বাংলাদেশ, সোমবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ৬টি বাঁশের সাঁকোর গ্রাম নাগেশ্বরীর আজমাতা

সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম

আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নাগেশ্বরী উপজেলার আজমাতা গ্রামের মানুষ। গ্রামের চারিদিকে ফুলকুমর ও মরা দুধকুমর নদী বেষ্টিত। অবহেলিত এ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষা মৌসুমে তাদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। ভালো রাস্তাঘাট না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে জেলা বা উপজেলা সদরে যোগাযোগ করতে পারে না। নাগেশ্বরী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা আজমাতা গ্রাম। কৃষির ওপর নির্ভরশীল এ গ্রামের মানুষ। কৃষি পণ্য উৎপাদন করে সেখানে ভালো কোনো হাটবাজার না থাকায় ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারে না তারা। রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পরতে হয় তাদের। শিক্ষা-দারিদ্র্য আধুনিক সভ্যতার সবদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এ গ্রামের মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো কিংবা কলা গাছের ভেলায় চরে তাদের এ গ্রাম থেকে ওই গ্রামে যেতে হয়। বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা স্কুলে পড়তে যায়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আজমাতা গ্রামে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আবার অনেক অভিভাবকের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ না থাকায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। গ্রামটিতে ৬টি বাঁশের নড়বড়ে সেতু দিয়ে চলাচল করছে ওই গ্রামের মানুষ। ফলে গ্রামটিতে শিক্ষার হার খুবই কম। ক¤েপরহাট নামক স্থানে ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও ১ যুগ ধরে শিক্ষকদের বিল-বেতন না হওয়ায় শিক্ষকরা পাঠদান ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় চলে গেছে। বিদ্যুৎ নেই, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এ অবহেলিত জনপদে প্রায় ২৮শ লোকের বসবাস। গ্রামের এ পাড়া থেকে ও পাড়া যেতে ৬টি বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। রামখানা ইউপি চেয়ারম্যান, সহিদুর রহমান তালুকদার বলেন-আমার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডটি সবচেয়ে অবহেলিত। আমি পরপর ৩বার এ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যন নির্বাচিত হয়েছি। এখানকার প্রায় ৬৮ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। সরকারি রিলিপ- পাওয়া যায় তা দারিদ্র্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিতরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পরতে হয়। তাছাড়া এ অবহেলিত জনপদ থেকে নাগেশ্বরী উপজেলা সদর যেতে প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সীমান্তের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদও অনেক দূরে। ডিজিটাল বাংলাদেশে অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার মানুষ।

আরো খবর

Leave a Reply