খোরশেদ আলম সুজনের বক্তব্যে ক্যাব চট্টগ্রামের প্রতিবাদ ও নিন্দা

  প্রিন্ট
(Last Updated On: জুন ১, ২০১৮)
চট্টগ্রামে কাপড়ের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান বন্ধে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। কাপড়ের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান বন্ধের আহবানের প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবন্দ বলেন রমজানে কাপেড়ের মাকের্টে ভ্রাম্যামাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকার বিদেশী অবৈধ কাপড় ও পণ্য সামগ্রী জব্দ করেছে। যার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসাবে এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানানো দরকার ছিলো। কারন ঈদ, পুজা পার্বনকে ঘিরে দেশে শুল্ক ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিদেশী কাপড়, কসমেটিক্সসহ নানা পণ্যসামগ্রীর বাজার সয়লাব হয়ে যায়। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারায়, অন্যদকে দেশীয় কাপড় ও পণ্যসামগ্রীর উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর শুল্ক, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা বিদেশী কাপড়-পণ্য দোকানে বিক্রি আইনত অপরাধ, এর পক্ষে বলার অর্থই হলো চোরকারবারী, অনিয়ম ও অবৈধ পন্থাকে উৎসাহিত করা। সেকারনে কাপড়ের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানকে সর্বসাধারনকে স্বাগত জানানো প্রয়োজন। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে জনসাধারনের মাঝে উৎসাহ প্রদান করা গেলে দেশীয় উৎপাদকরা যেভাবে লাভবান হবে, নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরী হবে, সরকারী রাজস্ব বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
 
বিৃবতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন বিগত কয়েক বছরে কাপড়ের দোকানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা কালে দেখা গেছে ৩০০ টাকা দামের কেনা পাঞ্জাবী বিক্রি করছে ৩ হাজার টাকা, ৬০০ দামের ত্রি-পিচ ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। লাভের পরিমান কত হতে পারে, সেটা কি ১ শত টাকায় হাজার টাকা লাভ? তার কোন পরিস্কার বক্তব্য কাপড়ের ব্যবসায়ীরা দিতে পারে নি। আর কাপড়ের বাজারে এ ধরনের পকেট কাটার উৎসব চলতে থাকলে অপরাপর ব্যবসায়ীরাও এপথ অনুসরণ করবে এবং পুরো ব্যবসায়ী সমাজ যেন যে, যেভাবে পারে জনগনের পকেট কাটার উৎসবে মাতোয়ারা হবে। চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতা ও মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী জীবত থাকাকালীন সময়ে খাদ্যে ভেজাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পন্য ও কাপড়ের বাজারে মূল্যবৃদ্দি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতিও ভেজালের ছড়াছড়ি হলেও বর্তমান সময়ে সরকারী দল ও বিরোধী দল কোন পক্ষ থেকে মূল্য সন্ত্রাসী ও খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কোন উচ্চ বাচ্য পাওয়া না, এটা খুবই দুঃখজনক। সেকারনে রাজনৈতিক দলগুলি জনগনের জন্য রাজনীতি করছে? নাকি গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীকে সুবিধা প্রদানের জন্য রাজনীতি করছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ দেখা দিচ্ছে।
 
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন চট্টগ্রামসহ দেশীব্যাপী বাজার মনিটিরিং কার্যক্রম জনগনের চাহিদা তুলনায় অনেকটাই ঢিলে ঢালা ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ ও সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও সহজ উপায় হিসাবে ভ্রাম্যমান আদালত বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে এবং জনগনের কাছেও আস্থার প্রতিকে পরিনত করেছে সে কারনে মানুষ ভ্রাম্যমান আদালতের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে  প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে রমজান, ঈদ-পুজা-পার্বন আনন্দ-উৎসবের চেয়ে আতংকে পরিনত হয়েছে। সেখানে ১৬ কোটি মানুষের সমস্যা নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস, জুতা, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে চলমান অভিযান জোরদারে জোরালো দাবি জানানোর পরিবর্তে গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীদের পক্ষে উকালতি করার ঘটনায় নিন্দা জানানো ছাড়া বিকল্প ভাষা নেই। নেতৃবৃন্দ আশা করেন ১৬ কোটি জনগনেরঅত্যাবশ্যকীয় সমস্যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পন্য ও কাপড়ের বাজারে সিন্ডিকেট, মুজতদারী করে অস্থিরতা সৃষ্ঠি ও খাদ্যে ভেজালে জড়িত গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সরকারী ও বিরোধী দলের সকল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা কর্মী, সচেতন মহল সকলে এগিয়ে আসবেন। কারন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের মূল্যবৃদ্দি ও অস্থিরতার চাপ দারিদ্রের দুষ্ঠু চক্রের মতো পুরো সমাজকে বিশৃংখলায় পথে ধাবিত করছে, জীবন-জীবিকায় মানুষ বাধ্য হয়ে অনেকে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন, দুর্নীতি ও অবৈধ উপায়ে আয়ে জড়াচ্ছে। সভ্য সমাজে এ ধরণের নৈরাজ্য চলতে দেয়া উচিত নয়। 
 
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password