ছাত্রলীগ ক্যাডারকে সিইসি বানিয়ে আরেকটি ৫ জানুয়ারি তৈরীর পায়তারা করা হচ্ছে-শামসুজ্জামান দুদু

  প্রিন্ট
(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭)

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দল কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘পাশ^বর্তী একটি দেশকে খুশি করতেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে সুন্দরবনকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর এক সময়ের ছাত্রলীগের ক্যাডারকে সিইসি বানিয়ে আওয়ামী লীগ আরেকটি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। আমরা সেটা জাতিকে জানিয়েছি। গণতন্ত্রকে কবরস্থ করার যে নির্বাচন, সেটা এ সরকার, এ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।’ তিনি বুধবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনস্থ হোটেল এশিয়ান এসআর হলরুমে কৃষকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি কৃষকদলের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম। উত্তর জেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম লতিফীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এম এ তাহের। প্রধান বক্তা ছিলেন কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো.জসীম। অতিথি ছিলেন জামাল উদ্দিন খান মিলন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি চাকসু ভিপি মো.নাজিম উদ্দিন, ইসহাক কাদের চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের লক্ষিপুর জেলার সভাপতি আমির হোসেন চাষী, ফেনির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নোয়াখালী জেলার আহ্বায়ক এডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, বান্দরবানের সভাপতি মো.ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি সৈয়দ মো.সাইফুদ্দিন, রাঙ্গামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক ইকরাম হোসেন বেলাল, কক্সবাজার জেলার সভাপতি এড.তরিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি এম এ হান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো.সেলিম চেয়ারম্যান, সৈয়দ নাছির উদ্দিন, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, রাঙ্গুনীয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, হাটহাজারী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন প্রমুখ।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশে এখন গভীর সংকটময় অবস্থা বিরাজ করছে। লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আজ বাকশাল ও স্বৈরাচারের কাছে বন্দি। দেশে মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই। নেই বিএনপিসহ ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের অনুমতি। বিএনপি কোন সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ ও সরকার তার অনুমতি দেয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোন সমাবেশ করলে দুই চারদিন আগে থেকে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়। ওবায়দুল কাদের সাহেব সব সময় মিডিয়া কাভারেজের জন্য বালকসুলভ কথাবার্তা বলেন। ওনি কখন যে বড় হবেন কে জানে। আদো হতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। পুলিশকে একটু পুলিশের মত রাখেন না, তারপর মাঠে নামেন দেখি, আমরাও নামব। আপনি পুলিশ-র‌্যাব নিয়ে চলবেন, মাঝে মাঝে মিলিটারিও সাথে রাখবেন, বিএনপিকে আক্রমণের মুখে রেখে শক্ত করে দাঁড়াতেও বলবেন।
এগুলো বালসুলভ আচরণ ও কথা। আপনার বয়স আর কত বাড়লে আপনি বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন হবেন। আপনি আর কত বড় হলে কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন হবেন। আপনার বয়স তো পয়ষট্টি বা সত্তরের কাছাকাছি বোধহয়। এত বুদ্ধিহীনভাবে কথা বলেন কেন? আসেন না একদিন খোলা মাঠে মিটিং করি, চট্টগ্রামে আসেন। আপনি প্রথম দিন মিটিং করেন। আমরা পরের দিন করব। যদি আপনি আমাদের থেকে অর্ধেক লোক দেখাতে পারেন তারপরও আপনাকে আমরা সফল বলব। আমাদের যে জনসমর্থন আপনি তো মিটিংই করতে দেন না।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘বর্তমান নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া আমাদের জন্য অনেক করেছেন। এখন আমাদের করার পালা। আমরা যদি কিছু করতে না পারি তাহলে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে পারবো না। কারণ কারো করুনায় আমরা দল করি না। সামনের নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগের গুন্ডাদের প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ সাবেকপ্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ওনাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। সপ্তাহে দুইদিন করে আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি কিসের লক্ষণ? বিশে^র কোথাও এ ধরণের ঘটনার কোন নজির আছে বলে আমি মনে করি না। বেগম জিয়া কি করেছেন? ওনার দোষ ওনি অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন না। বেগম জিয়া গণতন্ত্র ও জনগণের কথা বলেন। সমারিক শাসন নিয়ে শেখ হাসিনা অনেক কথা বলেন। যদি ওনার এত হিম্মত থাকে তবে তিনি ফখরুদ্দিনের বিচার কেন করেননি। শেখ হাসিনা মাঝে মাঝে বলেন, আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফল নাকি ফখরুদ্দিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ফখরুদ্দিন অনেকবার বেগম জিয়ার পায়ে পড়েছেন শুধু তাকে বৈধতা দেয়ার জন্য। কিন্তু বেগম জিয়া অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। কারণ বেগম জিয়া শহীদ লাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। অন্যদিকে ১৯৮৪ সালের মতো শেখ হাসিনা পল্টি খেয়েছেন। তবে সময় ঘনিয়ে এসছে। সবকিছুর একটা শেষ আছে। শেখ হাসিনারও শেষ হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে জনঅভ্যুত্থানের জন্য। তিনি বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সকল আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password