এই সরকারের আমলেই গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও ন্যয় বিচারের অধিকার হারিয়েছে জনগণ- ডা. শাহাদাত হোসেন

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০১৭)

 

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ২৫শে মার্চে ভয়াবহ গণহত্যা ঘটেছিল। এদেশের হাজার হাজার মানুষকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী গণহারে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা ও মুক্তির দাবিকে বন্ধ করার জন্য এই গণহত্যা চালিয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী। কিন্তু এই গণহত্যার পরও এই বীর বাঙ্গালী জাতিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দীর্ঘ ৯ মাস স্বাধীকার আন্দোলনের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার সূর্য্য ছিনিয়ে এনেছিল মুক্তিকামী জনতা। স্বাধীনতার মূল মন্ত্র গণতন্ত্র, সাম্যতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যয় বিচারের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছিল এই দেশের  মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও এদেশের মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের আইনের শাসন নেই গণতন্ত্র, সাম্যতা, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যয়-বিচারের অধিকার। ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, তিস্তা পানি চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত সরকারের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই এই চুক্তির কথা থাকলেও এই সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মাসে যে ভারত সফরের কথা রয়েছে তাতে সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তির মত কোন গোলামী চুক্তি এদেশের জনগন মেনে নিবেনা। ডা. শাহাদাত আরো বলেন, ২৫শে মার্চ কালো রাত্রিতে পাক হানাদার বাহীনি গণহত্যায় এই দেশের মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে দিক বেদিক ছুটাছুটি করছিল ঠিক তখনই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিল। ডা. শাহাদাত হোসেন সম্মেলনে আগত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, জনগনের প্রতিনিধি এমপিকে চিনেন কিনা, ৬ মাস বা ১ বছরে এমপির চেহেরা দেখেছেন কি না? জানতে চাইলে সম্মেলনে আগত জনতা উত্তরে কাউন্সিলর মাষ্ঠার জাফরের নাম বল্লে তিনি বলেন, না কাউন্সিলর মাষ্ঠার জাফর এমপি না, আপনারা এমপিকে চিনেন না। কারণ তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিকাশ এমপি। এলাকার উন্নয়নের সাথে উনার কোন সম্পর্ক নেই। তাই জনগণ (আপনাদের) সাথেও পরিচয় নেই। এই সরকারের বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি মন্ত্রীরা জনবিচ্ছিন্ন। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে জনগণের কাতারে আসেন না। তিনি অদ্য ২৫ মার্চ শনিবার বিকালে পশ্চিম বাকলিয়া গণি কলোনী মাঠে ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অথিতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, বিএনপি তৃণমূল জনগণের প্রাণ প্রিয় দল। দেশ যখন গভীর সংকটে পতিত হয়েছিল তখন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে জনতা ক্ষমতায় বসিয়েছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাকশালী শাসন বিলুপ্ত করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছিলেন। বর্তমান আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে আসতেও সহযোগীতা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দলের উপর দেশের জনগণ সবসময় আস্তা রেখেছে। কিন্তু গণতন্ত্র এখন গণভবনের চার দেওয়ালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনার স্বৈর-সরকারের নিয়ন্ত্রিত শাসন ব্যবস্থার কারণে সভা সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বিরোধী দলকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা না থাকায় দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র না থাকায় বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশে দুই ধরনের শাসন ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে। আওয়ামীলীগ দোষ করলে মাপ আর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনা কারণে মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি নেতা আলহাজ্ব নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও ইব্রাহিম বাচ্ছু এবং মোস্তাকিম মাহমুদের সঞ্চালনায় বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। বক্তব্য রাখেন, বাকলিয়া থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদ আহমেদ বিএ, নগর বিএনপি নেতা ইস্কান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সবুক্তগীন ছিদ্দীকি মক্কি, ইকবাল চৌধুরী, নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, ফাতেমা বাদশা, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, কামরুল ইসলাম, গাজী মো: সিরাজ উল্লাহ, বেলায়েত হোসেন বুলু, ইসহাক চৌধুরী আলিম, আফতাবুর রহমান শাহীন, হাজী নবাব খান, হাজী মো: তৈয়ব, মনজুর আলম, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, আতাউল্লাহ বাবু, এম.এ হালিম বাবলু, সৈয়দ আবুল বশর, ছাইফুর রহমান শপত, আখি সোলতানা, জসিম উদ্দীন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, এমদাদুল হক বাদশা, এস.এম ফারুক, মো: পারভেজ, সাদ্দাম, লেদু, সেলিম, রাকিব, জাবেদ, জাকির, জাহাঙ্গীর, মেহেদী, রকি, ইমন প্রমুখ। সম্মেলনের ২য় অধিবেশনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ১৭নং পশ্চিম বাকিলয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে কাউন্সিলর আলহাজ্ব এ.কে.এম জাফরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ সভাপতি মো. সেকান্দর হোসেন, সহ-সভাপতি শেখ মো. আলাউদ্দীন, মো. খুরশেদ আলম, মো. শফিকুর রহমান, মো. শাহাজাহান, সাধারণ সম্পাদক হাজী এমরান উদ্দীন, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মো. জমির উদ্দীন, যুগ্ন সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাঈল শরীফ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রোকনউদৌল্লাহ এর নাম ঘোষণা করেন।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password