সুনামগঞ্জে ৪৬ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হলেও স্থানীয় ভাগীদাররা ধরাছোয়ার বাইরে

  প্রিন্ট
(Last Updated On: জুলাই ৩, ২০১৭)

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা 
শেষ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি দায়ের করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ ফারুক আহমেদ। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং ২ তাং ২/৭/২০১৭ইং। বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ১৬৬/৪০৯/৫১১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় দায়েরকৃত মামলায় ১৫ জন কর্মকর্তার পাশাপাশি ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামী করা হয়। আসামীরা হচ্ছেন,টাঙ্গাইলের আকুর টাকুরপাড়ার সুর্য্য মঞ্জিল বাসভবনের বাসিন্দা নির্মাতা (ঠিকাদারী) প্রতিষ্ঠান মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটর মোঃ আফজালুর রহমান মাহবুব,ফরিদপুরের গোয়াল চামট এলাকার ঠিকাদার খন্দকার শাহীন আহমেদ,সিলেটের মদিনা মার্কেট এলাকার পল্লবী ১২/১নং বাসভবনের বর্তমান বাসিন্দা দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কামরিবীচ গ্রামের ঠিকাদার,মেসার্স মাহিন কন্সষ্ট্রাকশনের প্র্পোাইটর মোঃ জিল্লুর রহমান,সিলেটের বাগবাড়ী এলাকার প্রমুক্ত ১৯৭ নং বাসভবনের বাসিন্দা ঠিকাদার সজীব রঞ্জন দাস,সুনামগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডের দিগন্ত ৩ নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স এলএন কন্সট্রাকশন এর প্রোপাইটর পার্থসারথী পূরকায়স্থ, সিলেটের জালালাবাদ এলাকার ১০/৪ নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর হান্নান আহমদ ওরফে মুরগী হান্নান, সুনামগঞ্জের স্টেশন রোডের বাসিন্দা মেসার্স নূর ট্রেডিং এর প্রোপাইটর খায়রুল হুদা চপল,পটুয়াখালী জেলার সবুজবাগ এলাকার ঠিকাদার কামাল হোসেন,সুনামগঞ্জের ষোলঘর আবাসিক এলাকার সুরমা ২৭নং বাসভবনের বাসিন্দা বিএনপি নেতা কাজী নাসিম উদ্দিন লালা,সাতক্ষীরা জেলার আমতলা কটিয়া এলাকার ঠিকাদার খন্দকার আলী হায়দার, মৌলভীবাজার জেলা সদরের পশ্চিম বড়হাট এলাকার ঠিকাদার মোঃ আকবর আলী,খুলনার ২নং লেন এর ১৮ গগনবাবু রোডের বাসিন্দা আমিন এন্ড কোম্পানীর প্রোপাইটর মোঃ রবিউল আলম,ঢাকার খিলগাও এলাকার ২৩০/বি নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স বোনাস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর মোঃ আবুল হোসেন,সুনামগঞ্জ স্টেশন রোডের বাসিন্দা মেসার্স বসু নির্মাণ সংস্থার প্রোপাইটর শুভব্রত বসু,জামাইপাড়ার মোহনা ১১ নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স হাছান এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মোজাম্মেল হক মুনিম,ঢাকার ৯৯ মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকার ৬নং ফ্লোরের করিম চেম্বারের মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্স এন্ড শামীম আহসান এর প্রোপাইটর মোঃ বাচ্চু মিয়া,ময়মনসিংহের ১৯ অতুল চক্রবর্তী রোডের বাসিন্দা মেসার্স এম রহমানের প্রোপাইটর শেখ মোঃ মিজানুর রহমান,সুনামগঞ্জ স্টেশন রোডের বাসিন্দা মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর আবুল মহসীন মাহবুব, শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকার নিলয় ১৩ নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স মালতি এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পী,সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার ২৮ ব্রাহ্মণপাড়া বাসভবনের বাসিন্দা ঠিকাদার মোঃ জামিল ইকবাল, সিলেটের দাড়িয়াপাড়ার সি-২১নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স নিম্মি এন্ড মুমু কন্সট্রাকশনের প্রোপাইটর চিন্ময় কান্তি দাস, ঢাকার ১৫৪ মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকার ৩য় তলার ৩০১-৩৩নং কক্ষের বাসিন্দা মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স এর প্রোপাইটর নিয়াজ আহমেদ খান, সুনামগঞ্জের নতুনপাড়া নিলয় ৬১নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স প্রীতি এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মিলন কান্তি দে, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর রবীন্দ্র স্মরণীর বাসিন্দা মেসার্স আর আর ট্রেডিং এর প্রোপাইটর খান মোঃ ওয়াহিদ রনি, সুনামগঞ্জের আরপিননগরের সৈকত ৩নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স শোয়েব এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মোঃ শোয়েব আহমদ,চট্টগ্রাম জেলার পাচলাইশ থানার ১নং রোডের হিলভিউ আবাসিক এলাকার ৫৫৩ নং প্লটের এএস টাউয়ারের ৯ম তলার বাসিন্দা মেসার্স ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্সের প্রোপাইটর মোঃ ইউনুছ,হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার ঠিকাদার মোঃ আব্দুল কাইয়্যুম,সুনামগঞ্জ পৌরসভার নতুনপাড়া আবাসিক এলাকার ঠিকাদার মোঃ আতিকুর রহমান,রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার কোর্ট এলাকার ঠিকাদার মোঃ গোলাম সারোয়ার,মৌলভীবাজার জেলা সদরের কোর্টবাড়ী আজাদাবাদ বাসভবনের বাসিন্দা মোঃ কামরুজ্জামান কন্সস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর মোঃ খাইরুজ্জামান, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার আগলা সদরপুর এলাকার মচাইনগর গ্রামের ঠিকাদার মোঃ মফিজুল হক,ঢাকার হাতিরপুল সোনারগাও এলাকার ইস্টার্ণ প্লাজার ৮ম তলার ২১-২৪নং কক্ষের বাসিন্দা ঠিকাদার মোঃ মোখলেছুর রহমান,সুনামগঞ্জ পৌরসভার উকিলপাড়া আবাসিক এলাকার ঠিকাদার মোঃ নুরুল হক, বড়পাড়ার ঠিকাদার রেনূ মিয়া,চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঠিকাদার মোঃ শাহরিন হক মালিক,সিলেটের শাহজালাল উপশহরের মেইন রোডের মাল্টিপ্লান শাহজালাল সিটির হিজল ৭/বি নং বাসভবনের বাসিন্দা ঠিকাদার মোঃ শামসুর রহমান বাবুল,কুমিল্লা জেলা সদরের হাউজিং এস্টেট সেকশন ২ এর ৩নং প্লটের বাসিন্দা মেসার্স ম্যাম কন্সট্রাকশন এর প্রোপাইটর আব্দুল মান্নান,সিলেটের মজুমদারী ১৩১নং মজুমদার বাড়ীর বাসিন্দা ঠিকাদার মোকসুদ আহমদ, ঢাকার মতিঝিল মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলার ৩০১-৩০৩নং কক্ষের বাসিন্দা মেসার্স নুনা ট্রেডার্স এর প্রোপাইটর মোঃ সাইদুল হক,সিলেটের রায়নগর দর্জিবন্ধ এলাকার বসুন্দরা ১২৩/৬নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স রাজেন কন্সস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর মোঃ মাহতাব চৌধুরী, ঢাকার ১৫৪ মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকার ওয়াপদা মসজিদ মার্কেটের ১০৮নং বাসভবনের বাসিন্দা মেসার্স এসএ-এসআই প্রাঃ লিমিটেড এর প্রোপাইটর কাজী হাসিনা আফরোজ, সাতক্ষীরা পৌরসভার পশ্চিম ইটাগছার বাসিন্দা ঠিকাদার শেখ আশরাফ উদ্দিন,চট্টগ্রামের চাদগাও আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের এইচ ২৪৩ নং বাসভবনের বাসিন্দা সোহেল কন্সস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর লুৎফুল করিম,কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার গোমতি আবাসিক এলাকার ৫০/এ নং বাসভবনের বাসিন্দা সৈকত কন্সস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর হাজী মোঃ কেফায়েতুল্লাহ, ঢাকার মতিঝিল ৮৬ আরামবাগ আবাসিক এলাকার খন্দকার ভবনের ৩য় তলার বাসিন্দা টেকবে ইন্টারন্যাশনাল এর প্রোপাইটর হুমায়ুন কবির,সেগুন বাগিচা আবাসিক এলাকার ৮নং বাড়ী সারিকা টাওয়ারের মোহাম্মদ উল্লাহর পুত্র ঠিকাদারের সহযোগী মোঃ ইকবাল মাহমুদ প্রমুখ। মামলায় উল্লেখ করা হয়,উপরোক্ত ঠিকাদাররা একে অপরের যোগসাজসে প্রতি বছরে বন্যা আসার সময় ও আশঙ্কা সম্মন্ধে অবহিত থাকা স্বত্তেও মৌলিক চুক্তি ভঙ্গ করত: ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের ৮৪টি প্যাকেজের অসমাপ্ত কাজ নতুনভাবে টেন্ডার আহবাণ না করে টেন্ডার ছাড়াই ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে পূর্বের ঠিকাদারগণকে ক্যারিওভারের মাধ্যমে কাজ সমাপ্ত করার অনুমতি দিয়ে মোট ১৬০টি প্যাকেজের মধ্যে ৯টি প্যাকেজের কাজ শুরু না করা এবং ১৫১টি প্রকল্পের কাজ আংশিক সম্পন্ন করার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভবিষ্যতে প্রকল্পের সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করার সুযোগ সৃষ্টি করত: প্রকারান্তরে কৃষকের ও জনসাধারনের আর্থিক ক্ষতিসাধন করে ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা তৎসহ দন্ডবিধি আইনের ১৬৬/৪০৯/৫১১/১০৯ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সুনামগঞ্জের সিভিল সোসাইটির লোকজন দাবী করেছেন কেবলমাত্র ঠিকাদারই নয় পাউবোর বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে ঠিকাদারদের স্থানীয় ভাগীদার অর্থাৎ সহযোগীরা। মামলায় অস্থানীয় ভাগীদার অর্থাৎ একজন সহযোগীকে আসামী করা হলেও স্থানীয় কোন সহযোগী বা ভাগীদারদেরকে আসামী করা হয়নি। সুনামগঞ্জবাসী অবিলম্বে ঠিকাদারদের দুর্নীতির সহযোগী ভাগীদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন,মামলাটি সবেমাত্র এফআইআর হয়েছে মাত্র এবং এটি দুদক নিজে তদন্ত করছে। আপাতত সকল আসামীরা পলাতক রয়েছে। আমরা দুদকের রিকুইজিশন পাওয়ার পর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করবো। মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ ফারুক আহমেদ জানান ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করেছি। পরবর্তী পর্যায়ে পিআইসির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা অথবা একই মামলার অভিযোগপত্রে পিআইসিকে সম্পৃক্ত করা হবে কিনা সে ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিবেন। স্থানীয় ভাগীদার (অংশীদারদের) মামলায় সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password