রাজারহাটে এনামুল চেয়ারম্যান বেল্ট খুলে সাংবাদিক পেটালেন!

  প্রিন্ট
(Last Updated On: অক্টোবর ২৭, ২০১৮)

 

সাইফুর রহমান শামীম
কথা কাটাকাটির জের ধরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হামলা শিকার হয়ে গুরুত্বর আহত অবস্থায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ”বাংলা.রিপোর্ট” এর স্টাফ রিপোর্টার আল্লামা ইকবার অনিক। সে গত বৃহস্পতিবার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি রাজারহাটের মেকুরটারীতে এসেছিলেন। তিনি ”বাংলা.রিপোর্ট” এর আগে মাছরাঙা টিভি ও বাংলামেইলে কাজ করতেন।
শুক্রবার দুপুরের দিকে রাজারহাট উপজেলা শহরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রোডের একটি কফি হাউজে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক আল্লামা ইকবার অনিক এর পিতা আব্দুল আউয়াল ইউনিয়ন কাউন্সিল অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হকের দেখা হয়। এসময় তিনি চেয়ারম্যানকে কৃষি ভুর্তকীর টাকার বিষয়ে জানতে চান। তখন চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়ালকে বলেন, কৃষি ভুর্তকীর টাকা আপনার সাংবাদিক ছেলে আল্লামা ইকবার অনিক নিয়ে গেছে। পরে আব্দুল আউয়াল সেদিনই রাতে সাংবাদিক ছেলের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে চান। এতে ছেলে আল্লামা ইকবার অনিক চেয়ারম্যানের মিথ্যাচারে কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের নাম্বারে ফোন দেন। চেয়ারম্যান একবার আল্লামা ইকবার অনিক এর ফোন কল রিসিভ করে ব্যস্ত আছেন বলে কেটে দেন।
এরপর সাংবাদিক আল্লামা ইকবার অনিক শুক্রবার দুপুরের দিকে উপজেলা শহরে আসলে কফি হাউজে চেয়ারম্যানের দেখা পান এবং তার টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে চান। তখন চেয়ারম্যান বলেন আমি বিষয়টি মজা করার জন্য বলেছি এবং এ বিষয়ে কথা বলাবলির এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আল্লামা ইকবার অনিক এর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেল্ট খুলে তাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় সাংবাদিক আল্লামা ইকবার অনিক মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যান এবং মাথা ফেটে যাওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন আবারো আল্লামা ইকবার অনিক কে পেটানোর জন্য তার বাড়ি ঘেড়াও করে রাখে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ৫টি শেলাই দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এব্যাপারে সাংবাদিক আল্লামা ইকবার অনিক এর বাবা আব্দুল আউয়াল জানান, ঐ চেয়ারম্যানের পোষা গুন্ডাদের ভয়ে আমার পরিবারের সকলেই এখন কুড়িগ্রাম হাসপাতালে অসুস্থ ছেলের সাথে অবস্থান করছি। এখান থেকে ফিরে আমার ছেলেকে যারা মেরে রক্তাক্ত করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ বিষয়টি জানার জন্য রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সাংবাদিকের বাবাকে আমি চাচা বলে ডাকি। সামান্য ঘটনা নিয়ে ঐ সাংবাদিক আমার সাথে বেয়াদবী করেছিল। সেই সময় লোকজন ধাক্কা দিলে দুজনেই মাটিতে পড়ে আমি কোমরে ব্যাথা পাই আর সাংবাদিক মাথায় আঘাত পায়। সে আমার ভাই হয়।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃঞ্চ কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password