কন্যা হত্যার মূলহোতা বাবা, সহযোগিতায় চাচা!

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৮)

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটি আক্তার হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা তার বাবা সায়েদ আলী নিজেই। ‘ধর্ষক’ বাবুল মিয়াকে ফাঁসাতে নিজেই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে প্রতিবেশী ময়না মিয়া। ঘটনার সঙ্গে আরও একজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি জড়িত।

আজ শনিবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।

বিউটি হত্যা: মূলহোতা বাবা, সহযোগিতায় চাচা!

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাবুল নয়, বিউটির প্রকৃত হত্যাকারী তার কথিত চাচা ময়না মিয়া। তবে এ হত্যার ঘটনা বিউটির বাবার উপস্থিতিতেই ঘটেছে। তাকে হত্যার সময় বিউটির বাবা সায়েদ আলী পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। এ হত্যাকাণ্ডে আরেকজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি জড়িত ছিল। সে বিউটির হাত-পা চেপে ধরে রাখে। আর ময়না মিয়া বিউটির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

তিনি জানান, মামলাটির বাদী বিউটির বাবা সায়েদ আলী আর ময়না মিয়া বিউটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান সাক্ষী। কিন্তু এ মামলা সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় প্রথমে ময়না মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিউটি হত্যা: মূলহোতা বাবা, সহযোগিতায় চাচা!

পুলিশ সুপার জানান, ৬ মার্চ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলামের আদালতে নিজেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে ময়না মিয়া। সেখানে আরও কয়েক জনের নামও প্রকাশ করে সে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনে ময়না মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার বাবুল মিয়ার মায়ের কাছে পরাজিত হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুলের পরিবারকে ফাঁসাতে বিউটিকে হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি সদর উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর কন্যা বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। এরপর বিভিন্ন স্থানে রেখে তাকে ধর্ষণ করে বাবুল। ১৮ দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি বাবুল মিয়া কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেন বিউটির বাবা ছায়েদ আলী। ১৬ মার্চ রাতে বিউটি আক্তার তার নানা বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন দুপুরে ব্রাহ্মণডোরা হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password