চট্টগ্রামে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট

  প্রিন্ট
(Last Updated On: আগস্ট ২৩, ২০১৭)

চট্টগ্রামে কোরবানীর পশুর বাজার ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে। কোরবানির আরো অন্তত ১২-১৩ দিন বাকি থাকলেও বাজারের পরিধি বাড়ছে। তবে এবার নগরী ও নগরীর বাজারগুলোতে দেশী গরু বেশি চোখে পড়ছে। বরাবরের মত ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা গরু মিললেও সংখ্যায় কম। গরুর পাশাপাশি প্রচুর মহিষও মিলছে এখনই। এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর অস্থায়ী ও স্থায়ী বাজারগুলোতে খুঁটি বাণিজ্য শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট। এতে বিক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। তবে রোববার নগর পুলিশ খুঁটি বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চার দফা সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। পুলিশ বলছে, এবার খুঁটি বাণিজ্য কঠোর ভাবে দমন করা হবে।

বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ঢুকছে কোরবানির পশু। উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য জেলাগুলো থেকে দেশি গরু সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জড়ো করছেন। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে খামারিরা কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত পশু মজুদ গড়ে তুলেছেন। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় ছোট ছোট তাঁবু খাটিয়ে পশু জড়ো করা হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, যে হারে কোরবানীর পশু বাজারে দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হয় সঙ্কট থাকবে না। ক্রেতাদের মতে বাজারে শুরুর দিকে সরবরাহ ঘাটতি থাকে না। শেষ দিকে দেখা দেয় পশু সঙ্কট। তাই শেষ মুহূর্তের অবস্থা যাচাই না করে বাজারের ভবিষ্যত বলা যাবেনা।

নগরীতে সিটি করপোরেশন পরিচালিত আটটি বাজার আছে। এর মধ্যে দুটি স্থায়ী ও ছয়টি অস্থায়ী। বিবিরহাট ও সাগরিকা গরুর বাজার স্থায়ী হাট। কর্ণফুলী পশু বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং বাজার, স্টিল মিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, পোস্তারপাড় স্কুল মাঠে ছাগল বাজার ও কমল মহাজন হাট- এছয়টি অস্থায়ী বাজার। এসব বাজারেই মূল কোরবানির পশু বেশি কেনাবেচা হয়।

কোরবানি ঈদের সময় আরো অনেক বাকি থাকলেও নগরীর অভ্যন্তরের বাজারের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সেখানে জড়ো করছেন গরু মহিষ। ক্রেতারাও দরদাম করে চলেছেন সেই সব বিক্রয় কেন্দ্রে। রাউজানের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে অস্থায়ী তাঁবু করে মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা বিক্রয় কেন্দ্র খুলেছেন। প্রতিটি তাঁবুতে রাখা আছে ২০ থেকে শতাধিক গরু। এলাকার অনেকেই বলেছেন হাটবাজারে গিয়ে পশু কেনার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এসব তাঁবু থেকে দেখে শুনে পছন্দের পশুটি কিনে রাখছেন। উপজেলার কদলপুর, নোয়াজিশপুর, গহিরা ও হলদিয়া ইউনিয়নে বিক্রয় কেন্দ্র বেশি চোখে পড়ছে। এসব কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সাইজের পশু।

সীতাকুন্ড মিরসরাই এলাকায় অনেকে খামার গড়ে তুলেছেন। রাজশাহী, বগুড়া, কুষ্টিয়াসহ পার্বত্য অঞ্চল থেকে গরু এনে এখানে খামারে লালন পালন করে বড় করেছেন খামারিরা। এখন বিক্রয় কেন্দ্র করে কোরবানির ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষা করছেন বিক্রেতারা।

বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে কোরবানির পশুর অস্থায়ী বিক্রয় কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রগুলো এখন পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০টি গরু। কোরবানির আগে পশুর মজুদ আরো বাড়তে পারে বলে স্থানীয় বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

সরেজমিন নগরীর বিবিরহাট বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাজারে ধীরে ধীরে বাড়ছে গবাদি পশুর সংখ্যা। ভারত ও মিয়ানমারের গবাদিপশু থাকলেও দেশী গরুর সংখ্যাই বেশি। ক্রেতারা দরদাম হাঁকছেন। দু’একজন আগেভাগে কিনেও নিচ্ছেন।
বিক্রেতারা দিদারুল আলম জানান, শহরের ক্রেতারা গরু কিনবে আরো পরে। কারণ রাখার জায়গা নেই। যাদের কোরবানির পশু রাখার জায়গা বা সুবিধা আছে তারাই কেবল আগেভাবে কিনছেন। এজন্য বাজার জমে উঠছে ধীরে।

এদিকে বরাবরের মত বিক্রেতাদের মধ্যে এবারও শঙ্কা খুঁটি বাণিজ্য নিয়ে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতি বছর পশুরহাটে খুঁটি বিক্রি করেন চড়া দামে। আর এ খুঁটি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে সিন্ডিকেট। তাতে শুধু বিক্রেতারা নন ক্রেতারাও পড়েন ক্ষতির মুখে। তবে পুলিশ প্রশাসন এবার খুঁটি বাণিজ্য বন্ধে আগেভাগে তৎপর। কঠোর অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। তবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততা থাকায় আদৌ কতটা কঠোর অবস্থানে থাকতে পারবে সেটা নিয়ে সংশয় আছে। খুঁটি বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আছে পুলিশের মধ্যে।

কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর নগরীতে খুঁটি বসিয়ে সেগুলো বেপারিদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। খুঁটিতে গরু রেখে বিক্রির বিনিময়ে নিজেদের মর্জিমতো ভাড়া নির্ধারণ করে রাজনৈতিক দল বিশেষ করে সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন। প্রতিবছর খুঁটি বসানো নিয়ে সংঘাতের ঘটনাও ঘটে।

বিষয়টিকে খুঁটি বাণিজ্য আখ্যা দিয়ে সংঘাতের আশংকা এবারও করছে নগর পুলিশ। এজন্য আগেভাগেই খুঁটি বাণিজ্য বন্ধে কঠোর থাকার কথা বলছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অপরাধ সভায় খুঁটি বাণিজ্যের প্রসঙ্গ এসেছে। একইসঙ্গে ট্রাকে প্রাণী পরিবহন, কোরবানির বাজার ও ঈদুল আজহার নিরাপত্তার প্রসঙ্গও আলোচিত হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার খুঁটি বাণিজ্য যে কোনভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। খুঁটি বাণিজ্য নিয়ে সংঘাতের সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং উপ-কমিশনারকে (ডিসি) জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।

সূত্রমতে, সভায় চারটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। একটি হচ্ছে, সিটি করপোরেশনের ইজারা দেয়া বাজারের বাইরে নগরীর কোথাও খুঁটি বসিয়ে কিংবা অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বাজার বসিয়ে কোরবানির প্রাণী বিক্রি করা যাবে না।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে প্রতিদিন দুটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। এতে সার্বিক সহায়তা দিবে নগর পুলিশ। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত বাজারের বাইরে কোন বাজার বসানো তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তৃতীয়টি হচ্ছে, কোরবানির প্রাণীবোঝাই পরিবহন থামিয়ে তল্লাশি করা যাবে না। কোন ধরনের সিগন্যালও দেয়া যাবে না। কোন সার্জেন্ট কিংবা থানার পুলিশ সদস্য এই কাজ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চতুর্থটি হচ্ছে, প্রাণীবোঝাই পরিবহন থামিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করতে হবে। এই অভিযোগ যার বিরুদ্ধে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password