বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা

সাইফুর রহমান শামীম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স নামে কোম্পানি শতাধিক গ্রাহকের কাছে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে । প্রতারনার ফাঁদে পরে সর্বস্ব হারা এসব পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা ।
অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায় ,গত বছরের নভেম্বর মাসে উপজেলা সদরের রাজমহল সিনেমা হল সংলগ্ন একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে বীমার কার্যক্রম উদ্ধেধন করেন। এরপর উপজেলার হাড়িডাঙ্গা,ফুলবাড়ি উপনচৌকি,গোবর্দ্ধনদোলা,হাটহাজারি,ফুলখাঁ,উমরমজিদ, খুলিয়াতারী,খিতাবখা সহ ১০/১২টি গ্রামে কার্যক্রম চালায়। ওই কোম্পানীর ব্রাঞ্চ কোঅর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম কবির ১৫ হাজার টাকায় প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সে জীবন বীমা করে ও ৬০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করলে বারান্দা সহ ২ কক্ষ বিশিষ্ট বিল্ডিং ঘর এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় ৪ কক্ষ বিশিষ্ট বিল্ডিং করে দেয়ার প্রচারনা চালায়। প্রচারনাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন সময় উক্ত ব্যক্তি কুড়িগ্রাম প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর জেলা ম্যানেজার ওবায়দুর রহমান সহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে এলাকায় নিয়ে আসেন। এমনকি প্রচারনার উদ্দেশ্যে কয়েকজনের বাড়িতে নামকাওয়াস্তে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেন তারা। এরমধ্যে ১৫ হাজার টাকার জীবন বীমা ও ৬০ হাজার টাকা দিয়ে উপজেলার হাড়িডাঙ্গা গ্রামের সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ২টি কক্ষের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া একই গ্রামের মিঠুনের বাড়িতে ২টি রুমের এক তৃতীয়াংশ,গোবর্ধ্বন দোলা গ্রামের আবু সাইদের ২কক্ষের অর্ধাংশ কাজ হয়েছে। মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বারান্দা সহ ২কক্ষ বিশিষ্ট্য বিল্ডিংয়ের কাজ চলা দেখে বিভিন্ন স্থানের মানুষ বিশ্বাস করে ওই প্রতারক চক্রকে টাকা দিতে থাকেন।
উপজেলার ফুলবাড়ি উপনচেীকি গ্রামের সাজাহান আলী অভিযোগ করেন,তিনি নিজের ও তার মা সুফিয়া বেগমের জন্য ২টি বীমা বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং ৪ কক্ষ বিশিষ্ট্য বিল্ডিংয়ের জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ওই ব্রাঞ্চ কোঅর্ডিনেটর ও প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স এর কুড়িগ্রাম জেলা ম্যানেজার ওবায়দুর রহমানকে দেন। গত ১৯ ডিসেম্বর তার মোবাইলে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ১৫৪৫২/ টাকার ২টি বীমা হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রামে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের অফিসে গিয়েও তিনি বীমা হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন। এরপর বাড়িতে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করবে বলে সপ্তাহ খানেক কেটে যায়। এরই মধ্যে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে হঠাৎ করে উধাও হন উক্ত কোম্পানীর ব্রাঞ্চ কোঅর্ডিনেটর প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম কবির।
একই ধরনের প্রতারনার শিকার উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের হাড়িডাঙ্গা গ্রামের মকবুল হোসেন, মিঠুন আলী, মোক্তার আলী, রিপন,গোবর্দ্ধন দোলা গ্রামের আবু সাঈদ,রাশেদুল ইসলাম,রহিম বাদশা সহ ওই ইউনিয়নের ৩৬জন। এছাড়া উপজেলার উমর মজিদ,নাজিমখাঁ,ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ও চাকিরপশার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম সহ শতাধিক ব্যাক্তির নিকট থেকে প্রায় এক কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফুলবাড়ি উপনচৌকি গ্রামের রহিম বাদশা অভিযোগ করেন,অনেক কষ্টে টাকা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীর আলম কবিরকে বীমা ও বিল্ডিংয়ের জন্য ৭২ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা নেয়ার পর জাহাঙ্গীর কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা বললেও ডিসেম্বরের শেষ থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই।
উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের খুলিয়াতারী গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন,আমার কাছে ৪৮হাজার ও আমার বোন ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের শহীদা বেগমের কাছে ২৮হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
একই অভিযোগে ভূক্তভোগীরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং জমি বন্ধক রেখে বিল্ডিংয়ের জন্য টাকা দিয়ে প্রতারনার শিকার হন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম কবির ১২০৬ কাফরুল, দক্ষিন ইব্রাহিমপুর ১৬ নংওয়ার্ড,ঢাকার মৃত আব্দুল বারি মোল্লার ছেলে এবং প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ব্রাঞ্চ কোঅর্ডিনেটর পদে নিয়োগ প্রাপ্ত ছিলেন।
এবিষয়ে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের কুড়িগ্রাম জেলা ম্যানেজার ওবায়দুর রহমানের সাথে কথা হলে জানান,প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের রাজারহাট উপজেলা ব্র্যাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম কবিরের সাথে ইন্সুরেন্সের জন্য রাজারহাটের কয়েকটি স্থানে গিয়েছিলাম,কিছু ইন্সুরেন্সও করা হয়েছে। তিনি বিল্ডিংয়ের জন্য টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন,জাহাঙ্গীর গা ঢাকা দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিল্ডিং করে দেয়ার নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ জানতে পারি এবং তার বিরুদ্ধে কোম্পানীর বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান জানান,এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দাখিল করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

আরো খবর

Leave a Reply