গাইবান্ধায় ধর্মঘট প্রত্যাহার ওষুধের দোকান খোলা

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৮)

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা

প্রায় ৩০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গাইবান্ধা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির ডাকে অনির্দিষ্টকালের ওষুধের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ওষুধের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদের মধ্যস্থতায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ওষুধের দোকান খোলেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় ওষুধের দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ মুঠোফোনে বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার রাত আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আমাদের সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা, গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শাহজাদা আনোয়ারুল কাদিরসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সমস্ত ওষুধের দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ব্যবসায়ীরা ওষুধের দোকান খোলেন। এ ছাড়া দুইপক্ষের দায়েরকৃত মামলা দুইটি আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর আগে গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েও ওষুধ না পাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে দুইজন শিশু রোগীকে রেফার্ড করা হয়। দু’জনেরই বয়স একদিন করে।
এদের মধ্যে একজনের নাম বাবু। সে সাঘাটা উপজেলার উল্ল্যা সোনাতলা গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের ছেলে। অপরজনের নামও বাবু। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। এ ছাড়া ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়েন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. সোহেলী সৈয়দ বলেন, ওষুধ সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেলে দুইজন শিশুকে রমেকে রেফার্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ও অপরজন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জন্ম নেয়। তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে না থাকায় ও বাইরের সকল ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় তাদেরকে রমেকে রেফার্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হাসপাতাল ভর্তি ছিল ও অপরজনকে জরুরি বিভাগ থেকেই রেফার্ড করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সকল ওষুধের দোকান বন্ধ দেখা গেছে। এ ছাড়া কয়েকজন রোগীকে গাইবান্ধার কোনো হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি না করে সরাসরি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে হাসপাতাল ও এর আশেপাশে কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের উপর হামলাকারী ও জীবননাশের চেষ্টাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গাইবান্ধার সমস্ত ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এর আগে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ মোনার বোন শারমিন আক্তারের সাথে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে ওষুধ ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password