বাবার প্রতি ভালোবাসা

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুন ১৫, ২০১৮)

বাবার প্রতি ভালোবাসা

আজহার মাহমুদ

এই সুন্দর পৃথিবীতে মা বাবা ছাড়া আমরা কেউ আসতে পারতাম না। এটা হয়তো আমরা সকলেই জানি। আবার কেউ জন্মের পর মা অথবা বাবাকে হারিয়ে ফেলি। কেউবা আবার দুজনকেই হারিয়ে ফেলি। আবার অনেকের দুজনই থাকে।  তবে আমরা দুজনকে পেয়েও তাদের মর্যাদা সঠিকভাবে দিতে পারি না। আমরা হয়তো মায়ের প্রতি যতটুকু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ভক্তি দেখায় ততটুকু ভালোবাসা বাবার প্রতি দেখায় না বা দেখাতে পারি না। মাকে হয়তো কাছে একটু বেশী পাওয়া যায় তাই ভালোবাসাটাও একটু বেশী থাকে। আর বাবা থাকে সারাদিন অফিসে আর কাজে এক কথায় বাইরে। তাই বাবাকে কাছে একটু কম পাওয়া যায়। তবে বাবা সন্তানের জন্য তার দায়িত্বটা ঠিকই পালন করে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা সন্তান হয়ে বাবার প্রতি যে দায়িত্ব আছে তা কয়জন পালন করছি। আমাদের কাছে বাবার দায়িত্বটাই শুধু দায়িত্ব মনে হয়, আমাদেরটা কোনো দায়িত্ব না। আবার দিন শেষে আমরা সেই বাবাকেই কষ্ট দেই। বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারাজীবন পরিশ্রম করে তার সাধ্য মতো আমাদের গড়ে তুলে মানুষের মতো মানুষ। আর আমরাই একদিন অমানুষের মতো আচরণ করে বাবাকে দূরে সরিয়ে দিই। আমাদের কষ্ট হলে মায়ের মতো বাবার ও কষ্ট হয়। আমরা হয়তো তা বুঝতে পারিনা, কারণ বাবা তা আমাদের বুঝতে দেন না। কিন্তু আমরা বাবার কষ্ট হলে কখনো কি নিজেদের কষ্ট অনুভব করি? আমার মনে হয় না উত্তর টাই বেশী হবে। এমনও কিছু কিছু নজির রয়েছ যে বাবা সন্তানকে সারাজীবন পরিশ্রম করে বড় করে তুলেছে আজ সেই সন্তান তার বাবাকে আঘাত দিয়ে চলে গেছে। কারণ আজ তার হয়তো আর বাবার প্রয়োজন নেই, বাবার তার প্রয়োজন আছে তাই।  তবুও বাবা চাই তার সন্তান ভালো থাকুক, সুখে থাকুক। আমরা সকলেই হয়তো তেমন সন্তান না, তবে আমরা কেমন তা আমরা নিজেরাই জানি। আমরা আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করলেই উত্তর পাবো। আমরা কি কখনো পেরেছি বাবার মুখে হাসি ফুটাতে? আমরা কি কখনো জানতে বা বুঝতে চেয়েছি বাবা কিসে সুখী বা খুশী হয়? আমরা যদি সব জেনে বুঝে বাবাকে খুশী করতে না পারি তবে সেটা হবে আমাদের জন্য চরম ভূল ও অপরাধ।  বাবা কিন্তু সেই ভূল বা অপরাধ করেন না, তিনি আমাদের কাছ থেকে জানতে চায় আমরা কিসে খুশি হব আর আনন্দ পাব। ঈদ হোক বা পূজা হোক যেকোনো উৎসব এলে বাবা আমাদের মন মতো সব কিছু কিনে দেই তার সাধ্য মতো।  তবে বাবার বেলাই থাকে সব আগের গুলোই।  আর যদিও কিনে তা আমাদের চারভাগের একভাগ দিয়ে কিনে। আর বাবা তাতেই খুশী থাকেন। কারণ আমরা খুশী থাকলই বাবা খুশী। তবে সেই বাবাকে আমরা পেরেও অনেক কিছু দিতে পারিনা।মা দিবস আসলে আমরা মায়ের জন্য যেভাবে দিবসটিকে তুলে ধরি বাবার বেলায় সেটা আমরা পারি না। আমরা হয়তো মাকে একটু বেশিই ভালোবাসি তবে বাবাকে কি তার অর্ধেক ভালোবাসাও যায়না। মা বাবা যদি তাদের সন্তানদের একই ভাবে ভালোবাসতে পারে তবে আমরা সন্তানরা কেনো পার্থক্য করব। বাবা কি সন্তানের জন্য কিছুই করে না। বাবা কি ভালোবাসার অযোগ্য? বাবাকে কি ভালোবাসা যায়না? যদি যেতো তবে কই বাবার প্রতি ভালোবাসা? বাবাতো চাই শুধু সন্তানদের সুখ। তিনি তো কোনো আনন্দ করে না। তার আনন্দ তো সন্তানের আনন্দ। তার চিন্তা থাকে শুধু পরিবার আর সন্তান। কীভাবে সন্তানের চাহিদা পূরণ করবে, কীভাবে পরিবারের সব চাহিদা পূরণ করবে সেই চিন্তাই শুধু বাবার। বাবার সেই চিন্তার ভাগ নেওয়ার মতো কেউ থাকেনা। বাবাকে একাই তার সব চিন্তার ভার নিয়ে চলতে হয়। আর আমরা নাকি সেই বাবাকেই ভালোবাসতে জানিনা, দেখাতে পারিনা কৃতজ্ঞতা।

যদি তাই হয় তবে বলবো

আমরা করছি চরম ভূল;

যার জন্য দিতে হবে

আমাদের চরম মাশুল।

 

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password