জানুয়ারি ২৯, ২০২২ ৫:১০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম ডিসি হিলে সংস্কৃতি চর্চা বন্ধের প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের প্রতিবাদ ও বিবৃতি

 

চট্টগ্রাম ডিসি হিলে সংস্কৃতি চর্চা বন্ধের প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. অনুপম সেন ও সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন আহমদ ইকবাল হায়দার এক বিবৃতিতে জানান চট্টগ্রামে সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ডিসি হিল মুক্তমঞ্চ। এই মুক্তমঞ্চটি সকলের কাছে বর্তমানে নজরুল স্কয়ার নামে পরিচিত। এখানে সংস্কৃতিচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এই মুক্তমঞ্চে নিয়মিতভাবে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা তথাÑ সাংস্কৃতিক উৎসব, বিজয় উৎসব, পথ নাটক, আবৃত্তি অনুষ্ঠান, নৃত্য অনুষ্ঠান, সঙ্গীত অনুষ্ঠান প্রভৃতি মঞ্চস্থ করে থাকে। এই আয়োজনগুলো অসাম্প্রদায়িক বাঙালি সাংস্কৃতিক ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে।
বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকার জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করার জন্য সংস্কৃতি চর্চাকে বেগবান করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই কারণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংঘ ও গোষ্ঠীকে উদার হস্তে আর্থিক অনুদান ও নানাবিধ সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করেছে, যা ইতিপূর্বে কোন সরকারই করেনি।
চট্টগ্রাম ডিসি হলে সংস্কৃতিচর্চা বন্ধের যে অনাকাক্সিক্ষত ও অকাম্য সিদ্ধান্ত বর্তমান স্থানীয় প্রশাসন গ্রহণ করেছেন তা পক্ষান্তরে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর উত্থানকেই ত্বরান্বিত করবে বলে আমরা আশংকা করছি। এই সিদ্ধান্ত সরকারের গৃহীত সংস্কৃতিচর্চাকে বেগবান করার কর্মসূচীকে বিরাটভাবে ব্যাহত করবে না-কি!
এটা কি কোনভাবেই কাম্য?
আমাদের স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি কোন বিদ্বেষ বা বিরাগ নেই।
আমরা চাই, তারা বাংলাদেশের গণমানুষের সঙ্গী হয়ে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিচর্চার যে বিপুল প্রয়াস ও আয়োজন তাকে এগিয়ে নেবেন, তার বিরুদ্ধাচারণ করবেন না।
এখানে উল্লেখ্য যে, বিগত সময়ে ডিসি হিল মুক্তমঞ্চে প্রতিটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে ২০০০ টাকা করে ভাড়া গ্রহণ করতেন। ডিসি হিলের আলোক ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটি নিয়মিতভাবেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন করে এসেছে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোক স্বল্পতা, নিরাপত্তাহীনতা ও বিভিন্ন অযৌক্তিক অজুহাতে বর্তমানে ডিসি হিলে সাংস্কৃতিকচর্চা বন্ধ করে দেয়ার যে-সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত। এছাড়া, ডিসি হিল মুক্তমঞ্চটি মূলত সরকারের জায়গা। সরকারকেই চূড়ান্তভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কোনভাবেই এই মুক্তমঞ্চে সংস্কৃতিচর্চা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
চট্টগ্রামের সুস্থ-সংস্কৃতি-চর্চা বেগবান করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে আওয়ামী সরকারই চট্টগ্রাম ডিসি হিল মুক্তমঞ্চ ও দর্শক গ্যালারি তৈরি করে দিয়েছেন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য। এছাড়া শহীদ মিনার, মুসলিম হল ও ডিসি হিলকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির প্রকল্প ইতিমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একনেকে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে আমরা জানি।
যাঁরা সংস্কৃতি চর্চায় নিয়মিতভাবে নিয়োজিত তাঁদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন ক’রে এবং কোন্ কোন্ বিষয় বিবেচনায় রেখে কি ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে সে-ব্যাপারে একটি নীতিমালা তৈরির জন্যও আমরা সচেষ্ট। এই নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে আমরা বহুদূর এগিয়েছি। আমরা অপসংস্কৃতির ঘোর বিরুদ্ধে, শব্দ দূষণেরও বিরুদ্ধে। ডিসি হিল যেহেতু সংস্কৃতিচর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গত তিন দশক ধরে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এসেছে, সেহেতু এই কেন্দ্রটিকে সংস্কৃতির শুদ্ধ চর্চার কেন্দ্র হিসেবে আমরা চট্টগ্রামের সংস্কৃতি-কর্মী ও সাধারণ জনগণ হৃদয়ে লালন করে আসছি। এখানে যেন কোন অপসংস্কৃতি প্রশ্রয় না-পায়। শব্দদূষণ যেন জনচিত্রকে পীড়িত না-ক’রে সে ব্যাপারে আমরা সচেতন।
আমরা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনকে আহ্বান জানাই তারা যেন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডিসি হিল প্রাঙ্গণ যেটি জনগণ ও সংস্কৃতি-কর্মীদের বহুদিনের মিলনক্ষেত্র সেটিকে যথার্থ সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদারভাবে এগিয়ে আসেন এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার জন্য এই প্রাঙ্গণটি সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply