আনোয়ারা ডায়াবেটিক হাসপাতাল: ভূয়া সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

  প্রিন্ট
(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮)

 

আনোয়ারা ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদের সভা গত ৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অর্ন্তবর্তিকালীন পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক মাস্টার আবুল হোসেন এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। সভা পরিচালনা করেন ফাউন্ডার ও সদস্য সচিব আবদুল মান্নান।

সভায় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম.আলী হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম, প্রতিষ্ঠাতা অর্থ সম্পাদক আবদুল জব্বার, ডোনার এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব এডভোকেট আলী মুহাম্মমদ নিজাম উদ্দিন, পর্ষদের সদস্য ইব্রাহিম রনি, আবদুল মান্নান, সদ্বীপ কুমার দাশ, কে এম আবদুল্লাহ জনি, ইমতিয়াজ খালেক ও এস এম ছাদেক বক্তব্য রাখেন। সভায় হাসপাতালের সেবার দিন ও খাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় আলোচকগণ বলেন, বিগত ৩ বছর যাবৎ যারা হাসপাতালে কোন পজিটিভ ভূমিকা রাখেননি ও লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে ভংগ করেছেন তারা ভূয়া সংবাদ প্রচার করে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন করে চলেছে। ওই অঙ্গীকার ও রেজুলেশান কপি ডোনার মেম্বার সম্মানিত উপদেষ্টা জগন্নাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন প্রফেসর ড. আবদুল ওদুদ সাহেবের কাছে সংরক্ষতি আছে ও গত সমন্বয় সভায় যে সব সম্মানিত দাতারা উপস্থিত ছিলেন তাদের নিশ্চয় মনে আছে।

৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী, পূর্বকোণ ও চট্টগ্রাম মঞ্চ পত্রিকায় ৫ জনে একটি রেস্টুরেন্টে বসে নিজেদের কাগজে নেতা সেজে কমিটি গঠনের সংবাদ প্রচার করে। উল্লেখিত সংবাদে সভাপতি, সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক দাবীদার ব্যক্তিত্রয় তিন বছরে একটা টাকাও অনুদান দেননি ও এমনকি নিজেরাও একজন ডোনারও আনেননি। বরং এরা ছিল কার্যকরী কমিটির বোঝাস্বরূপ। সভাপতি দাবীদার আবু মুছা সমিতির শুরু থেকে অদ্যাবধি ৮বছরে ১জন ডোনার এনেছেন মাত্র। তারপরও তারা হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত সেবা নিয়েছেন এখনো নিচ্ছেন যা ফাউন্ডার হিসেবে সম্মান ও গৌরবের বিষয়। কারা সময়, অর্থ, মেধা ও ডোনার সংগ্রহ করে হাসপাতালের সেবা দিয়ে আসলেন বিষয়টি রোগীরা যেমন জানেন তেমনি জানেন দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকরাও।

সবিনয়ে আমরা জানতে চাই-ফাউন্ডার, দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে সংবিধানের ৮(খ) ধারা মতে যৌথ কমিটি কী কারণে অপছন্দ বলবেন কী? গেল কমিটিওতো সমন্বয় সভার মাধ্যমে হয়েছিল। বলবেন কি ৫ জনের উপস্থিতিতে ১৩ সদস্য ওরা কারা? ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনতন্ত্রের কোথাও উল্লেখ আছে কি? তাদের নাম বলুন ও অবদান স্পষ্ট করুন। ১৩জনের মধ্যে ওখানে কয়জন দাতা আছে? হাসপাতালের কমিটি গঠনে রোগী, স্টাফ কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল ফাউন্ডার, দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের স্থলে রেস্টুরেন্টে লুকোচুরি কমিটি কেন? আপনারাই বলুন হাসপাতালের সুনাম বাড়ালেন না কমালেন? বেশী সময়, মেধা ও বেশী সংখ্যক ডোনার হাসপাতালমুখী করার পরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তো নিজেই পদ ছেড়ে অন্যদের আসার পথ সুগম করে দিয়ে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট (যা গঠনতন্ত্র সম্মত) মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ৩রা আগষ্ট কমিটি গঠন করা হয় যা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও মা শিশু হাসপাতালের মতো নির্বাচিত কমিটি হাসপাতাল পরিচালনা করুক এই লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম. আলী হোসেন নিয়মিত হাসপাতালে যোগাযোগ, সবচেয়ে বেশী ডোনার সংগ্রহ, তহবিল বৃদ্ধি ও প্রতি মুহুর্তে হাসপাতাল চলাকালে উপস্থিত থাকার পরও তাঁকে না জানিয়ে মাত্র ৫জন হোটেলে বসে কমিটি গঠন হাস্যকর ও রহস্যজনক বটে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে শৃংখলার পরিবর্তে এটা বিশৃংখলার নামান্তর। ১৩ সদস্যের সম্মতিসূচক কোন রেজুলেশন কপি দেখাতে পারবেন কী? অন্তবর্তিকালীন কমিটি পছন্দ না হলে আপত্তি জানানো কিংবা আলোচনার মাধ্যমে সংযোজন-বিয়োজন করা যেত কিন্তু সেটা না করে অর্ন্তবর্তিকালীন কমিটি কাজ করে হাসপাতালকে যখন ঢেলে সাজাতে ব্যস্ত ঠিক তখনই পাল্টা কমিটি করে বিভক্তি করলেন কেন ?

কার্যকরী কমিটির মিটিং এ যুক্তিতে কথা বলতে না পেরে প্রকাশ্য প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে লক্ষ্য করে মহিউদ্দিন মিন্টু আজ থেকে তিন বছর আগে ‘i must kill you’ বলা এবং সদস্য সচিব আবদুল মান্নান সাহেবকে সভাপতি দাবিদার আবু মুছা সম্প্রতি মোবাইল ফোনে বোমা মেরে হাসপাতাল উড়িয়ে দেবার হুমকি দেয়া এসব কিসের লক্ষন? বোমা মেরে হাসপাতাল উড়িয়ে দিয়ে কিংবা হত্যা করার হুমকি দিয়ে এ কেমন সেবা? সেবকদের মুখে এসব শব্দ কী করে মানায়? ৫ মাস আগে ডোনার এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের সামনে থেকে পালিয়ে এসে আরতো হাসপাতালে আপনারা গেলেন না, এতদিন হাসপাতালে সেবা দিলো কারা ? আপনাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কার্য্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংবাদের উল্লেখিত ব্যক্তিগন পালাক্রমে হিসাব-নিকাশ করার পরও ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও স্টাফদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে গেল কেন? এখন তো বেতন-ভাতা, ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ বকেয়া নেই, সেবা চলছে ১দিনের স্থলে ২দিন এবং অচিরেই ৭দিন হাসপাতালে সেবা চলার প্রক্রিয়া চলছে। এই সবের পরেও কমিটি করার নামে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন করলেন কেন? আনোয়ারার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত কিছু ব্যক্তিদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিজেদের ভুল ভ্রান্তিগুলো আড়াল করতে গিয়ে এসব কি করছেন? ওইসব সম্মানিত মানুষ গুলোতো আমাদেরই আপনজন ও এই হাসপাতালের  চরম পরম হিতাকাংখী। তাঁরা যখন প্রকৃত তথ্য বুঝবেন তখন তাদের কাছে আপনাদের অবস্থান কি হবে? অবস্থান যাই হোক, হাসপাতাল ও রোগীদের ক্ষতি হোক আমরা কেউ চাইতে পারি না।

তাই, আসুন মিলে-মিশে হাসপাতাল পরিচালনা করি অথবা অপরাপর সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেমন ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও মা শিশু হাসপাতালের মতো নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ তৈরী করি। এই সঙ্গে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে পরিচালনা পর্ষদ নিরলসভাবে হাসপাতালের উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছে তাতে সকলের সহযোগিতা কামনা ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য এবং নির্বাচিত কার্য্যকরী কমিটি (ফাউন্ডার ও দাতাদের ভোটে) যাতে হাসপাতাল পরিচালনা করা যায় এ বিষয়ে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রসংগত সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় আনোয়ারা ডায়াবেটিক হাসপাতালের নামে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্যসহ কমিটি গঠনের ভূয়া সংবাদ পরিবেশন আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় হাসাপাতালের স্বার্থে বাধ্য হয়ে সঠিক সামান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি তুলে ধরলাম মাত্র।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password