জাতীয় স্যুটার আতিকুর রহমান নিবৃতচারী একজন দানবীর

  প্রিন্ট
(Last Updated On: নভেম্বর ১৪, ২০১৮)

আলীকদম চৈক্ষ্যং ইউপির কষ্টে থাকা মানুষের পাশে
সংবাদদাতা, (লামা-আলীকদম) বান্দরবান
জনহীতকর কর্মকান্ডে নিবৃতচারী জাতীয় স্যুটার আতিকুর রহমান। প্রতি বছরই আলীকদমস্থ চৈক্ষ্যং ইউপির দরিদ্র জনগোষ্টির মাঝে শীতবস্ত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহ সামগ্রী, অ-স্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান, পানি শুন্য গ্রাম সিবাতলীসহ আশপাশের গ্রামে পানিয়-জলের চাহিদা মেটাতেও নানান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। এছাড়া চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্য সেবাও দিয়ে থাকেন মাঝে মধ্যে। নিরবে দান করে যাওয়া এই আতিকু রহমান একজন জাতীয় পুরুস্কার পাওয়া ব্যাক্তিত্ব। তিনি সর্ব শেষ ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিানা হাত থেকে পুরুস্কার গ্রহন করেন।
তিনি একজন ক্রীড়াবিধ। চট্টগ্রাম শহর তার জম্মস্থান। ১৯৮৪ সালে তিনি জাতীয় স্যুটার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। স্যুটার হিসেবে আর্ন্তাজিক অঙ্গণে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন এই খ্যাতিমান ব্যাক্তি। ১৯৯০ সালে নিউজল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্যুটার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পদক লাভ করেন। ১৯৯৪ ও ৯৫ সালে শ্রিলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান সাব গেম্স-এ স্যুটারে পদক প্রাপ্ত হন। জাতীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকবার পদক প্রাপ্ত হন দানশীল এই ব্যাক্তি।
আলীকদম উপজেলাস্থ ২নং চৈক্ষ্যং ইউপির সিবাতলী নামক গ্রামে জাতীয় ক্রিড়াবিধ স্যুটার আতিকুর রহমানের রয়েছে কিছু ভূ-সম্পত্তি। সে সুবাধে তিনি মাঝে মধ্যে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহনের জন্য বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসেন পাহাড়ী এই গ্রামটিতে। এখানকার সবুজ বেষ্ঠিত পাহাড় প্রকৃতি ও সহজ সরল মানুষগুলোর প্রতি তিনি ক্রমেই দরদী হয়ে উঠেন। এখানকার জনগোষ্ঠির জীবন ঘনিষ্ঠ নানান বিষয় তিনি ও তার বন্ধুরা উপলব্দি করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে থাকেন।
এলাকার অনেক দরিদ্র ছেলে-মেয়ের পড়া লেখার ভার গ্রহন করেন, জাতীয় স্যুটার আতিকুর রহমান। বহু প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা-কলম বিতরণ করে থাকেন। গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহ সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন। এলাকায় সরকারি-বেসরকারিভাবে স্থাপিত অনেকগুলো রিংটিউব ওয়েল সংস্কার, কয়েকটি রিংটিউব ওয়েল স্থাপন করে দিয়েছেন। পানিও জলের চাহিদা পূরণের জন্য তিনি পুকুর খনন করে দিয়েছেন সিবাতলী গ্রামে।
ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ, সর্দার আ: রশিদ, ইউছুপ, সাবেক মেম্বার উথোয়াই মার্মা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনসহ অনেকেই অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্যুটার আতিকুর রহমানের ভূয়সি প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ব্যাক্তি উদ্যোগে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে নিবরে দান করার মানুষ এসময়ে দেখা যায়না, কিন্তু আতিকুর রহমান সাহেব তা করে যাচ্ছেন। চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ বলেন, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের সিবাতলী নয় শুধু তিনি ঘোটা ইউনিয়নের মানুষকে শীত পোষাকসহ নানান সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
গত ২ নভেম্বর/১৮ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে চারশো শীত কম্বল ও ৬ শ্ শীতের পোষাক বিতরণ করেন তিনি ও তার বন্ধু। এছাড়া ৩,৪,৫ ও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আলীকদম কাকরাঝিরি মুরুংপাড়ায় ছাত্রছাত্রী, রেপাড়পাড়া নূরানী একাডেমি-এতিমখানা, সিবাতলীপাড়া নূরানী মাদরাসার-ছাত্রছাত্রীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও পোষাক বিতরণ করে তার প্রতিনিধি খলিলুর রহমান। শীতের আগমনি বার্তা আসতেই প্রান্তিক মানুষের হাতে শীতবস্ত্র পৌঁছিয়ে দেয়া; সত্যই শীতার্থ মানুষের কষ্ট উপলব্দি করতে পারা, এমন মন্তব্য করে গ্রামবাসীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্যুটার আতিকুর রহমানের প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, অতিসহসায় আতিক সাহেবের সহায়তায় গ্রামে একটি মেডিকেল টিম আসবে। আগামী ডিসেম্বরের যে কোন তারিখে সিবাতলী গ্রামসহ চৈক্ষ্যং ইউপির মানুষদের মাঝে চক্ষু পরীক্ষাসহ বিনামুল্যে ওষুধ ও চিকিসা সেবা দেয়া হবে। এলাকার অনেক মানুষ আতিকুর রহমান সাহেব দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন মন্তব্য করে খলিলুর রহমান বলেন, কতিপয় ব্যাক্তি গ্রামের পরিবেশ নষ্ট করে প্রজম্মকে বিপদগামী করার পায়তারা করছেন। এই বাস্তবতায় আতকিুর রহমান ও তাঁর বন্ধুবান্ধব মিলে মানবিক সহায়তা দিয়ে জনগোষ্ঠির ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে পড়ালেখা মূখি করে রাখার প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আতিকুর রহমানের ন্যয় অনেক কতি মানুষ আছেন, যাঁরা সমাজ গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্ঠগুলো উপলব্দি করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। সমাজকে মাধক মুক্ত করে প্রজম্মের শিক্ষা মুখি অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির আহবান জানান সাধারণ মানুষ।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password