বাংলাদেশ, সোমবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা কর্ণেল অলি আহমদ সমীপে

ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা(২০৭)

সাবেক মন্ত্রী কর্ণেল অলি আহমদ সমীপে,

মাননীয়,

সাবেক মন্ত্রী কর্ণেল অলি আহমদ সমীপে

শ্রদ্ধেয় অলি ভাইজানরে,

গরম গরম কথার শুরুতেই আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি, আল্লাহ্ মালিকের অপর মহিমায় ভাল থাকিয়া দেশের রাজনৈতিক এই ক্রান্তিকালে, মহা-সংকটে ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানান মেগানিজম তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া কৌশলে আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক নিবৃত পল্লীতে থাকিয়া শেখ হাসিনার সরকারের বদৌলতে বিদ্যুতের ঝিলিমিলি আলোকে রাত জাগিয়া জাগিয়াই গরম কথা লিখিয়া ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত খাইয়া না খাইয়া শাহ্ আমানত শাহ্ এর উছিলায় বাঁচিয়া আছি। গেলবার ভূমি প্রতি মন্ত্রী আপনারই ঘনিষ্ঠজন আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সমীপে গরম কথা লিখিবার আগে ও পরে দেশের আপনার অসংখ্য ভক্তকূল আপনার সমীপে লিখিবার জন্য অনুরোধ করিয়াছে বলিয়া এইবার আপনার সমীপে গরম কথা লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না। বরং মনযোগ সহকারে পড়িয়া দেখিবেন এবং যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন ও ভুল হইলে নিজ গুণে মাফও করিয়া দিবেন।

ভাইজানরে,

আপনি হইলেন দেশের একজন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী। ইহার চেয়েও বড় আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরবিক্রম পদধারী গর্বিত দেশখ্যাত আলোচিত ব্যক্তি। বিএনপি’র হাতে গোনা কয়েকজন সিনিয়র নেতার মধ্যে আপনি ছিলেন অন্যতম। বেগম খালেদা জিয়ার উপর রাগ করিয়া শালীন-অশালীন কথা-বার্তা বলিয়া বিএনপি ছাড়িয়া আসিয়াও মহাজোটের হইয়া এখনো বিএনপির পরিপূরক শক্তিতেই আছেন। বিএনপি ছাড়িয়া ‘এলডিপি’ করিয়া একক প্রচেষ্টায় দল ধরিয়া রাখা, চাঁঙ্গা করা ও ওইদলের প্রতীক লইয়া নির্বাচন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এই সব কারণেই আপনি দেশখ্যাত আলোচিত ব্যক্তি।

ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের ছিদ্দিকী ও আ.স.ম. আব্দুর রব ইহাদের মতো আপনার অবস্থান রহিয়াছে গোটা দেশে। এই সব বাঘা বাঘা নেতাদের চেয়েও আপনি নিজ নির্বাচনী এলাকা চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় আকাশ চুম্বী জনপ্রিয় নেতা। দুনিয়ার প্রতিবেশী শক্তিশালী দেশ ভারতের সাথেও আপনার সম্পর্ক ভালো বলিয়া শুনিতেছি। এমনটি আপনার বিপক্ষ দলের লোকেরাও আপনার জনপ্রিয়তার কথা স্বীকার করিয়া থাকেন। মন্ত্রী থাকাবস্থায় এলাকার উন্নয়নের কথা চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকেরা এখনো বলিয়া থাকেন। যাক, সেই সব কথা।

ভাইজানরে,

শুনিতেছি, সারাদেশের মধ্যে আপনিই অন্যতম ব্যক্তিক্রম ব্যক্তি যিনি মহাজোটে থাকিয়াও মহাজোটের মার্কা ধানের শীষ বাদ দিয়া দলীয় প্রতীক লইয়া নির্বাচন করিবার ঘোষণা দিয়াছেন। বর্ষাকালের প্রয়োজনীয় ছাতা আপনি শীতকালেও ব্যবহার করিয়া ভোট চাইবেন এইটা একটা দুঃসাহসিক ব্যাপার বলিয়া লোকেরা বলিতেছে।

চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে সাহসী কথা বলিবার লোক নাই বলিয়াই আজ রেলওয়ের সদর দপ্তর চট্টগ্রামে নাই। নৌ বাহিনীর সদর দপ্তর চট্টগ্রামে হইবার যুক্তিকতা থাকিলেও বলিবার সাহসী লোক নাই। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম বলিলেও রাজধানীর কোন সুযোগ সুবিধা চট্টগ্রামে নাই। নাই কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোন শাখাও। এমনকি চট্টগ্রামের মেয়রের পদ মর্যাদা মন্ত্রী পর্যায়ের নাই। নাইতো অনেক কিছুই নাই। এইসব কথা বলিবারও আপনি ছাড়া সাহসী যোগ্য নেতাও নাই। নাই লিখিবার লোকও।

ভাইজানরে,

লালদিঘীর বিশাল জনসভায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে হাজার হাজার জনতার সামনে একটি মেগ্যাজিন দেখাইয়া বলিয়া ছিলেন ‘কামাইল্লা হাসিনারে খাইছে’। এই কামাল হোসেনের কাছে সুষ্ঠু ভোটাধিকার পাইবার জন্য বিশাল জনসমর্থন আছে এমন দল বিএনপি এখন আশ্রয় লইয়াছে। শুধু আপনি কেন, বঙ্গবীর কাদের ছিদ্দিকী ও কামাল হোসেন’র ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়াছেন। অতি সাহসের সাথে বিপুল সংখ্যক বিএনপি সমর্থকদের সামনে জনসভায় তিনি বলিয়াছেন ‘ আমি বিএনপিতে যোগ দেই নাই’ আমি কামাল হোসেন’র ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়াছি’। কাদের ছিদ্দিকীর নির্বাচনী আসনের বিএনপি  সমর্থকেরা যদি নির্বাচনের সময় কাদের ছিদ্দিকীকে ভোট না দেয় তখন তিনি কি করিবেন বুঝিতে পরিতেছি না। বুঝিতে পারিতেছি না, ধানের শীষের সমর্থকেরা যদি ছাতা মার্কায় আপনাকে ভোট না দেয় তখন কী করিবেন ?  কেন জানি মনে হইতেছে, পুরোনো মার্কা ধানের শীষ হইলে আপনার ভোট সংখ্যা বাড়িত। রাজনীতির মারপ্যাচ আমি বুঝিব না আপনিই এই বিষয়টি ভাল বুঝিবেন। মনে রাখিবেন, ঐক্যফ্রন্টে সাবেক আওয়ামী লীগার শীর্ষ নেতা কম নয়। নীতি-আদর্শ ও মনের ধারণায় বহু অমিল আছে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে। এই ঐক্য কত দিন থাকিবে কে জানে ? সুষ্ঠু ভোট হইবার পর যদি সাবেক আওয়ামী লীগেরা আরেকটা ‘মুক্ত ফ্রন্ট’ করিলে অবাক হইবার কিছু থাকিবে না। ‘মুক্ত ফ্রন্ট’ যদি জোটের সাথে জোট বাঁধে তখন মহা জোটের কী হইবে ? এই সব ভাবিয়া চিন্তিয়া পা দিবেন। বুড়ো লোকেরা বলিয়া থাকেন ‘ভাবিয়া চিন্তিয়া করিবেন কাজ, করিয়া ভাবিবেন না’।

আজ আর না

আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনায়

ইতি

আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত

ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্থনা ম.আ.হ.

আগামী সংখ্যায় সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম. মোরশেদ খান সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা (২০৮) সম্প্রচার করা হইবে।

এই বিভাগের আরো খবর

আরো খবর

Leave a Reply