বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০১৯ ইং, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

জরাজীর্ণ বেতাগী পাবলিক লাইব্রেরি : ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা

কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম

বেতাগীতে পাবলিক লাইব্রেরিটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে এটি ধ্বসে পরতে পারে। বেহাল দশায় বই পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা।
১৯৭৯ সালের গোড়ার দিকে মহামান্য রাস্ট্রপতি প্রতিশ্রুত উপজেলা সদরের বেতাগী সরকারি কলেজ সংলগ্ন ক্যাম্পাসে অডিটরিয়াম কাম পাবলিক লাইব্রেরি নির্মান করা হয়।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগ উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের আওতায় জেলা পরিষদ এটি নির্মান করে। তৎকালীন জেলা পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আনোয়ারুজ্জমান এর উদ্বোধনী ফলক উম্মোচন  করেন। এসময় পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে বেতাগী কলেজের কতিপয় সম্মানিত শিক্ষক তাদের আবাসিক বাসস্থল হিসেবে এটি ব্যবহার করে আসলেও সংস্কারের অভাবে দিনদিন আরো ব্যবহার অনুপোযোগি হয়ে পড়ে। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে  জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষকরা একটি কক্ষ ব্যবহার করছে।
লাইব্রেরি নির্মানের দুই যুগ পর ১৯৯২ সালের দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহাজাহান মিয়ার আমলে তার সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, শিক্ষক, সাংবাদিক নিয়ে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। তাদের উদ্যোগে ওই সময় ভবনের একটি কক্ষ সংস্কার করে লাইব্রেরির কার্যক্রম চালু হয়। সার্বক্ষনিক পরিচালনার জন্য সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হয় বেতাগী কেজী স্কুলের তৎকালীন অধ্যক্ষ দিপালী রানীকে। একই ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর প্রতিষ্ঠানটি চলে কিন্ত ২০০৮ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হোসেন আলী খন্দকার এ উপজেলা থেকে বদলী হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে।
তৎকালীন পাবলিক লাইব্রেরি পরিচালনা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম সিদ্দিকী জানান, দু:খজনক হলেও সত্য ভবনের বেহালদশা ও আর্থিক সংকটের কারনে লাইব্রেরির কার্যক্রম বেশিদিন চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
বেতাগী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কলি আক্তার বলেন, উপজেলাবাসী জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে পড়ছে পিছিয়ে। কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী মিঠুুন দে অভিযোগ করেন,  লাইব্রেরি ভবন সংস্কারের অভাবে বই প্রিয় পাঠকরা এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় শিখতে পারছেনা।
বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য ও বেতাগী পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, লাইব্রেরি  ভবনটির অবস্থা  অনেকদিন ধরেই নাজুক। বর্তমানে সংস্কার উপযোগি আছে কিনা আমি জানিনা।
সরেজমিনে দেখে আগামী জেলা পরিষদের সভায় এ বিষয় উত্থাপন করবো।

আরো খবর

Leave a Reply