লামায় ফেক আইডির আছঁড় উপজেলা প্রশাসনেও লেগেছে

  প্রিন্ট
(Last Updated On: জুলাই ১০, ২০১৮)

মো.কামরুজ্জামান, লামা
লামা উপজেলায় ভূয়া আইডি খোলে নানান ধরণের গুজব রটাচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক সাইটে বিভিন্ন নামে ফেক আইডির মাধ্যমে মনগড়া, কাল্পনিক রুপ দিয়ে তথ্য প্রকাশ, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের গন্যমান্যদের নিয়ে নানান কুৎসা রটিয়ে আসছে। একইভাবে সমাজের অনেক নিরিহ মানুষও চরমভাবে বিভ্রত হচ্ছেন। এসব ফেক আইডি’র প্রোফাইলে বিশিষ্ট রাজনৈতক ব্যাক্তি, চলচিত্র নায়ক-নায়িকা অথবা কোন প্রাকৃতিক দৃশ্য’র ছবি ব্যাবহার করে থাকে। সম্পতি লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নামেও একটি ফেক আইডি করার তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁর আইডি সূত্রে। “পড়বিতো মালির গাড়ে পড়” বিষয়টি এমন হলো। এই ঘটনায় হয়তো তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
লামা উপজেলায় ফেক আইডির জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় ফেক আইডি করা লোকদের চিহ্নিত করার দাবী করা হয়। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এদেরকে চিহ্নিত কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনে এর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। যার কারণে ফেক আইডি ব্যবহারকারীদের দুরাত্ম বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ভাঙ্গিয়ে ফেক আইডি করা হয়েছে বলে জানাযায়। লামা ইউএনও’র আইডিতে ঘেঅষণা করা হয়; “সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তি!!! ফেক আইডি থেকে সাবধান!!! উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামা’র অফিসিয়াল আইডি টহড় খধসধ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, লামা ফেসবুক পেজ ব্যতিরেকে বর্তমানে এই ফেক আইডি হতে বিভিন্ন জনকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে ফেন্ড করাসহ ধোঁকা দিয়ে সর্বসাধারণকে দ্বিধাবিভক্ত করা হচ্ছে, সুতরাং ফেক আইডি থেকে সাবধান!!! সকলকে এ বিষয়ে সচেতন থেকে উক্ত ওউ জবঢ়ড়ৎঃ করার জন্য সবিনয় অনুরাধ জানানো হল”। এই বিজ্ঞপ্তি থেকে জানাযায়, ফেক আইডির আছঁড় উপজেলা প্রশানের কর্তা ব্যাক্তিদের উপরও লেগেছে।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি জানান, আমার পদপদবী ব্যবহার করে ফেক আইডি খোলার বিষয়টি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা কি করেন দেখি।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, দেশে ফেক বা ভুয়া আইডি খোলার হার বেড়ে যাওয়া, ফেক আইডি বন্ধ না করা, সমস্যার সমাধানে ফেক আইডির উৎস খুঁজে না পাওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ফেসবুক আইডি খোলার সময় বয়সের প্রমাণপত্র’র ‘অপশন’ যুক্ত না করাকে। ফেসবুক আইডি খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম নিবন্ধন সনদ বা যে কোনও ধরনের ফটো আইডি বয়সের প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ থাকলে নিরাপদ থাকা যাবে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনও বয়স নেই। ফেসবুকের ওই বেঁধে দেওয়া বয়সকেই নিয়ম বলে মানা হচ্ছে। তবে ঠিক কত বয়স হলে তা ঠিক মানদন্ড হবে, এমনটা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানাচ্ছেন না। ফেসবুক ব্যবহারকারীর বয়স আসলে কত- ১৩, ১৬ নাকি ১৮? ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৩ বছরের নিচে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে না।
এ বিষয়ে জরিপ চালিয়ে একটি সমচিত নিয়ম-বিধি চালু না করলে ফেক আইডির বিশাক্ত খোঁছা সমাজাঙ্গনকে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত করবে। বিষয়টি তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা আমলে নিয়া প্রয়োজন কলে মনে করেন সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহারকারিরা।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password