জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি

  প্রিন্ট
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া আমেরিকান দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে এক ভাষণে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প এ স্বীকৃতির ব্যাপারে নিজের দৃঢ় সংকল্পের কথাই পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিলাম। কাজটা ঠিকই হয়েছে।’
গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ১০ মাসের মাথায় তিনি সে প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করলেন।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিয়ে অতীতের মার্কিন নীতিকেও নিজের বক্তব্যে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, ‘অতীতের অনেক প্রেসিডেন্টই বলেছিলেন যে তারা এটি করতে চান (জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া)। কিন্তু তারা তা করেননি। তারা করার সাহস পাননি, নাকি নিজেদের মতের পরিবর্তন করেছিলেন, আমি বলতে পারব না। আমি মনে করি, অনেক আগেই এটি করা উচিত ছিল।’ জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি
১৯৯৫ সালে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নেওয়া হবে-এই মর্মে একটি আইন পাস হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু এরপর থেকে প্রতি ৬ মাস পরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে এই স্থানান্তর–প্রক্রিয়া ৬ মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে হামাস ট্রাম্পের এ ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছে, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ‘নরকের দরজা’ খুলে গেল।
তারা আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে নিজ নিজ দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে জেরুজালেমে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর জিম্মাদার জর্ডান এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’।
এই সিদ্ধান্ত ‘চরম সীমা’ অতিক্রম করবে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান। সৌদি আরবও এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে সায় নেই তাদের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যেরও।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেছেন।
নেতানিয়াহু অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিষ্টান-এই তিন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর পুণ্যভূমি হিসেবে জেরুজালেমের যে অবস্থান, ট্রাম্পের এ ঘোষণায় এর কোনো পরিবর্তন হবে না।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password