খাল বিল নদী নালা শুকিয়ে আছে। কৃষী, ক্ষেত খামারী মানুষ তাদের জমিতে পানি দিতে পারেনা। পুকুর জলাশয় শুকিয়ে গেছে। পাশের ছোট ছোট খাল নদীতে পানি পাওয়া যায়না।সেচ প্রকল্পের জন্য বসানো চাপা কলে পানি উঠেনা। অনেক নদী খাল দখল হয়ে আছে। নিউজ পেপারের মাধ্যমে জানা যায় দেড় কোটি মানুষের বাসস্থান রাজধানী ঢাকায় পানির স্তর প্রতি বছর ২ থেকে ৩ মিটার করে নিচে নেমে পড়েছে। গত ১০ বছর থেকে এ অবস্থা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৫ বছর পর বিশাল এলাকায় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় বাবে পনির বিকল্প ব্যবস্থা তৈরী করতে না পারলে কঠিন সংকট হবে পানির জন্য। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সংবাদ রাজধানী বাসীর জন্য যেমনি আছে, একইভাবে আছে চট্টগ্রামের শহর ও গ্রামের অনেক গুলো এলাকার। নগর ও নগরীর বাইরের অনেক গুলো উপজেলায় শুষ্ক মৌসুমে পানি পাওয়া যায়না। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, মিরসরাই, সিতাকুন্ড সহ বহু এলাকায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এসব এলাকায় পুকুর খাল বিল চাপা কলে পানি পাওয়া যায়না। সুপীয় পানির জন্য মাইলের পর মাইল হেটে খালী কলসী নিয়ে পানির সন্ধানে দৌঁড়াতে দেখা যায় গ্রামের মানুষদের। অনেক ফিটকারী আর ফুটিয়ে পানি পান করে। পর্যায়ক্রমে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ডিপটিউব বসানোর কারণে পানির স্তর নিচে নামছে বলে অভিমত ব্যক্ত করে। নগরে ওয়াসার সুপীয় পানির ব্যবস্থা থাকলেও গ্রামে কোনো ওয়াসার কার্যক্রম নেই। উপজেলা প্রশাসন, ইউপি, চেয়ারম্যান বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু ‍কিছু এলাকায় গভীর নলকূপ বসিয়ে সুপীয় পানির ব্যবস্থা করা হয়। ১০ বছর পূর্বে যেখানে ৫০-৬০ হাজার টাকায় চাপাকল বসানো যেতো এখন সেখানে লাখ টাকায় চাপাকল স্থাপন করে পানি পাওয়া যায় না। শহর ও গ্রামের আশ পাশ এলাকায় থাকা খাল নদী দূষিত হয়ে পড়ায় ওই পানি দিয়ে কাজ কর্ম করাও নিরাপদ নয়।খাল ও বিলের পানি নানা ধরনের মিল কারখানার দূষিত পদার্থে দূষিত হয়ে পড়ছে। এসব দূষণের বিরোদ্ধেও আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর, নানা সামাজিক সংগঠন এ বিষয়ে তৎপর হলে সমাজ ও মানুষ উপকৃত হবে। খাল ও নদী নালা সমূহকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে এখনিই জরুরীভাবে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ দরকার। দূষণের ফলে খাল নদীর পানি ব্যবহার করতে গিয়ে স্থানীয় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ওই মানুষগুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে যে হারে পানির স্তর নিচে নামছে এবং খাল বিল শুকিয়ে পানির পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তাতে আগামী পুরো দেশ পানির ঝুঁকিতে পড়বে। এখন হতে খালবিল সংস্কার, ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি দূষণ প্র্রতিরোধ, খাল-বিল উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে মাত্র কয়েক বছরের মাথায় বাংলাদেশ পানির কারণে কঠিন সংকটে পড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে এক গবেষণায় দেখা যায়, সারা বিশ্বেই পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আশংকা করছে আগামী দিনে  পানি সংকটের মুখে পড়বে সমগ্র মানবজাতি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) পরিচালিত এক গবেষণায় জানায়, পৃথিবীর ভূগর্ভে পানির যত মৌজুদ আছে, তার তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভের বাকি দুই তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কতো তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় সে পানি কতোদিন  ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার মতে পৃথিবীর ৩৭টি বৃহৎ পানির স্তরের মধ্যে ২১টির পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ স্তর গুলোর অবস্থান ভারত ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সীমানার মধ্যে অবস্থান। নাসা বলছে, বৈষয়িক কারণে পানির মোট ৩৭টি স্তরের মধ্যে ১৩টি পানির স্তর এখন চরম সংকটাপন্ন। এগুলোর প্রায় সবগুলোই শুকিয়ে গেছে। এ স্তরগুলো ব্যবহার উপযোগী করা প্রাকৃতিক উপায়ে স্তরগুলো পানিতে পরিপূর্ণ করাও সম্ভব হবেনা। পানির স্তর নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় দেখা যায় পানির ব্যবহার ও সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা সংরক্ষণ না থাকলে আগামী ১০ বছরে সারাদেশে পানির সংকট তীব্র হতে তীব্রতর হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই এখন হতে পানির সংকট উত্তোরণে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সময়ের দাবী।

আরো খবর

Leave a Reply