বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সমীপে

  প্রিন্ট
(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭)

মাননীয়,

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সমীপে,

শ্রদ্ধেয় খালেদা আপারে,

গরম গরম কথার শুরুতেই আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া দেশ ও দলের কীভাবে মঙ্গল হয় এবং কীভাবে দুই ছেলেকে দেশে ফিরিয়া আনিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনা যায় এই ধরনের নানান চিন্তা-ভাবনা,পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিবার প্রচেষ্টা চালাইয়া দিনাতিপাত করিতেছেন। আমিও গরমের অসহ্য যন্ত্রণা ও মশার কামড় সহ্য করিয়া দেশের নানান কথা ভাবিয়া ভাবিয়াই শাহ মোহছেন আউলিয়া ও শাহ আমানত শাহের উছিলায় খাইয়া না খাইয়া ছাগলের ৩নং বাচ্চার মতো একপ্রকার বাঁচিয়া আছি।গেলবার চট্টগ্রামের জনপ্রিয় মেয়র মনজুর আলম সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়ায়াছিলাম বলিয়া লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না।বরং মনোযোগ সহকারে পড়িয়া দেখিবেন এবং যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন।ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।আপনি প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় সেইসময়ে যেসব বিষয়ে আলোচনা করিয়াছিলাম তাহা যথাযথ কাজ করিয়াছিলেন বলিয়া আপনার দলীয় লোকেরা বলিয়াছেন।এইজন্য বার বার আপনার দলীয় লোকেরা ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা আপনার সমীপে লিখিবার জন্য অনুরোধ করিয়া থাকেন।এইবারও তাই হইয়াছে।

আপারে,

আপনি হইলেন, এইদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পত্নী।সাবেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন বর্তমানে ১৯ দলীয় প্রধান আপনি।যদিও এই দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি দলের প্যাড সর্বস্ব অবস্থান রহিয়াছে মাত্র।যাক,সেই কথা।

আপারে,

দিন যতই ঘনিয়া আসিতেছে ততই আপনাদের আন্দোলনের গতি কেমন জানি মনে হইতেছে। বিদেশীদের শুধু বারবার নালিশ জানাইতেছেন।শেখ হাসিনা এই সেদিন আপনার নালিশ সম্পর্কে জনসভায় বলিয়াছেন-‘নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙ্গা জুতার বাড়ি খায়।’কথাটা খোঁচা দিয়া বলিয়াছেন যাহা ঠিক হয় নাই বলিয়া অনেকে বলিতেছে। ১৯ দলীয় লোকজনকে লইয়া এতসব না ভাবিয়া শুধুমাত্র বিএনপিকে কিভাবে চাঙ্গা করা যায় তাহা ভাবুন।গ্রাম-গঞ্জে ১৯দল বুঝে না,চিনে শুধু বিএনপিকে।কথাটা মাথায় রাখিয়া কাজ চালাইয়া যান।এই বছরতো আর নির্বাচন হইবে বলিয়া মনে হইতেছে না।তলে তলে বিদেশীরা যে আওয়ামীলীগকে সমর্থন দিয়া আপনাকে নাচাইতেছে তাহা হয়ত আপনি আমার চেয়ে ভালোই বুঝিতে পারিয়াছেন।যদি বুঝিয়াই থাকেন তাহা হইলে অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

আপারে,

দেশে উপজেলা নির্বাচন হইয়া গেল।১ম.২য়,৩য় দফা নির্বাচন সুষ্ঠু হইয়াছে।৪র্থ ও ৫ম দফা নির্বাচন কাড়াকাড়ি,কেন্দ্র দখল কারচুপি হইয়াছে।অনেকে বলিতেছে,এত সুযোগ থাকিলেও যেকোন দল একই কাজ করিত। উপজেলা নির্বাচনে আপনি বুঝিতে পারিয়াছেন দলের অবস্থান কতটুকু আছে।বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারা বলিতেছে-সংসদ নির্বাচন না করিয়া মহা ভুল করিয়াছেন।কারণ নির্বাচনে একই সময়ে গোটা দেশে ভোট কারচুপি করা আওয়ামীলীগের পক্ষে সম্ভব হইত না।কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিএনপি কর্মী সমর্থকেরা স্বক্রীয় থাকিলে কখনো কারচুপি করিয়া শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় আসিবেন তাহা সম্ভব না হওয়ার পাল্লা ভারী বলে এইসব নেতারা বলিতেছে।এইসব নেতারা এমনকি আওয়ামীলীগের নেতারা বলিতেছে শেখ হাসিনা পিওর গণতন্ত্র দোহায় দিবার জন্য দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করিতে চাহিয়াছেন ।কিন্ত খটকা লাগে যখন এইবারের ৪র্থ ও ৫ম দফা উপজেলা নির্বাচনের দিকে তাকাইলে।

আপারে,

শুনিতেছি,দলীয় মহাসচিব পরিবর্তন করিয়া দলকে চাঙ্গা করা যায় এমন লোক খুঁজিতেছেন।বিএনপির অনেক নেতারা বলিতেছেন তারেক রহমানকে দলের মহাসচিব করিলে আপনি ঠিক করিবেন।তখন তারেক দেশে আসিবার সুযোগ সৃষ্টি হইবে।কথাটা ভাবিয়া দেখিবেন।অবশ্য তখন অনেকে মা-ছেলের দল বিএনপি এইকথা বলিবে।তারেক রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করিবার পরও অনেকে অনেক কথা বলিয়াছে।সমালোচকেরা শুধু সমালোচনাই করিবে সেইদিকে কান না দিয়া দলের জন্য যাহা খুবই মঙ্গলজনক তাহা ভাবিবেন।

আপারে,

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নতুনরুপে সাজাইয়াছেন।দুই কমিটিতে সাকা পরিবার অবহেলিত হইয়াছে বলিয়া অনেকে বলিতেছে।এইটা আপনার কৌশল নাকি দুই পরিবারকে আস্তে আস্তে না করিতেছেন?দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে ও গ্রুপিং রহিয়াছে।জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সভা সমাবেশে সাবেক সাংসদ সরোয়ার জামাল নিজাম ও শাহজাহান জুয়েল থাকে না।

আজ আর না। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায়।

ইতি

আপনারই গ্রামবাংলার অখ্যাত

ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্থনা- ম.আ.হ

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password