মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮)

আজহার মাহমুদ
পরম করুণাময় মহান রাব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে বিবেচিত করেছেন। সকল জীবের মধ্যে মানুষ অন্যতম। মহান আল্লাহ মানুষকে তার ইবাদত ও সৎ পথে চলার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন মনুষ্যত্ববোধ, দিয়েছেন বিবেক-বুদ্ধি আর সৎ পথে চলার তাগিদ। আর যখন মানুষের মধ্যে এই মনুষ্যত্ববোধ এবং বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেতে থাকে তখন সে আর মানুষ থাকে না, হয়ে যায় অমানুষ। অমানুষ আর হিংস্র জীব-জন্তু একই জিনিস। হিংস্র জীব-জন্তু যেমন যা মন চায় তা করে, ভালো মন্দ বিবেচনা করে না, ঠিক তেমন ভাবে অমানুষরাও যা মন চায় তা করে। হিংস্র জীব-জন্তু যেমন যখন ইচ্ছে শিকার করে খায়, ঠিক তেমনি অমানুষরাও যখন ইচ্ছে মানুষকে ভয় লাগিয়ে বা খুন করে মানুষের সম্পদ আত্মসাত করে। এখনকার সময়ে এ ধরনের ঘটনা কিন্তু কম হচ্ছে না। কারণ আমি মনে করি, মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের যতটা না উন্নতি হচ্ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ হচ্ছে অবনতি। আমরা একটু আমাদের চারপাশে মনুষ্যত্বের দৃষ্টি দিয়ে দেখি তাহলেই আমরা বুঝতে পারব মানুষ কিসের পেছনে ছুটছে। অবশ্যই অর্থ সম্পদের পেছনেই ছুটছে। যার টাকা আছে তার সব আছে, কারণ এখন পৃথিবীতে অর্থ সম্পদ ছাড়া বেঁচে থাকা বড় কঠিন। আর এই অর্থ সম্পদের কারণে মানুষ তার মনুষত্ব্যকে বিক্রি করে দিচ্ছে। পৃথিবীতি বেঁচে থাকার জন্য সৎ পথে আয় করে দু‘বেলা পেটে ভাতে খেতে পারলেই হয়। অসৎ পথে কোটি কোটি টাকা আয় করে আর পোলাও কোরমা খেয়ে হয়তো পৃথিবীতে সাময়িক সুখ পাওয়া যায় তবে পরকালে এর চেয়ে কঠিন দুখ অপেক্ষা করে। আমরা সকলেই জানি এই পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নয়। ক্ষণস্থায়ী এই জীবনে মানুষ যেভাবে অমানুষের মতো জীবন যাপন করছে তা পরকালের জন্য বিরাট ভয়ংকর। আমরা যদি নিজেদের মনুষত্ব্ এবং বিবেক পরিষ্কার করে জীবন যাপন করি তাহলে পরকালে আমাদেরে জীবন হবে অত্যন্ত সুখের। তাই আসুন আমরা সৎ এবং নৈতিকতা নিয়ে সঠিক ভাবে জীবন যাপন করি।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password