বাংলাদেশ, বুধবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

আনোয়ারায় হাত বাড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট মিলছে

আনোয়ারা প্রতিনিধি

হাত বাড়ালে অতি সহজে ইয়াবা ট্যাবলেট মিলছে আনোয়ারায় । এই মাদকের অনেকটা স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে উপজেলাটি।আনোয়ারাকে মাদকের হাট বললেন গতকাল শাহ মালেকিয়া যুব কমিটির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে আতিকুল মিল্লাত। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছেনা। গত এক বছর ধরে এর ভয়াবহতা ভয়ংকর আকার ধারন করেছে। এই নেশায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পাশাপাশি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দেশে মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ব্যবসার সাথে জড়িত ও সেবনকারী গ্রেপ্তার হলেও গড়ফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাদের সেল্টারে এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে । নুন জলিলের খবর নেই মোজাহার আছে জেলে।অধরা রয়ে গেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার থেকে নাফ নদী পার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট।

উপজেলার গহিরা,রায়পুর, পারকী, উত্তর ও দক্ষিন পরুয়া পাড়ায়  গড়ে উঠেছে ইয়াবার বাজার। এখানে হাত বাড়ালেই মিলে ইয়াবা ট্যাবলেট। হেরোইন, ফেনসিডিলের পর এখন যুব সমাজ ভাসছে ইয়াবার জোয়ারে। বখাটে যুবকদের পর এখন ইয়াবা জ্বরে আসক্ত হয়ে পড়ছে সমাজের নামিদামি সম্ভ্রান্ত পরিবারে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। সমাজে সুনাম রয়েছে এমন পরিবারের যুবক যুবতীদের অতিরিক্ত ইয়াবা আসক্তির কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। সহজে হাতের কাছে পাওয়ায় উঠতি যুবক যুবতীদের কাছে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেট। অনেক বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য ও গণ প্রতিনিধিও ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছে। এক সময় শুধুমাত্র উচ্চবিত্ত সমাজে এই নেশাদ্রব্য ব্যবহারের অধিক্য দেখা গেলেও সহজলভ্যতার কারণে এখন মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্ত পর্যায়েও এর ব্যবহার বেড়েছে অতীতের তুলনায় কয়েকগুণ। তবে বর্তমানে মোট ইয়াবা সেবীর সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই উপজেলা যুব কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছেও।এই তালিকা নেই মাদক নিয়ণ্ত্রণ অধিদপ্তরেও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ইয়াবার আধিপত্য বাড়তে থাকে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে ইয়াবা সীমান্ত পার হয়ে কক্সবাজার থেকে সরাসরি গাড়ী কিংবা বোটযোগে আসে ইয়াবা । এখানে পাইকারী বিক্রেতার কাছ থেকে খুচরা ক্রেতারা কিনে নিয়ে তুলে দেয় মাদকসেবীদের হাতে। প্রতি পিছ ইয়াবা ট্যবলেট বিক্রি হতো ৭-৮শ’ টাকায়, যা সাধারণ মাদকাশক্তদের হাতের নাগালের বাইরে ছিলো। সম্প্রতি এর দাম ১-২শ’ টাকায় নেমে আসায় মাদকাশক্তদের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অধিক হারে ইয়াবা আসক্তি বাড়ছে।

কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয়ঙ্কর নেশা ইয়াবার অধিক জনপ্রিয়তার কারন হিসেবে জানা যায়, সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবের কান কথায় প্রথমে ত্বকের সৌন্দর্য ও গ্লামার বাড়ানোর কৌতুহল মেটাতে প্রথম দিকে তরুণ প্রজন্ম ইয়াবা সেবন করলেও এক সময় তা নেশার রূপ নেয়। একই সাথে বাড়ে যৌনতার প্রতি আসক্তিও। মাদকের খরচ যোগাতে টাকার জন্য এসব মাদকসেবীরা পা বাড়াচ্ছে অপরাধ জগতের সাথে।গত পরশু রাতে ইয়াবাখোরের মা আবদার মিটাতে না পারলে খোর্দ্দ গহিরায় জ্বালিয়ে দেয় ৫টি ঘর।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইয়াবাসেবীদের দৈনিক চাহিদার যোগান দিতে উপজেলার  বিভিন্ন বাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ইয়াবা বিক্রেতা সিন্ডিকেট রয়েছে। ইয়াবা সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা থানা-প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়ে মাদকাশক্তদের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে ভয়ঙ্কর ইয়াবা ট্যাবলেট। আপরদিকে পরিবহনজনিত নিরাপত্তা রক্ষার্থে ইয়াবা পরিবহন ও বিক্রয় সিন্ডিকেটের সুবিধার্থে ছাত্র-ছাত্রীদের যুক্ত করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রামে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। এর সাথে অনেক জনপ্রতিনিধিও জড়িত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল কয়েকজন ত্যাগী নেতা বলেন, এইজন্য আমাদের এখন ও আগামীতে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

 

আরো খবর

Leave a Reply