বাংলাদেশ, শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফে মাদক কারবারী কাউন্সিলর নিহত সারা দেশে আরও ১০ জন

মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক (৪৬) নিহত হয়েছেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে মাদকের অনেক মামলা রয়েছে। এদিকে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সীতাকুণ্ডে মারা গেছেন রায়হান উদ্দিন প্রকাশ রেহান (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। গত শনিবার দিবাগত রাতে এ দুটি ঘটনা ঘটে। এ দুজন ছাড়াও সে রাতে বিভিন্ন জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।  এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত এই ‘যুদ্ধ’ চলবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা অল আউট যুদ্ধে নেমেছি। এ যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।’

আমাদের টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাটি ঘটে মেরিনড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীয়া পাড়ায়। এতে নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একরাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। র‌্যাব–৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অবস্থান জানতে পেরে মেরিনড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীয়া পাড়া এলাকায় অভিযান শুরু করে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনের মৃতদেহ, ১০ হাজার ইয়াবা, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা নিহত ব্যক্তিকে টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো:একরামুল হক বলে শনাক্ত করে। মৃতদেহটি টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে একরামুল হক টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য। তিনি কোনোভাবেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নন বলেও জানান তার ভাই এহেতেশামুল হক বাহাদুর। টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার জানান, র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত একলামুল হকের মৃতদেহ পুলিশকে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১ টায় উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সন্দ্বীপ ফেরী ঘাট এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে। এতে নিহত রায়হান উপজেলার গোলাবাড়িয়া এলাকার মরহুম মালিউল হকের পুত্র। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানকালে সীতাকুণ্ড থানার দুই উপ–পরিদর্শকসহ ৫ পুলিশ আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২টি এলজি, ১০ রাউন্ড গুলি, ১টি রাম দা, ২টি ছুরি ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় নিহত মাদক ব্যবসায়ী রায়হানের তিন সহযোগীকেও আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হল সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফের পুত্র মো.জাফর, একই এলাকার মৃত ইয়ার মোহাম্মদের পুত্র সুমন প্রকাশ কালা সুমন ও পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার মৃত শরিয়ত উল্ল্যার পুত্র ইউসুফ প্রকাশ টিটু।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ ফেরীঘাট এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী রায়হান ও তার সহযোগীরা গুলি ছুঁড়ে। এতে আত্নরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে রায়হানের লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ীর ছোঁড়া গুলিতে সীতাকুণ্ড থানার উপ–পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান, নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া, সহকারী উপ–পরিদর্শক হাসান তারেক, পুলিশ সদস্য জহির হাসান ও সালাউদ্দিন আহত হন। অভিযান পরবর্তীতে আহত ৫জনকে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইফতেখার হাসান জানান, নিহত রায়হান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মাদক, খুন ও ডাকাতির ৮টি মামলা রয়েছে।

এ দুজন ছাড়াও শনিবার রাতে খুলনা, বাগেরহাট, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও ও নোয়াখালীতে আরও ৯ জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে বিডিনিউজ জানিয়েছে। নিহতরা সবাই মাদক কেনা–বেচায় জড়িত বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।সুত্র বিডিনিউজ ও আমাদের প্রতিনিধি

আরো খবর

Leave a Reply