খালেদা জিয়া ‘মাইল্ড স্ট্রোকে’র শিকার হয়েছিলেন?

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুন ১০, ২০১৮)

বাংলাদেশে কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আজ শনিবার কারাগারে তার সঙ্গে কথা বলে তাদের মনে হয়েছে কয়েকদিন আগে তিনি হয়তো মাইল্ড স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দলটি আজ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফিরে বিবিসিকে জানান, গত পাঁচই জুন খালেদা জিয়া মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন এবং গত তিন সপ্তাহ যাবত তিনি জ্বরে ভুগছেন। তাকে জরুরী ভিত্তিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে বলেছেন তারা।

এর আগে শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, দলটির কারাবন্দী নেতা খালেদা জিয়া গত তিন সপ্তাহ যাবত জ্বরে ভুগছেন। এছাড়া দলের চেয়ারপার্সনের আত্মীয়দের বরাত দিয়ে মিঃ আহমেদ আরো জানান, গত পাঁচই জুন মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

এমন প্রেক্ষাপটে, শনিবার বিকেল চারটায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একটি দল কারাগারে যান।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী বলেন, “এক ঘণ্টা ধরে আমরা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, গত ৫ই জুন আনুমানিক বেলা ১টার দিকে তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। প্রায় সাত মিনিট অজ্ঞান হয়ে ছিলেন তিনি, তবে ওই সময়ের কথা তেমন ‘রিকল’ করতে পারেননি তিনি। আমাদের মনে হয়েছে তার হয়তো একটা মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল।”

“এটাকে বলা হয়, ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক বা টিআইএ। তার যা বয়স এবং বিভিন্ন দীর্ঘ মেয়াদী অসুখে ভুগছেন, তাতে এটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাপ্ত পরিস্থিতির একটি চার পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট তারা কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

“উনার নার্ভ কন্ট্রাকশন পরীক্ষা করা দরকার, উনার মেটাবলিক সিস্টেম পরীক্ষা দরকার। এছাড়া উনি মাঝেমাঝেই ব্যালেন্স রাখতে পারেন না, মনে হয় যে উনি পড়ে যাবেন। এজন্য খুব দ্রুত সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে উনাকে দ্রুত ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছি আমরা। ”

চারমাস আগে দুর্নীতির মামলায় সাজা হলে খালেদা জিয়াকে যখন কারাগারে প্রেরণ করা হয়, তখন থেকেই তার দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে। এরপর এপ্রিল মাসের এক তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে কারাগারে যান। এরপর ৭ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে পুনরায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেসময় বলা হয়েছিল, তিনি সুস্থ আছেন। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই দাবী করা হচ্ছে, দলটির নেত্রী অসুস্থ। এ প্রেক্ষাপটে সরকার কি বলছে?

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সঙ্গে শনিবার কারাগারে গিয়েছিলেন ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল কবীর। তিনি বলছেন, অজ্ঞান হয়ে যাবার কথা আগে তারা জানতেন না।

“আজ উনি যে অজ্ঞান হবার কথা বলেছেন, এটা উনি কারাগারের চিকিৎসকদের জানাননি, এখন আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব।”

“এছাড়া উনার চিকিৎসক দলের সঙ্গে আমি ছিলাম। তাদের পরামর্শ কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়েছি। এখন কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন কি করবেন, কিভাবে করবেন।”

এদিকে, বিএনপি অভিযোগ করছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে দলের প্রধান আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে তার দায় সরকারকে নিতে হবে বলে সতর্কতা দিয়েছিল দলটি। যদিও, সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করা হবে। আর এজন্য জেলকোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password