সারাদেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: মে ২৫, ২০১৮)

রাজধানী ঢাকাসহ নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, ঝিনাইদহ, কুমিল্লা ও শেরপুরে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আটজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।  গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

এতে র‌্যাব ও পুলিশের ১৪ সদস্যও আহত হয়েছেন। এছাড়া বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় এলিটফোর্স র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কামরুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে র‌্যাব-২ এর একটি দল মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ওই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হয়েছেন দুই র‌্যাব সদস্য।

র‌্যাবের দফতর থেকে পাঠানো ক্ষুদেবার্তায় জানানো হয়, র‌্যাব-২ এর একটি দল ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে তেজগাঁও রেললাইন বস্তি এবং মহাখালী সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কামরুল নিহত হন। নিহত কামরুল ১৫টির অধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

নেত্রকোনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা সদরের মদনপুর ইউনিয়নের মনাং বাজার বাগান এলাকায়  এ ঘটনা ঘটে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন খান বলেন, মদনপুর ইউনিয়নের মনাং বাজার বাগান এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হয় তিন পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি পাইপগান ও ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) জলিল, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাকির ও কনস্টেবল ওয়াহিদ আহত হয়েছেন বলে জানান ওসি। তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে কুমিল্লায় থানা ও ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল (৫১) নামে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মহিষমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কেজি গাঁজা ও একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে ডিবির এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার, এএসআই সাহাবুল হোসেন ও কনস্টেবল সুমন মিয়া আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে হানিফ ও ইলিয়াস নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। নিহত ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বুড়িচং ও কোতয়ালি মডেল থানায় ১২টির অধিক মাদকের মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ শহরের পুরোহিতপাড়া রেল কলোনি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাজন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ৪০০টি ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা, দুটি ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি  মো. আশিকুর রহমান এবং কনস্টেবল কাওছার গুরুতর আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি মো আশিকুর রহমান জানান, নিহত রাজন ময়মনসিংহের শীর্ষ মাদক সম্রাট। তার বিরুদ্ধে  ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানায় মাদকসহ ৯টি মামলা রয়েছে।

ওসি আরো জানান, শহরের পুবোহিত পাড়া রেলওয়ে কলোনি এলাকায় ময়মনসিংহের শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী আলালসহ এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকের চালান ভাগাভাগি করছিল। গোপনে খবর পেয়ে রাত পৌনে ২টায় সেখানে অভিযান চালায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে গুলি চালায়। পুলিশও আত্নরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে।এ সময় রাজন গুলিবিদ্ধ হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ  রাজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়া নামক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শামীম সরদার (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীমের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় ৯টি মাদক মামলা রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, রাতে মাদক উদ্ধারে উপজেলার পৌর এলাকার আড়পাড়া নামক স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শামীম সরদারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সন্দেহভাজন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে মোস্তাক আহামদ (৩৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাত ১০টার দিকে বড়মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তাক আহামদ মুন্সিরডেইল গ্রামের বাসিন্দা।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দেবেঙ্গাপাড়া পাহাড়ি এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। পুলিশের সঙ্গে আধা ঘণ্টা গোলাগুলির একপর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী মোস্তাকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় এক হাজার ইয়াবা, চারটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, সাতটি গুলি ও ৩০টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত মোস্তাক ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় তিনটিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। মোস্তাকের মৃতদেহ উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

এর আগে ভোরে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ হাসান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে, গতকাল রাত ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আকতার কামালকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয়ে আটক করেছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। টেকনাফ থানার পুলিশ জানিয়েছে, আকতার কামাল ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম  আজাদ। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জেলা সদরের সাতপাকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই)আবদুল ওয়াদুদ এবং অন্য দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহত আজাদের মৃতদেহের পাশ থেকে একটি পাইপগান এবং কয়েক বোতল ফেনসিডিল এবং কিছু ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password