স্বার্থপরতা ত্যাগ করি, শান্তির জীবন গড়ি

  প্রিন্ট
(Last Updated On: মার্চ ১১, ২০১৮)

আমার প্রতিবেশী আমার ভাই. অন্যের প্রতি ত্যাগের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণ করতে পারি। সকল ধর্মেই বিভিন্ন ভাবে অন্যের জন্য ত্যাগের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। যিনি নিজের উপর্জিত সম্পদ হতে অন্যের জন্য ত্যাগ করতে পেরেছেন তিনিই যুগে যুগে মহান হয়েছেন। আসুন আমরাও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মানুষের কল্যাণে ব্রতি হই। কারিতাসের ত্যাগ ও সেবা অভিযান ২০১৮ উপলক্ষে অাজ মার্চ ১১, রোববার কারিতাস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান চার ধর্মের বক্তারা “স্বার্থপরতা ত্যাগ করি, দয়া ও শান্তির জীবন গড়ি” এ মূলসুরের আলোকে তাদের বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে মুলসুরের তাৎপর্যের আলোকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক। “স্বার্থপরতা ত্যাগ করি, দয়া ও শান্তির জীবন গড়ি” এ মূলসুরের আলোকে প্রধান চার ধর্মের (ইসলাম, সনাতন, বৌদ্ধ এবং খ্রীষ্ট ধর্মের) চারজন আমন্ত্রিত বক্তারা ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আলোচনা ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। আলোচনা পর্বে অংশ গ্রহণ করেন কামালে ইশকে মুস্তফা (দ.) মাদ্রাসা বাকলিয়া, চট্টগ্রাম-এর প্রভাষক, মোহাম্মদ নাজেম উদ্দীন, জুডিশিয়াল ভিকার, চট্টগ্রাম আর্চডায়োসিস, রেভা. ফাদার লেনার্ড সি রিবেরু, মেধস মুনির আশ্রম, বোয়ালখালী -এর সভাপতি ও পঞ্চানন ধাম আশ্রম, চট্টগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) সচ্চিদানন্দ রায় চৌধুরী এবং কাতালগঞ্জ নবপ-িত বৌদ্ধ বিহার চট্টগ্রাম-এর উপাধ্যক্ষ সুনন্দ ভিক্ষু। তাঁরা স্বার্থপরতা ত্যাগ করে কিভাবে দয়া ও শান্তির জীবন গড়া যায় এ বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে নিজ নিজ ধর্মের মর্মবাণীসমূহ উপস্থাপনের পাশাপাশি সমাজে শান্তিময় পরিবেশে সকলে মিলেমিশে বসবাস করার ক্ষেত্রে অন্যের প্রতি দয়া ও ত্যাগ করার উপর গুরুত্বারোপ করে তাঁদের বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তারা বলেন বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্রতা নির্মূলে একে-অপরের প্রতি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। বক্তারা আরো বলেন, সমাজে একদিকে দারিদ্রতা অন্য দিকে ভোগ বিলাস যার মূলে রয়েছে স্বার্থপরতা। কিন্তু আমরা যদি আমার প্রতিবেশীর প্রতি দয়াবান হই তাহলে এ পৃথিবীতে অভাব বলতে কিছুই থাকবে না। অন্যান্য অতিথিবর্গের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বক্তারা বর্তমান বাস্তবতায় ত্যাগ ও সেবার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ সম্ভব বলে অভিমত প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, কারিতাসের এ কার্যক্রম অন্য অনেকের জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কারিতাসে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কর্মরত (১০, ১৫, ২০ ও ২৫) ৫৩ জনকে কর্মীকে লং সার্ভিস এওয়ার্ড প্রদান করেন চট্টগ্রাম আর্চডায়োসিসের ভিকার জেনারেল ফাদার গর্ডন ডায়েস এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, কারিতাস বাংলাদেশের একশত প্রকল্পের মধ্যে একটি অন্যতম শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম হলো ‘ত্যাগ ও সেবা অভিযান’। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা কাজে দেশের সাধারণ জনগণকে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে গত মার্চ ১ হতে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এর কার্যক্রম চলবে আগামী মে ৩১ পর্যন্ত। কারিতাস কর্মীদের বেতনের অংশ এবং বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিদের কাছ হতে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় এ প্রকল্পটি শুরু হয় ১৯৮০ খ্রীঃ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত অনুদানের অর্থ প্রতিবছর দুস্থ ও পীড়িত মানুষের সেবায় ব্যয় করা হয়ে থাকে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password