আনোয়ারা গহিরায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও প্রস্তাবিত ইকোনোমিক জোন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭)

মুহাম্মদ মনছুর

উন্নয়ন শব্দটি সর্ববিষয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুরু হয়ে চলমান গতিতে ধারাবাহিক বিরামহীন চলতে থাকে। প্রতিটি বিষয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন। উন্নয়ন ছাড়া অগ্রগতি উন্নতি অসম্ভব। উন্নয়ন কোন নির্দিষ্ট জাতি,শ্রেণি ও বর্ণের জন্য হয়না। হয় উম্মুক্ত সবার জন্য। যেখানে উন্নয়নের সুফল ভোগ করার অধিকার সবার থাকে। যেহেতু উন্নয় জনহিতকর হিসেবে চিহ্নিত। চাই সেটা অঞ্চল ভিত্তিক হোক,কিংবা দেশব্যাপি হোক। চাই অবকাঠোমো উন্নয়নের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর। সমাজের তৃনমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত গোটা দেশকে আধুনিক ও উন্নত করতে উন্নয়ন প্রয়োজন। উন্নয়নে মাধ্যমে সবকিছু উন্নত হয়, আলোকিত হয়। সৃষ্টি হয় আধুনিকতা আর সহজ প্রাপ্যতা। উন্নয়নে আছে সফলতা,এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ ও দৃঢ় প্রত্যয়। উন্নয়নের জোয়ারে আনন্দিত হয় গোটা জাতি। ঈর্ষান্বিত হয় সন্ত্রাসি চাঁদাবাজি ও ষড়যন্ত্রকারি। উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের স্বার্থের উপর আঘাত হয়,আধিপত্য নষ্ট হয়। যেহেতু তারা কমিশন বানিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ধান্ধাবাজি, সন্ত্রাসি,লুৎপাট, ও চুরি এসব করতে পারেনা। বিধায় উন্নয়ন তাদের সহ্য হয়না। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিতে তাদের দুঃখ হয়না। উন্নয়নকে তারা সবসময় বাঁধাগ্রস্ত করতে অপকৌশলে ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠে। উন্নয়নের অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করে পকেটে নিতে খুনের মত অপরাধ করতে তাদের দ্বীধা হয়না। প্রতিটি সরকার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আধুনিক ও উন্নত করতে আন্তরিক। এ লক্ষে তারা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে এবং উদ্যোগ নেয়। উন্নয়ন শুধু মানুষের চাহিদা নয়, দেশেরও চাহিদা। উন্নয়ন নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর নয়। উন্নয়ন নিয়ে বৈষম্য ও বঞ্চণা কারো কাম্য নয়। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার পালাবদল হয়। মর্তমান মহাজোট সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসিন হয়। ক্ষমতার দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেছে। উন্নয়ন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদারতা ও আন্তরিকতায় কোন প্রশ্ন নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে,উদ্যোগ নিচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য  চেষ্টা ও পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যার সুফল জনগণ পাচ্ছে এবং ভোগ করছে। প্রতিটি সরকার দেশের উন্নয়নে গৃহিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে থাকে। উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন ঠেকাতে কিংবা নানা কৌশলে বাঁধাগ্রস্ত করতে সংবদ্ধ চক্র সবসময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। তাদের কাজ শুধু উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করে সরকারের সফলতা ম্লান করা। এটা প্রতিটি সরকারের ক্ষেত্রে ঘটে। এসব কাজ যারা করে এরাও সরকারের উচ্চ পদস্ত অসাধু কর্মকর্তা। দলের বড় বড় পদের অসাধু ও দুস্কৃত নেতা। এসব অসাধু কর্মকর্তা ও দুস্কৃতকারি নেতার যোগসাজসে দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধের যত কর্মকান্ড আছে সবকিছু করে বেড়ায়। দলের নাম ভাঙিয়ে এরা সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি,রাহাজানি,খুন,খারাবি,টেন্টারবাজি এমন কি মানব পাচার ও ইয়াবা ব্যবসার কাজও করে। জাতিয় অপরাধ তালিকায় এরা শীর্ষে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে,উদ্যোগ নিচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দিচ্ছে। উন্নয়ন একটি চলমান ধারাবাহিক বিষয়। উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ প্রয়োজন। একে ঠেকাতে থেমে নেই ষড়যন্ত্রও। প্রধানমন্ত্রীর গৃহিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাঁধাগ্রস্ত করতে কিংবা ঠেকাতে সংঘবদ্ধ চক্র আড়ালে দেশি এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যেমনটি ঘটেছিল পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে। স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম ছিল বঞ্চনা ও যন্ত্রণার নগরি। বর্তমান প্রধামন্ত্রী ২০০৮ সালে নির্বাচন পূর্ব জনসভায় চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব যদি প্রধানমন্ত্রী না নিতেন তাহলে এরকম অভূতপূর্ব উন্নয়ন কখনো হতো না। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী যেখানে আন্তরিক সেখানে চট্টগ্রাম থেকে চা বোর্ড সরিয়ে নেয়া,সিঙ্গাপুর ফ্লাইট বাতিল,সরকারি বানিজ্যক অফিসের সদর দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেয়া এসব কিসের লক্ষণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে দেশে সর্বপ্রথম ৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তাব করে ঘোষণা করেছিলেন। তন্মধ্যে চট্টগ্রামে ২টি মিরসরাই উপজেলায় মিরসরাই ইকোনোমিক জোন,আনোয়ারা উপজেলায় গহিরা ইকোনোনিক জোন-১ প্রস্তাব করে ঘোষণা করেছিলেন। যে সময়ে গহিরা সাগরের জোয়ারের পানিতে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তলিয়ে যাচ্ছে,সে সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইকোনোমিক জোন ঘোষণায় এলাকাবাসির মাঝে নতুন করে জেগে উঠার স্বপ্ন জাগে। এতে এলাকাবাসি আনন্দিত ও পুলকিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মাঝপথে হঠাৎ আনন্দের মাঝে বিনা মেঘে বজ্যপাত নেমে পড়ল। একসাথে প্রস্তাবিত ও ঘোষিত ইকোনোমিক জোন ২টির মধ্যে মিরসরাই জোনের বাস্তবায়নে কাজ চলছে। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মিরসরাই ইকোনোমিক জোন ইস্যু করা হয়। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হয়। সর্বশেষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের মাধ্যমে মিরসরাই ইকোনোমিক জোন বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে। গহিরা ইকোনোমিক জোন শুধুমাত্র জায়গা অধিগ্রহনের ৩ ধারা নোটিশ পর্যন্ত। পরবর্তি ৬ ও ৭ ধারা কিংবা অন্য আর কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। সর্বপ্রথম প্রস্তাবিত ও ঘোষিত গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বাস্তবায়ন না করে জোন-২ নামে আনোয়ারায় আরেকটি ইকোনোমিক জোনের কাজ চলছে। গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ মিলছেনা। গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে কিসের লক্ষণ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন কর্তৃপক্ষ (বেজা) র তদারকি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ও ঘোষিত গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ প্রকল্প কখনো বৃথা যেতে পারেনা। গহিরাকে নিয়ে বার বার ষড়যন্ত্র হয়। কেন বা কি কারনে হয় ? বিষয়টি আজো পরিষ্কার নয়। বিধায় গহিরাবাসি ষড়যন্ত্র ও বঞ্চনার শিকার। অতীতের অনেক জনপ্রতিনিধি গহিরাকে কুতুবদিয়া বানানোর অপপ্রয়াস করেছিলেন। তবে বর্তমান কুতুবদিয়া অনেক উন্নত। গহিরার মত অবস্থা আর কোথাও আছে কিনা বলা কঠিন। বঞ্চনা ও যন্ত্রণার যাঁঁতাকলে পৃষ্ঠ হতে হতে গহিরাবাসি হারিয়েছে শান্তির দ্বীপ। সেই শান্তির দ্বীপ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রাউজান উপজেলায়। এবারও কি হারাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ও ঘোষিত গহিরা ইকোনোমিক জোন-১। উপকূলিয় এলাকা হিসেবে ত্রিমুখি সাগর বেষ্ঠিত গহিরায় নদি ভাঙ্গন এখানকার জনপদের নিত্য সমস্যা। গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ নিয়ে যুক্তি অজুহাতের শেষ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বুঝে শুনে গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ প্রস্তাব করে ঘোষণা করেছেন। এবং গহিরা রক্ষায় শঙ্খ ও বঙ্গোপসাগরের ভাঙ্গন ঠেকাতে পাথরের স্থায়ি বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালে ২৮০/- কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন। জোন বাস্তবায়নে রাস্তা নেই,বেড়িবাঁধ নেই অজুহাত কিসের লক্ষণ। ন্যুনতম ষড়যন্ত্রও কি এখানে নেই ? তবে মিরসরাই এগিয়ে গেলে কেন গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বন্ধ থাকবে। মানব পাচার ও ইয়াবা ব্যবসার ক্ষেত্রে কোন যুক্তি ষড়যন্ত্র নেই। বঞ্চনার শীর্ষে থাকা গহিরা বখতিয়ার রোড দীর্ঘ ৩৫ ধরে শুধু মাটি ভরাটের কাজ ছাড়া ইটের সলিন হয়নি। পাথর দিয়ে টেকসই স্থায়ি বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য দেয়া ২৮০ কোটি টাকার বরাদ্দের কাজ এখনো শুরু হয়নি। রিংবাঁধ নির্মাণের জন্য ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে রিংবাঁধ নির্মাণ হয়নি। আদৌ স্থায়ি বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে কিনা তার কোন লক্ষণ মিলছেনা। স্থায়ি বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় পুরো গহিরা সারা বছর সাগরের জোয়ারের পানিতে ভাসে। চাষাবাদ,ক্ষেত খামার কিছু হয়না। বেকারত্ব বাড়ছে। মানুষের কষ্টের সীমা নেই। জোয়ারের পানির কারনে পুরো গহিরা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। স্কুল মাদরাসা পড়–য়া ছাত্ররা পাঠশালায় যেতে পারেনা। শিক্ষার হার চরমভাবে হ্রাস পাচ্ছে। মানুষের রোগ ব্যাধি হয়,তবে চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। আগামি গ্রিষ্ম,বর্ষা,শরৎ ও হেমন্তের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত গহিরাবাসিকে সাগরের জোয়ারের পানিতে ভাসতে হবে। এ ছাড়া কোন উপায় নেই। গহিরায় মা ও শিশু মেডিকেল সেন্টার হচ্ছেনা। বঞ্চনার যাঁতাকলে পৃষ্ঠ হতে হতে গহিরাবাসি এখন মিশে গেছে। বাঁচার কোন শ্লোগান তাদের আর নেই। এমন কি অপরাধের দায়ে গহিরাবাসির এমন অভিশাভ। পাথরের স্থায়ি বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় নদি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গহিরাবাসি হারিয়েছে শত শত বছরের বাপ দাদার ভিটে বাড়ি,কোটি কোটি টাকার ধানি জমি, পুরনো কবরস্থান, মসজিদ, মাদরাসা স্কুল ও সহায় সম্বল। যা এখনো হারাচ্ছে। নি:স্ব অসহায় গহিরাবাসির জন্য সবাই বনে জনদরদি প্রাণপ্রিয় নেতা। সবাই শুধু আশার বাণি শুনায়। গহিরাবাসির প্রশ্ন আর কত হারালে বাঁচার ঠিকানা পাবে। বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে। বাঁচানোর একটাই পথ সেটি হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বাস্তবায়ন,পাথর দিয়ে স্থায়ি বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ সহ অবকাঠামো উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ বিকল্প নেই। আশা করছি মাননীয় প্রধামন্ত্রী গহিরাবাসির পাশে থেকে গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বাস্তবায়ন সহ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের হস্তক্ষেপ অব্যহত থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গহিরা ইকোনোমিক জোন-১ বাস্তবায়ন না হলে সেই জোন হবে কিনা তাতে এলাকাবাসির মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

 

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password