৮টি বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি অথচ শেষ ২৮ ফ্রেরুয়ারী !

  প্রিন্ট
(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮)

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ২৮শে ফ্রেরুয়ারীর মধ্যে বাঁধ নির্মানের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৮টি বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয় নি। এবারও বোরো ফসল ডুবার আশংকা করছে হাওর পাড়ের কৃষকগন। অন্যান্য বছর এই সময়ে সকল হাওরের সকল বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যায়। বাঁধ নির্মান সময় মত না হলে বাঁধ মজবুত হবে না বরং দুর্ভল হবে। আর সামান্য পানির চাপে ও বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙ্গে যাবার আশংকা থাকবে। ফলে ঐ সব বাঁধের পাশের কৃষকগনের মাঝে চরম ক্ষোবের সঞ্চার হচ্ছে। জানাযায়,এ উপজেলার অনেক বাঁধের কাজ নাম মাত্র করা হয়েছে। কিছু কিছু বাঁেধর ৪ভাগের এক ভাগ করেই ফেলে রেখেছে। ভাল ভাবে মাটি বাঁেধ বসানোর জন্য কাজ করা হয় নি। ফসল রক্ষায় অনুমোদিত প্রকল্প গুলোতেও বিলম্বে কাজ শুরু করেছিলো প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইসি) কমিটি। কাজ না হওয়া ৮টি বাঁধ গুলোতে পানি অনেক পূর্বেই কমে গিয়েছিল। কেনই বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঐ সব পিআইসিদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় নি। এ কারণে নির্ধারিত ২৮ফ্রেরুয়ারীর মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আরো জানাযায়,এই উপজেলায় ছোট বড় ৯৭টি বাঁেধর জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৩কোটি টাকা। যে বাঁধ গুলো এখনো শুরু হয় নি সেগুলো হল,পিআইসি নং ২৮এর সভাপতি রতনশী গ্রামের আব্দুল জলিল,পিআইসি নং ৮৯এর সভাপতি ভাটি তাহিরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম,পিআইসি নং ৯০এর সভাপতি কচুয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম,পিআইসি নং ৯১এর সভাপতি শিক্ররামপুর গ্রামের মহিবুর,পিআইসি নং ৭৬এর সভাপতি চিলাইন তাহিরপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম,পিআইসি নং ৭৭এর সভাপতি তরঙ্গ গ্রামের দেলোয়ার হোসেন,পিআইসি নং ৭৮এর সভাপতি সামছুল আলম,পিআইসি নং ৭৯এর সভাপতি শিক্ররাপুর গ্রামের সাফাতুল ইসলাম। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন,উপজেলা থেকে স্থানীয় অনেক ইউপি চেয়ারম্যানদের অলিখিত সম্পূর্ণ দায়িত্ব আতœীয় স্বজনদের দেওয়ায় তারা নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। অনেক পিআইসিরা বাঁেধর কাছ থেকেই মাটি কেটে বাঁধ নির্মান করে। পিআইসিরা একটাই কথা বলে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে। সেটা হল পানি কমছে দেরীতে। এই বাঁধ গুলোতে পানি আরো একমাস পূর্বেই পানি কমলেও কেন বাঁধ নির্মানের কাজ শুরু করে নি পিআইসি। হাওর রক্ষা বাঁধ গুলোর পাশের হাওর পাড়ের একাধিক বাসীন্দারা জানান,বাঁধে কাজ না করে টাকা মারার ধান্দা করছে। এছাড়াও বাঁধের কাজ অনেকেই না করে টাকা উত্তোলন করার পায়তারা করছে। আর যারা বাঁধ নির্মানের দায়িত্ব পাওয়ার পর যতেষ্ট সময় এবং সুযোগ পাওয়ার পরও কাজ করতে পারে নি তাদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান,এ উপজেলা মাটিয়ার হাওরের কয়েকটি বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয় নি সরকার নির্ধারীত সময়ও শেষ। এখনো বাঁধ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা দুশচিন্তায় আছে। ফলে আবারও বোরো ফসল ডুবার আশংকা রয়েছে। আমি এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,উপজেলায় ৮টি বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয় নি। ফলে কৃষকরা আতœংকে আছে। আমি সবাইকে বলেছি দ্রুত কাজ শেষ করতে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব জানান,হাওরের প্রতিটি বাঁধের কাজ নিজে সব সময় দেখা শুনা ও খবরাখবর রাখছি। যাতে করে বাঁধের কাজে কোন রখম গাফিলতি না কওে কেউ। টেকনিক্যাল কিছু সমস্যার কারনে কয়েকটি বাঁধের কাজ শুরু হয় নি। এই বিষয়টি আমি মিটিংয়েও বলেছি। বোয়ালমারা অংশের ৫টি পিআইসি (কমপ্রাটমেন্টাল বাঁধ) মেশিনের মাধ্যমে কাজ করার জন্য মেশিন এসেছে আজ-কাল শুরু হবে। বাঁধ গুলোতে আমি নিজে পরির্দশনে যাচ্ছি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,আমি বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানতে পেরেছি জেলার ৩০টির মতো প্রকল্পে কাজ শুরু করা হয় নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা জন্য সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের নিকট থেকে মাটি কাটা সম্পুর্ণ সরকারের নীতিমালার পরিপন্থি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাৃদের জানিয়ে দেব ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password