বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০১৯ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরানো হবে: সু চি

অং সান সু চি আবারও রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।

সোমবার ৩১ তম অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্স (আসিয়ান)-এর সম্মেলনের প্লেনারি অধিবেশনে এই প্রতিশ্রুতি দেন সু চি।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ম্যানিলা বুলেটিন জানায়, আসিয়ান সম্মেলনের সভাপতিত্ব করা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মুখপাত্র হ্যারি রক জুনিয়র জানান, সম্মেলনে মিয়ানমারের কাছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই উদ্বেগের পর সু চি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

দুয়ার্তের মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান, ফিলিপাইন শুধু মারাউই শহরের বাস্তুচ্যুতদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সহযোগিতা প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছে।

হ্যারি রক জানান, সম্মেলনে যখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা জানতে চাওয়া হয় তখন মিয়ানমার জানায় কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক খবরে জানিয়েছে, আসিয়ান সম্মেলনের খসড়া ঘোষণায় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার সম্মেলন শেষে এই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা পাঠ করা হবে। ঘোষণার একটি অনুচ্ছেদে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনে মানবিক সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে রাখাইনে ‘আক্রান্ত সম্প্রদায়’কে মানবিক সহযোগিতার কথা শুধু উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযানের মুখে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে কোনও বক্তব্য নেই।

চলমান রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে আসিয়ান সদস্য মালয়েশিয়া উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। তবে আসিয়ানের নীতি সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কথা না বলার কারণে বিষয়টি সম্মেলনের আলোচ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় রোহিঙ্গা ইস্যু না থাকায়।

প্রসঙ্গত, ২৫ অগাস্ট থেকে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। অভিযান শুরুর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে। রোহিঙ্গাদের দুর্দশায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে খোদ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টেনিও গুতেরেস অভিযোগ করেন, রাখাইনে জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে।

আরো খবর

Leave a Reply