উন্নত চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা মৌলভীবাজারের দৃষ্টিহীন মানবাধিকার কর্মীর জমিজমা বিক্রি করে এখন দিশেহারা

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭)

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার

বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ মৌলভীবাজারের দৃষ্টিহীন মানবাধিকার কর্মী মাসুকুর রহমান নিরুপায় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্য সূত্রে জানা গেছে- এক সময়ের সিলেটের নির্ভীক সাংবাদিক, বর্তমানে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা)’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১নং খলিলপুর ইউনিয়নস্থিত শেরপুর সংলগ্ন ব্রা‏হ্মণগ্রামের মৃত: কুটিমনা গাজীর পুত্র মো: মাসুকুর রহমান ডায়াবেটিস রোগের কারণে প্রায় ৪ বছর পূর্বে হঠাৎ করে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। এরপর চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হলে তাকে ঢাকাস্থ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার একটি চোখ অপারেশন করে দীর্ঘ দুইমাস হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু, অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় দুইমাস পর একই চোখ পুনরায় অপারেশন করলে চোখটি একেবারেই অন্ধ হয়ে যায়। এরপর অপর চোখটি উন্নত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালকের অফিস আদেশে তিন সদস্যের একটি বোর্ড বিষয়টি তদন্ত করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে স্থানান্তরপত্র প্রদান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এরপর তিনি চিকিৎসা ভিসার জন্য আবেদন করলে আমেরিকান দূতাবাস থেকে তাকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি এ ব্যাপারে মানবিক সাহায্য চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ডিজি কনস্যুলার লুৎফুর রহমান তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। এরপর ফেব্রুয়ারী মাসে পুণরায় মাসুকুর রহমানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে অতি দ্রুত আমেরিকার একটি হাসপাতালে বুকিং দেয়ার নির্দেশ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র নিয়ে আসতে বলে তার একখানা ভিজিটিং কার্ড দেন। পরবর্তী ১ম মার্চে মৌলভীবাজার- ৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীনের সুপারিশ সহকারে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করলে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত শেষে অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আরা সুরাত আমিন গত ০৫/০৫/২০১৬ইং তারিখের ৪৬৬নং স্মারকে মাসুকুর রহমানকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দিয়ে সমাজকল্যাণ সচিবের নিকট প্রেরণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও অনুমতিপত্র না পেয়ে সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীনের স্মরণাপন্ন হলে তিনি গত ০৬/০৯/২০১৬ইং পুণরায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সুপারিশপত্র প্রেরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ০৮/০৯/২০১৬ইং তারিখের ১০৬নং স্মারকে অতি দ্রুত মাসুকুর রহমানের ভিসা প্রসেসিংয়ের নির্দেশক্রমে অনুরোধ পররাষ্ট্র সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়। এরপর পররাষ্ট্র সচিব গত ১৫/০৯/২০১৬ইং তারিখের ২৯১৬নং স্মারকে অতিরিক্ত কোরাম সচিবের মাধ্যমে অঝঝ- ১৭৫নং স্মারকে ডিজি কনস্যুলারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এর পর থেকে ডিজি কনসৃ্যুলার তাকে একের পর এক তারিখ দিলেও অদ্যাবধি তা হচ্ছেনা। অথচ, দেশে চিকিৎসা এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাবার জন্য উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নিজের বসতবাড়ী ছাড়া সব জমিজমা বিক্রি করে মাসুকুর রহমান এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ দৃষ্টিহীন মারবাধিকার কর্মী মাসুকুর রহমানকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু, ডিজি কনসৃ্যুলারের সদয় সহযোগীতা না পাবার কারণে আজও তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেননা। এমতাবস্থায়, নিরুপায় হয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৌলভীবাজারের দৃষ্টিহীন মানবাধিকার কর্মী মাসুকুর রহমান।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password