বাংলাদেশ, সোমবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লামায় সরই এলাকার ইউপি সদস্যের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

লামা,বান্দরবান প্রতিনিধি
লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্য’র নেতৃত্বে পূনর্বাসিত ৬ পরিবারসহ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি জবর দখল পায়তারার অভিযোগ। এই চক্রটির বিরুদ্ধে ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে বিশ বছর পুর্বে মৃত্যুবরণ করা জনৈক শাহ জালাল নামের একজনকে বিক্রেতা হিসেবে জীবিত দেখিয়ে দলিল সৃজনের ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে।
এই জালিয়াত চক্রের রোষানলে পতিত গ্রামের পূনর্বাসিত ৬ পরিবার এখন নানা আশংকায় দিন কাটাচ্ছে। সরই ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য জামাল উদ্দিন এই চক্রের হোতা বলে নির্যাতিত পরিবারগুলো দাবী করেছে। ১২ নভেম্বর দুপুরে গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী-পুরষ লামা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের নিকট এসব দূর্দশার কথা বর্ণনা করেন। গ্রামবাসীরা জানায়, ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে মনগড়া কাগজপত্র দেখিয়ে দরিদ্র স্বামী পরিত্যাক্তা নারী ও অসহায় মানুষের জমি জবর দখল করে চলছে। এসব অন্যায় অত্যাচারের বিচারতো তারা পায় না, উল্টো ভূমির প্রকৃত মালিকদেরকে মারধর করে, নানান ধরনের হুমকী দিচ্ছে মেম্বার জামাল উদ্দিন।
স্বামী পরিত্যাক্তা জাহানারা বেগম জানান, মাস খানেক আগে তার সতিনের মেয়ে ও নাতী নাতনীদের নামীয় ভোগদখলীয় জমি দখলের জন্য জামাল মেম্বারগং হামলা করে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে। হামলার শিকার হয়ে এই মহিলা প্রায় ১ মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছে। জামাল মেম্বার প্রভাবশালী হওয়ায় নির্যাতিতরা অত্যাচারের কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে জানান। নির্যাতিতা সখিনা বেগম জানায়, উক্ত মেম্বার মনগড়া কাগজ দেখিয়ে তার ৪ একর জমি দখল করার জন্য জোর প্রয়োগ করে চলছে। একই কায়দায় পুনর্বাসিত শরীফুলের ৪ একর ও মো: ফিরোজ-এর ২ কানি জমি মেম্বার জামাল উদ্দিনগং জবর দখলের পায়তারা করছেন বলে জানান, ভুক্তভোগি এসব নারী-পুরষ।
লামা উপজেলা সাব কবলা দলিল নং-৫৫১/১৭ মূলে জানাযায়, ৩০৩ নং ডলুছড়ি মৌজাস্থ আর ৬৪০ নং হোল্ডিং-এর আন্দর ৪ একর ৪০ শতক জমির যৌথ ক্রেতা হলেন, মঞ্জুর আলম, মো: মাকছুদুল আলম ও ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। বিক্রেতা দেখানো হয় মো: শাহ জালাল, পিতা মেহব্বত আলী নামের একজনকে। গ্রামবাসী কয়েকজন জানান, দলিলে উল্লেখিত বিক্রেতা শাহ জালাল নামের ওই লোক বেঁেচ নেই, সে বিগত ২০/২৫ বছর আগে মৃত্যু বরণ করেছে।দলিলে জা.প.প. নং উল্লেখ রয়েছে, ১১৯৯১৫৫২১৩৫২১ (!)। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, উল্লেখিত নাম্বার সমুহের এক থেকে সাত পর্যন্ত সংখ্যার কোন অস্তিত্ব নেই জাতীয় পরিচয়পত্রের কোন সিরিয়ালে। এদিকে মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে করা সাব কবলা নামজারী দলিল বিগত ১৫ জুন/১৭ তারিখে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কর্তৃক চুড়ান্ত অনুমোদনের নির্দেশ হয়। গ্রামবাসীরা জানায় উক্ত দলিল বাতিলের জন্য তারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে চাইলে, লামা উপজেলার কোন দলিল লেখক এই আবেদন লিখতে রাজি হননি।
এসব ব্যাপারে সরই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, তিনি এধরনের কোন প্রকার জোর জুলুম করেননি। অভিযোগকারীদের সাথে তার জমি নিয়ে কোন ধরণের সীমানা বিরোধ নেই। অপরদিকে সরই ইউনিয়নের আন্দারী জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাদী হয়ে, জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুলের জমি দখলের প্রতিকার চেয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী আদালতে একটি অভিযোগে স্পষ্টভাবে জামাল উদ্দিন মেম্বারের নাম উল্লেখ রয়েছে। জামাল উদ্দিন মেম্বার আপিলের মাধ্যমে মামলাটি বর্তমানে বান্দরবান জজ কোর্টে নিয়ে যায়। এ নিয়ে জামাল মেম্বারগং ক্ষুদ্ধ হয়ে অসহায় গ্রামবসীদের উপর নানানভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন পূর্বক হয়রানী করে চলছে।বর্তমানে অসহায় এ ক’টা পরিবার জামাল মেম্বার কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশংকায় ভোগছেন।
এ বিষয়টির প্রতি আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা নজর দেয়া প্রয়োজন রয়েছে সচেতন মহলের দাবী।

আরো খবর

Leave a Reply