প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান ধর্মীয় ভাবধারাবিরোধী ও বাঙালি সংস্কৃতি-চেতনা বহির্ভূত লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবি

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৭)

 

২১ মার্চ মঙ্গলবার ২০১৭ দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সৈয়দা সরোয়ার জাহান এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে এক স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের বাঙালির চেতনাবিরোধী ও ধর্মীয় ভাবধারার সাথে সাংঘর্ষিক ও নৈতিকতাহীন কোন লেখককের লেখা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত না করার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নৈতিকতা, ধর্ম ও বাঙালি চেতনা রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ মুসা কলিমুল্লাহ, এস.এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, অমর কান্তি দত্ত, অধ্যাপক দিদারুল আলম, অধ্যক্ষ ইউনুচ কুতুবী, হেকিম শিহাব ইকবাল চৌধুরী, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, আবদুল করিম, অ্যাডভোকেট খায়ের আহমদ প্রমূখ। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের সর্বোচ্চ অভিভাবক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ বিষয়ে জরুরীভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শিক্ষা নিয়ে এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি অভিভাবক মহল চরমভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যেমন শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম এই সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে সফলতার উত্তম উদাহরণ। বিদেশের সামগ্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শিক্ষাব্যবস্থাসহ সর্বস্তরে সরকারের এই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তাকে ধ্বংস করার কুমানসে কতিপয় নাস্তিক্যবাদী লেখক, ধর্মদ্রোহী এবং বাঙালি চেতনা বিরোধী লেখকগণ আমাদের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যারা ইতিমধ্যে উক্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যপুস্তকে প্রায় ৫০টির অধিক ভারতীয় লেখকের বিতর্কিত প্রবন্ধ ঢুকিয়ে দিয়ে এদেশের বাঙালি চেতনা ও সংস্কৃতি বিরোধী হিসেবে ছাত্রসমাজকে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে বইয়ে পড়ানো প্রবন্ধগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘ ষোল বছরের মধ্যে কোন স্থানে কোন প্রতিবাদ হয়নি। কিন্তু ২০১৩ সালে এসে হঠাৎ ধর্মবিরোধী, নাস্তিক্যবাদী, নৈতিকতা ও বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনাবিরোধী ভারতীয় কিছু হিন্দু লেখকের আপত্তিকর ৫০টি লেখা পাঠ্যবইয়ে পড়ানোর বিরুদ্ধে সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবাদ গড়ে তোলেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঐসব বিতর্কিত, বিদেশি নাস্তিক্যবাদী লেখা পরিবর্তন করে দেশীয় লেখকদের লেখা পুস্তকে স্থাপন করে এবং ২০১৭ সালের বাংলা পাঠ্যবইয়ে ২০১২ সালের আগের পড়ানো এদেশীয় কবি লেখকদের বাঙালি চেতনার পক্ষীয় লেখাগুলি ২০১৭ সালে পুনমুদ্রণ ও পুনঃপাঠ্য করার এদেশের কোটি কোটি অভিভাবক আম ছাত্রজনতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই কালজয়ী অবদানের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এবং এই অবদান এই বাঙালি জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই শুভ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এদেশের কতিপয় জনবিচ্ছিন্ন নাস্তিক লেখকদের প্ররোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলা পাঠ্যপুস্তকে এই শুভ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৩ সালের ঐ বিতর্কিত ভারতীয় হিন্দু ঐ ৫০টি বিতর্কিত লেখা পুনঃস্থাপনের দাবিতে গত ২৩শে ফেব্র“য়ারি ২০১৭ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেছেন। অথচ ঐ ৫০টি বিতর্কিত প্রবন্ধে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম নয় বরং হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় চেতনাকেও কটাক্ষ ও হেয় করা হয়েছে। এবং ঐ ৫০টি প্রবন্ধের প্যারায় প্যারায় বাঙালি সংস্কৃতি নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, নাস্তিক্যবাদী চেতনা, নৈতিকতাহীন ভোগবাদী চেতনা বিবৃত হয়েছে। হেফাজতের প্রেসক্রিপশনের প্রবন্ধ যেমন এদেশে পড়ানো যাবে না, তেমনি ভারতীয় কম্যুনিস্টদের ধর্মবিরোধী লেখাও এদেশে পড়ানো যাবে না। এ রীটের দাবি ও বক্তব্য অনুযায়ী ২০১২ সালের পূর্বের পাঠ্যপুস্তকের প্রবন্ধগুলি বাদ দিয়ে ২০১৩ সালের বিতর্কিত নাস্তিক্যবাদী, ধর্মবিরোধী, ঐ বিতর্কিত ৫০টি প্রবন্ধগুলি যদি সরকার পুনঃমুদ্রণ ও পুনঃপাঠ্য করেন তাহলে আগামী নির্বাচনের পূর্বেই এদেশের ছাত্র অভিভাবকদের মনে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠবে। তাই আমাদের দাবি হলো উক্ত রীট আবেদন খারিজ করে ২০১৭ সালের ছাপানো বাংলা বইয়ের প্রবন্ধগুলি বহাল রাখা।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password