বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

বাল্য বিয়ে পড়িয়ে হাজত বাসের পরও এখনও থেমে নেই কাজী অলি-উল্লাহ

কে.এম. রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনা

গোটা দক্ষিনাঞ্চলের মিডিয়া জগতে বার বার ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী দুর্নীতিবাজ জালিয়াতি চক্রের হোতা ও বাল্য বিয়ের গডফাদার কাজী অলি-উল্লাহ এখনও থেমে নেই। সরকারের আইনকে ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কোন ভাবে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন অমতলী, তালতলী ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এবং আমতলী পৌরসভা ও কলাপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে একর পর এক বাল্য বিবাহ পড়িয়ে যাচ্ছেন। কাজীর জন্মস্থান পটুয়াখালী জেলায় হলেও বাল্য বিবাহ পড়াচ্ছেন বরগুনা ও পটুয়াখালী উভয় জেলাতেই। আর যার জন্য পটুয়াখালী ও বরগুনার দক্ষিনের উপজেলায় সর্বত্রই বাল্য বিয়ের পড়েছে হিড়িক। নিয়োগ প্রাপ্ত কাজীকে নিজ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে আইনে থাকলেও সু-চতুর কাজী অলি-উল্লাহ তার নিজ জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১ নং চাকামইয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভোটার হওয়া সত্বেও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বরগুনা জেলা রেজিষ্টার ও আইন মন্ত্রনালয়কে বৃদধা আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের ভোটার আইডিকার্ডের ঠিকানা ও পরিচয়পত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মধ্যমে তার নিজ বাড়ীর পার্শবর্তী বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৭নং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে কাজী হিসেবে নিয়োগ করিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিজ উপজেলা কলাপাড়া, শিক্ষকতা করেন তালতলীর একটি মাদ্রাসায়, আবার কাজী হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে। একই ব্যাক্তি এ তিন উপজেলার কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় এবং এই সময় এক নিয়োগে আপন দুই ভাই কাজী অলি-উল্লাহ ও ওবাইদুল্লাহ এবং তারিকাটা মাদ্রাসায় নবম শ্যেনীতে পড়ুয়া কাজীর নাবালক পুত্র সহ তিন জনে আমতলী,কলাপাড়া ও তালতলী উপলোর বিভিন্ন স্থানে দেদারছে বাল্য বিবাহ পড়িয়ে যাওয়ার কারনে কাজী অলি-উল্লাহ এর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজীর এক ঘনিষ্টজন জানিয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়ন কাজীদের দু’টি করে বিবাহ রেজিষ্টার বই রয়েছে তার মধ্যে একটি বৈধ এবং অপরটি সম্পূর্ন অবৈধ রেজিষ্টার শুধু বাল্য বিয়ের জন্যই । তবে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের কাজী অলি-উল্লাহ এর একাধিক বিবাহ রেজিষ্টার বই রয়েছে। এর মধ্যে একাধিক রেজিষ্টার শুধু বাল্য বিয়ের জন্য। এ সকল রেজিষ্টারে বিয়ে হচ্ছে বেশীর ভাগ পঞ্চম থেকে অস্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্রীদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্টার অনুযায়ী এদের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছর হলেও ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম সনদে তাদের বয়স দেখানো হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ বছর। একই সময় একাধিক বিবাহের খবর / মোবাইল আসলে কাজী নিজে , ভাই ওবাই দুল্লাহ ও পুত্র, তিন জনে তিনটি রেজিষ্টার নিয়ে নেমে পড়েন বিবাহ পড়াতে। আমতলী পৌরসভা, কলাপাড়া পৌরসভা সহ আমতলী উপজেলা, তালতলী উপজেলা ও কলা পাড়া উপজেলার সর্বত্র রয়েছে কাজী অলি-উল্লার পদচারনা। যেখানেই বাল্য বিবাহ সেখানেই কাজী অলি-উল্লাহ। বাল্য বিয়ের অনেকটাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই সুপারিশ করছে বলে অভিযোগও রয়েছে। এমনিভাবে নানা কৌশলে হিড়িক পড়ছে অবৈধ বাল্য বিয়ের। এভাবে সরকারের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে বাল্য বিয়ে হওয়াতে একদিকে যেমন স্কুল-মাদরাসা থেকে ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী অন্যদিকে বাল্য বিয়ের বহু কুফল পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্র। অপরিনত বয়সে বিয়ের কারনে সু-স্বাস্থ্য, উচ্চ শিক্ষা ও পরিপূর্ণ সংসার গঠন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক মেয়েরাই। ফলে সরকারের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য ব্যহত হচ্ছে। দিন দিন ভেঙ্গে পড়ছে ওদের স্বাস্থ্য। বিয়ের পর স্বামীসহ শ্বশুরালয়ের লোকজনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পাড়ায় সংসার ভাংছে অনেক মেয়েদেরই। কাজীদের এ অবৈধ রেজিষ্টারটি তারা কোন দিনই আলোর মুখ দেখাননা। বাল্য বিয়ের ব্যাপারে কোন কাজীকে চাপ দিলে তারা এ বিয়ে পড়ানো সম্পূর্ন অস্বীকার করে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের বিবাহ রেজিস্টারের বৈধ বইটি এনে দেখান। প্রশাসনের অবগতি সত্বেও মাত্র একটি ইউনিয়নের নিয়োগ নিয়ে পারর্শবর্তী তিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও আমতলী ও কলাপাড়ায় পৌর সভায় গিয়ে দেদারছে বাল্য বিয়ে পড়াচ্ছেন কাজী অলি-উল্লাহ। কাজহী অলি-উল্লাহর বাল্য বিয়ে পড়ানোর সংবাদ প্রশাসন জানালেও এখন পর্যন্ত কোন সুফল হয়নি । অজ্ঞাত কারনে নীরব রয়েছে উপজেলা প্রশাসন আইন মন্ত্রনালয়সহ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বরগুনা জেলা রেজিষ্টার।

আরো খবর

Leave a Reply