লাগামহীন চিকিৎসা খাত

  প্রিন্ট
(Last Updated On: জুলাই ৬, ২০১৮)
মাহমুদুল হক আনসারী
চিকিৎসা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সারাদেশে সরকারি বেসরকারি হাজার হাজার মেডিকেল, হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে। এসব হাসপাতালে লাখ লাখ ডাক্তার  ও কর্মচারী নিয়োজিত আছে।যাদের পেছনে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়।বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়।সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌছে দিতে গ্রামে গ্রামে পর্য্ন্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছে।এসব কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শিশু ও নারীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।এসব কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জরুরী ওষুধপত্র সরবরাহ করা হয়।কথা হচ্ছে ডাক্তার ও চিকিৎসা নিয়ে সবগুলো সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তারের নিয়োগ থাকলেও অনেক ডাক্তার সেখানে উপস্থিত থাকেন না।দেখা যায় তারা শহর ও নগরে ব্যাক্তিগত চেম্বার খুলে প্রাইভেট চিকিৎসা দিয়ে থাকে।তাদের কতিপয় দালাল রয়েছে।ওইসব দালালরা রোগিদেরকে তাদের কাছে পাঠাতে সাহায্য করে।সবগুলো সরকারি ও প্রাইভেট ক্লিনিকের ডাক্তারদের সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ডায়গোনস্টিক ল্যাবের সাথে সম্পর্ক থাকে।বিভিন্ন নামী-বেনামী ওষুধকোম্পানির এমারদের সাথে তাদের সম্পর্ক।ওষুধের মান যাই হোক ডাক্তারের চড়া কমিশন থাকলেই সে ওষুধের রোগির প্রেসকিপশন স্থান পায়।ওষুধের মানের চেয়ে মূল্য বেশী।এ ধরনের মেডিসিনও বেশী লেখা হয়।প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কমিশনের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়া হয়।পাশ করা বিশেষঞ্ ডাক্তারদের সাথে বেসরকারি ক্লিনিকের সম্পর্ক বেশী।রোগির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বেসরকারি ক্লিনিকে তাদের রেফার করা হয়।আর বেসকারি ক্লিনিকে ভর্তি হলেই হলো।গলা কাঁটা ক্লিনিক ফি, ডাক্তার ফি চড়াভাবে ওষুধের মূল্য নিয়ৈ রোগির পকেট কাঁটা সবগুলো বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে।এসব হাসপাতালের চিকিৎসায় অনিয়মের সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলেও প্রতিকার হতে দেখা যায় না।ইচ্ছে মতো ডাক্তার ফি ওষুধের মূল্য ল্যাবের পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি নিলেও এসব অনৈতিক ব্যবসার বিরোদ্ধে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা নেয়া হয় না।বেসরকারি হাজার হাজার ক্লিনিক গড়ে উঠেছে শহর নগরের অলি-গলিতে।এসব ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রাপ্তি ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিয়েও অনেক অভিযোগ দেখা যায়।মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে শত রোগি।কয়েকদিন পত্রিকায় লেখালেখি এবং সামাজিক আন্দোলন হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় একটু নড়াচড়া করে।কিন্তু বহাল তবিয়তে ওইসব ত্রুটিপূর্ণ ক্লিনিক গুলো তাদের ব্যবসা চালিয়ে যায়।রাজনৈতিক চত্রছাঁয়ায় অনেকগুলো ক্লিনিক দাপটের সাথে তাদের কার্য্ক্রম চালাতে দেখা যায়।সবগুলো বেসরকারি ক্লিনিকের সাথে সরকারি প্রভাবশালীরাজনৈতিক সম্পর্ক দেখা যায়।যতই অন্যায় ও অপরাধ করলেও তারা এসব অপরাধকে কেয়ার করে না।বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন(বিএমএ)ডাক্তারদের সংগঠন।এ সংগঠনের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সাথে ওতপ্রোত সম্পর্ক।বিএমএ নেতারাই এসব ক্লিনিকের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।ফলে অপরাধ অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটলেও ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তারপার পেয়ে যাচ্ছে।চট্টগ্রামের মেক্স হাসপাতালের ত্রুটিপূর্ণ  লাইসেন্সের কথা জনগণ জানতে পেরেছে।এ ধরনের প্রায় হাসপাতালের অনিয়ম চিকিৎসায় অবহেলার তদন্ত করলেই তাদের অনেকগুলো অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়বে।চিকিৎসকের অবহেলায় আড়াই বছরের শিশু রাইফার মৃত্যুর কারণ তদন্ত করতে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এসব কথা বলেছে।সাংবাদিকের ছেলের মৃত্যুর কারণে এ সংবাদ সারাদেশে তোলপাড় হয়েছে।এতে বিএমএ-এর নেতারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বাধা প্রদান করেছে।এরপরও গণমাধ্যমের নেতাদের কঠোর অবস্থানের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পিছু হটতে পারছে না।এ ধরনের অনেকগুলো অপচিকিৎসার কারণে সারাদেশে ডাক্তার ও ক্লিনিকের বিরোদ্ধে সংবাদ ও অভিযোগের পাহাড় পড়ে আছে।এসব অভিযোগ মাসের পর মাস বছর বছর ধরে ফাইলবন্দী থাকে।ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকদের এতো ক্ষমতায় অন্যায় করেও তারা অন্যায় শিকার করতে রাজি না।তারা নিজেদেরকে আইনের উর্ধ্বে বলে হয়তো মনে করেন।বেশী সংখ্যক ডাক্তার সরকারি হাসপাতালের সাথে নিয়োজিত থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও কিন্তু সেখানে তারা রোগিদের তেমন সেবা দেন নি।এসব বিষয় দিবালোকের মতো পরিষ্কার হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় নি।এ পর্য্ন্ত জানা মতে চিকিৎসায় অপরাধের জন্য ডাক্তার ও ক্লিনিকের সাজা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।তাহলে দেশে বিদ্ধমান প্রচলিত আইন কাদের জন্য? শুধু কী নিরীহ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য।সাংবাদিক, আইনজীবি অন্যসব পেশার মানুষের জন্য বিচার ব্যবস্থা থাকলেও ডাক্তাররা কী বিচার ও আইনের উর্ধ্বে?যখনি এ ধরনের অপচিকিৎসার বিরোদ্ধে জন প্রতিরোধ উঠে তখনি ডাক্তারদের সংগঠন সমিতি কর্ম বিরতি পালন চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখে।এসব ডাক্তারদের জন্য রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা খরচ হয়েছে।গ্রামের কৃষক মজুর খেটে খাওয়া মানুষের টেক্সের টাকা দিযে তারা ডাক্তার হয়েছে।ডাক্তার হয়েই তারা বেমালুম জনগণের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের কথা ভুলে যায়।পুরো মেডিকেল ক্লিনিক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবাকেকঠোরভাবে আইনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।দেমে প্রতিবছর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে উঠছে।যথাযতভাবে নিবন্ধন লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ রেখে এসব হাসপাতাল গড়ে উঠার সংবাদও জানা যায়।এক্ষেত্রে কেনো মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে না সেখানেও জনগণের প্রশ্ন রয়েছে।দেখা যায় বেসরকারি এসব মেডিকেল কলেজ যথাযথভাবে শিক্ষার পরিবেশ না থাকলেও সেশন ফি, পরীক্ষা ফি,সার্টিফিকেটের মূল্য ইচ্ছে মাফিক নেয়া হচ্ছে।অবৈধ অনিয়ন্ত্রিত এক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এসব মেডিকেল কলেজ।অর্থের বিনিময়ে কাগজের সার্টিফিকেটদারী এসব ডাক্তাররা সঠিক রোগের নির্ণয় করতে পারে না।তারা সেখান থেকে বের হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক খুলে সরকারের  কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক সেল্টারে ব্যবসা চালিয়ে যায়।মানুষ নিরুপায় হয়ে চিকিৎসার জন্য তাদের শরণাপন্ন হয়।তাদের নামের পেছনে বড় বড় পদবী দেখা যায়।কিন্তু চিকিৎসায় তারা সাফল্য দেখাতে পারে না।ভুল চিকিৎসার কারণে যাদের সামর্থনেই তারা ধুকে ধুকে মরে।আর যাদের আর্থিক সামর্থ আছে তারা বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করে।এতে করে দেশের মূল্যবান অর্থ বিদেশে চলে যায়।তাহলে আমাদের দেশের হাজার হাজার ডাক্তার তৈরীতে রাষ্ট্র ও জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করে কী লাভ পাচ্ছে চিকিৎসা খাতে জনগণ সেটায় এখন নির্ণয় করার সময় হয়েছে।চিকিৎসা ওষুধ প্রেসকিপশন সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।জনগণের অর্থে প্রতিষ্টিত হাসপাতাল থেকে পাস করে জনগণের বিরোদ্ধে ডাক্তারের ভূমিকা কখনো মেনে নেয়া যায় না।সরকারের সর্বোচ্চ চিকিৎসা খাতের সেবাকে অবশ্যই সহজ করতে হবে।গলা কাঁটা ফি সবক্ষেত্রেই বন্ধ করতে হবে।ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্সদারী যত্রতত্র গড়ে উঠা ক্লিনিকগুলোকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।নির্দিষ্ট কর্মস্থলে যোগদান না করলে তার সার্টিফিকেট ও চাকুরী প্রত্যাহার করে নিতে হবে।হাসপাতাল ডাক্তার ক্লিনিকগুলোর অপরাধকে কখনো খাটো করে দেখা সমুচিত নয়।তাদের সাথে জনগণের রোগ নির্ণয়ের সেতুবন্ধন।সুতরাং এ সেক্টরের অপরাধ যে বা যাদের মাধ্যমেই হোক না কেন তাদের ছাড় দেয়া যাবে না।আসুন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ডাক্তার ও মালিকদের অনৈতিক অপরাধের বিরোদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
লেখক:

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password