বাংলাদেশ, শনিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নগর জীবনে ভোগান্তি

মাহমুদুল হক আনসারী
নগর ও নাগরিক জীবনে নানা ভোগান্তিতে অস্থির নগরবাসী। নগরীর পরিবহণ সমস্যা সংকট ভোগান্তি নিত্যদিন। নগরবাসীর জন্য গণপরিবহণ অপরিহার্য মাধ্যম। জনগণের নিত্য দৈনন্দিন কাজে শহর ও গ্রামে গণ পরিবহণের প্রয়োজনের শেষ নেই। শহর গ্রাম সর্বত্র এখন গণপরিবহণে শৃংখলা নেই বলা যায়। পুরুনো গণ পরিবহণ তালি জোরা দিয়ে চলতে দেখা যায়। প্রতিদিন নতুন গণ পরিবহণ রাস্তায় নামছে। নগরবাসীর জন্য কী পরিমাণ গণ-পরিবহণের চাহিদা তার কোনো সঠিক হিসেব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আছে বলে মনে হয় না। চট্টগ্রাম শহর এলাকায় পুরাতন ইঞ্জিনের গাড়ীর সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন সবগুলো রোটেই নতুন নতুন নামের ছোট বড় যাত্রী পরিবহণ নামছে। এসব গাড়ীর বি.আর.টি এ অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, গাড়ীর লাইসেন্স সব ঠিকটাক আছে কিনা সেটাও যথেষ্ট সন্দেহ। কতিপয় চাঁদার টোকেন, লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার দিয়ে এসব গাড়ী পুরো নগর ব্যাপী চলছে। আটারো বছরের নিচে কম বয়সী ছেলেদের অনেক ক্ষেত্রে গাড়ী চালাতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম শহার এখন নানা নামের গণপরিবহণের নগরীতে ভরপুর। নগরীর সবগুলো রুটেই অননুমোদিত গণ-পরিবহণে সয়লাব। রাস্তার নানা প্রকল্পের খুড়াকুড়ির মধ্যেও এসব পরিবহণ ঝুঁকি নিয়ে চলছে। বেহাল রাস্তার অবস্থা, ড্রাইভার আছে হেলপার নেই। যত্রতত্র এক্সিডেন্ট করছে। গাড়ী নষ্ট হচ্ছে যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সাথে প্রতিটি রুটেই ঠিকভাবে গন্তব্য স্থানে গণ পরিবহন পৌঁছায়না। একটি নির্দিষ্ট রুটকে কয়েক ভাগে ভাগ করে যাত্রীদেরকে গন পরিবহন পরিবর্তন করতে হয়। ভেঙ্গে ভেঙ্গে রাস্তায় চলতে গিয়ে নগরবাসীকে অতিরিক্ত কয়েক গুন ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। তখন পরিবহণ কর্মচারীদের সাথে ঝগড়া লেগেই থাকে। চট্টগ্রামের রুট সমূহে রাস্তার তুলনায় গন পরিবহন প্রতিদিন বাড়ছে। যে পরিমাণে গন পরিবহণ দেখা যায় সে পরিমাণ রাস্তা প্রস্তুত নয়। রাস্তা সমূহের নানা সংস্কাররে কাজে ধ্বজভঙ্গ অবস্থায় পডে আছে। খুড়া খুড়ি মেরামত অথবা থালা খন্দকে রাস্তার করুণ অবস্থা নগরবাসী ভোগ করছে। জনগনের চাপের ও চাহিদার সাথে গণ পরিবহণ নানা নামে রাস্তায় বের হয়ে পড়ছে। সে ক্ষেত্রে জনগন ভোগান্তির সাথে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে পরিবহণ পাচ্ছে। নগরবাসী ও পরিবহণের চাপের সাথে রাস্তা কিন্তু বাড়ছেনা। নগর এলাকায় কী পরিমাণ বাস, টেম্পু, রিক্সা আরো অন্যান্য গণ পরিবহণ চলতে পারবে তার একটা হিসেব থাকা দরকার। প্রয়োজন অপ্রয়োজন ইচ্ছে হলেই রাস্তায় যাত্রী পরিবহণ নামিয়ে দিলেই যাত্রীদের সমস্যার সমাধান হয়না। কোন্ রোডে কী পরিমাণ যাত্রী পরিবহণ দরকার আছে তা নির্ণয় থাকা দরকার। গাড়ীর মালিক শ্রমিকদের ইচ্ছে হলেই যে, রাস্তায় যাত্রী পরিবহণ নামিয়ে দিবে তা হয়না, এখন মনে হচ্ছে সেভাবেই রাস্তায় গাড়ী নামছে। শ্রমিক মালিক প্রশাসন যোগ সাজসে যত্রতত্র গণ-পরিবহণ নেমে পড়ছে। এখানে গাড়ীর যাবতীয় কাগজ পত্র পরীক্ষা নিরিক্ষা ও ঠিকভাবে করা হচ্ছেনা বলে সচেতন মহল মনে করছে। এসব বিষয়ে গাড়ীর মালিক শ্রমিক, প্রশাসনকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। নগরীতে কী পরিমাণ প্রতিদিন গাড়ী রাস্তায় নামছে তাও দেখতে হবে। জনপ্রয়োজন ও চাহিদার কথা চিন্তা করে গণ-পরিবহণ দরকার আছে। কিন্তু সেটা হতে হবে সমন্বয় ও সুশৃংখলভাবে। এখন রাস্তায় গণ-পরিবহণ বলতে যা বুঝায় সে ধরণের পরিবহণে রাস্তা মনে হয় ভার সইতে পারছেনা। রাস্তায় কোনো ধরনের পরিবহণের অভাব নেই । কিন্তু রাস্তা বাড়ে নাই, নতুন নতুন গাড়ীর প্রাচুর্য রাস্তায় দেখতে পাওয়া যায়। মনে হয় এসব পরিবহণ অনুমোদনবিহীনভাবে চলছে। তাদের ভাড়ার তালিকা, রাস্তার নাম্বার, কোন রোডে কী পরিমাণ গাড়ী থাকা চায়, চলতে দেয়া যায়, সব কিছুতেই একটা শৃংখলার দরকার মনে করে সচেতন নগরবাসী। কী পরিমাণ রিক্সা চলছে তার কোন হিসেব আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অনোমোদিতভাবে কতো হাজার রিক্সা চলছে সেটারও হিসেব নেই। আর অবৈধভাবে কত হাজার রিক্সার চলাচল সব কিছুর একটা পরিমাণ ও হিসেব প্রশাসনের থাকা উচিৎ। প্রতিদিন হাজার হাজার পেডেল চালিত রিক্সা, অটোরিক্সা, ব্যাটারী রিক্সা নানা ধরন ও নামের রিক্সা নগরজুড়েই চোঁখে পড়ছে। কারা এসব পরিবহণের অনুমতি দেয় অথবা দেখাশুনা করছে জনগণ তা অবগত নয়। এসব গাড়ীর অনুমতি থাকলে কোন কোন এলাকা পর্যন্ত তাদের সীমানা সেটাও ঠিক করে দেয়া দরকার। এক রাস্তার গাড়ি অন্য রাস্তায় গিয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। রাস্তার উভয়ধারে এখন গণপরিবহণ ও রিক্সায় ভরপুর। সারা শহরকে রিক্সা আর অটোরিক্সার নগরী বললে ভুল হবেনা। তাদের ভাড়ার কোনো সীমা ও ন্যায্যতা নেই। ইচ্ছেমতো ভাড়া হাকায় তারা। টাকা যেনো গাছের পাতা। যাত্রীদের থেকে চেয়ে বসে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ। ফলে ঝগড়াঝাটিও হয়। এখন এসব রিক্সা ও টেম্পু, ৪ স্টোক গাড়ীর আসলে কী পরিমাণ ভাড়া চাওয়া ও নেয়ার সীমা থাকা চায় তাও গাড়ীর মালিক শ্রমিকদের সাথে প্রশাসনকে ঠিক করে দিতে হবে। পরিবহণের নির্দিষ্ট রোড ঠিক করে দিতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ও অতিরিক্ত রিক্সা টেম্পু শহর থেকে আউট করে দিতে হবে। কতো হাজার রিক্সা নগরীতে চলছে ও চলতে পারবে সেটার হিসেব সংশ্লিষ্টদের নিকট থাকতে হবে। অবৈধ গনপরিবহণের কারণে রাষ্ট্র লাখ লাখ টাকার ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে হিসেবে সব পরিবহণকে একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় আনতে হবে। পরিবহণ নিয়ে যাত্রী ভোগান্তির শেষ নেই। যত সব সেবামূলক সেক্টর আছে তন্মধ্যে পরিবহণ সেক্টর-ই হচ্ছে উশৃংখল একটি সেক্টর। নগরবাসীর শৃংখলাপূর্ণ জীবন চালনায় পরিবহণের শৃংখলা রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। অবৈধ পরিবহণ উচ্ছেদ ও বৈধ পরিবহণ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রোড ও নির্দিষ্ট ভাড়া ঠিক করে দিতে হবে। কী পরিমাণ গাড়ী রাস্তায় চলবে সেটা ও ঠিক করার দায়িত্ব প্রশাসনের। নগরবাসীর নিরাপদ চলা ও ভাড়ায় নৈরাজ্য বন্ধে কঠোরভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নগরীর সবগুলো রোডেই পরিবহণ সেক্টরের বিশৃংখল অবস্থা। এটাকে শৃংখলায় এনে নগরবাসীর নাগরিক জীবন ও চলাচলকে নির্বিঘœ ও নিরাপদ করতে প্রশাসন মালিক শ্রমিক যাত্রী সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আরো খবর

Leave a Reply