বাংলাদেশ, বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

রাষ্ট্রপতির গাড়ি আটকে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়ল ট্রাফিক পুলিশ

রাস্তার এক প্রান্ত দিয়ে আসছেন দেশের রাষ্ট্রপতি, আরেক প্রান্তে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। ভারতের বেঙ্গালুরুর ট্রিনিটি সার্কেলের ট্রাফিক সাব ইন্সপেক্টর এমএল নিজালিঙ্গাপ্পা ও কনস্টেবল বিশ্বনাথ রাও রাষ্ট্রপতিকে আটকে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকেই আগে যেতে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, তার এই নীতিসম্মত সিদ্ধান্ত এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা ও প্রশাসনিক পুরস্কার। গত শনিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির গাড়িবহর ট্রিনিটি সার্কেল হয়ে বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। সেই সময়ে রাস্তার অন্যপাশে ছিল রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। দ্রুত চিন্তা ‍জরুরি ছিল সাব ইন্সপেক্টর এমএল নিজালিঙ্গাপ্পা ও কনস্টেবল বিশ্বনাথ রাওয়ের। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানই প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। কিন্তু এই দুইজন সিদ্ধান্ত নিলেন রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে বরং অসুস্থ মানুষ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে প্রাধান্য দেবেন।
সাব ইন্সপেক্টর এমএল নিজালিঙ্গাপ্পা সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, রিচমন্ড রোড থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি আসছিল। প্রেসিডেন্টের গাড়ি ছিল মাত্র ১৫০ ফিট দূরে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি, আমরা ভিভিআইপির জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সকেই প্রাধান্য দিয়েছি। কনস্টেবল বিশ্বনাথ রাও বলেন, দুইজনই গুরুত্বপূর্ণ-একজন ভারতের রাষ্ট্রপতি আরেকজন রোগী। আমরা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এমন প্রেক্ষিতে সাধারণত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা চাওয়া হয়। কিন্তু ওই দুই ট্রাফিক সদস্য নিজস্ব বুদ্ধিতে সিদ্ধান্ত নেয়ায় বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার প্রাভিন সুদ বরং খুশিই হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা বরাবরই এই নির্দেশনা দিয়েছি যে যেকোনো জরুরি সেবা ভিভিআইপি থেকে প্রাধান্য পাবে। কিন্তু আমি অবশ্যই বলব বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ছিল না। আমাদের জন্য নির্দেশনা দেয়া সহজ, তারা উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে এবং এই দুই কর্মকর্তাকে যথোচিত পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এটা অন্যদের প্রতি একটা বার্তা যদি আপনি কোনো জরুরি সেবার যানবাহনকে প্রাধান্য দেন তাহলে কোনো কিছুই আপনার বিরুদ্ধে যাবে না। বরং আপনাকে পুরস্কৃত করা হবে। এনডিটিভি।

আরো খবর

Leave a Reply